বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ড নাইকি বেছে নিল ম্যানচেস্টার সিটির নরওয়েজিয়ান ফরওয়ার্ড আর্লিং হালান্ডকে। তার বাকি ক্যারিয়ারের জন্য আমেরিকান স্পোর্টসওয়্যার কোম্পানির সঙ্গে চুক্তিতে সই করেছেন। এ সময়টাতে হালান্ডের সব বুট তৈরি করে দেবে নাইকি। সম্প্রতি সূচনা হয় নাইকি-হালান্ড যুগলবন্দির।
১০ বছরেরও বেশি সময়ের এ চুক্তিটা ফুটবল ইতিহাসেই অন্যতম সেরা হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে, যদিও আর্থিক অংকটা দুই পক্ষ গোপনই রাখছে।
ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার রোনালদোর সঙ্গেও চুক্তি ছিল নাইকির। ২০১১ সালে ফুটবল থেকে অবসর নেন দ্য ফেনোমেনন। নাইকির মার্কেটিংয়ে তিনি বড় ধরনের প্রভাব রেখেছেন। এখন তার জায়গায় ‘সেন্টার ফরওয়ার্ড’ হিসেবে নাইকির সঙ্গে যুক্ত হলেন হালান্ড। ম্যানচেস্টার সিটি ফরওয়ার্ডই এখন থেকে ‘৯ নম্বরের নতুন মুখ’ হিসেবে প্রচারণায় যুক্ত থাকবেন।
চুক্তি সইয়ের পর নাইকির টুইট দেখেই উপলব্ধি করা হয়, তারা আসলে কতটা আনন্দিত, ‘#৯ নম্বরের নতুন যুগ। আর্লিং হালান্ড প্রকৃতির শক্তি। আপনারা প্রস্তুত তো?’
নাইকির সঙ্গে আগেও চুক্তি ছিল হালান্ডের, যা শেষ হয় ২০২২ সালের জানুয়ারিতে। এরপর শুরু হয় দরকষাকষি ও আলোচনা। মাঝের এ সময় তিনি অন্য কোম্পানির বুট পরে খেলেছেন। হালান্ডকে নিয়ে এডিডাস ও পুমার সঙ্গে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়ে নাইকি। চুক্তি নিয়ে কয়েক মাস ধরেই হালান্ডের এজেন্ট রাফায়েলা পিমেন্তার সঙ্গে আলোচনা চলছিল নাইকির। যদিও শেষ রেসটা জিতে নিল নাইকি।
হালান্ডকে নিয়ে লড়াই হওয়ারই কথা। তিনি সম্প্রতি সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে ৩০ গোল করেছেন। এছাড়া গড়েছেন অসংখ্য রেকর্ড। তার মতো সম্ভাবনাময় খেলোয়াড়কে পণ্যদূত হিসেবে পেতে মরিয়া হয় শীর্ষ কোম্পানিগুলো। অবশেষে তাকে পেল নাইকি।
যুক্তরাষ্ট্রের ওরেগন ভিত্তিক কোম্পানি নাইকিতে হালান্ড যোগ দেবেন ক্লাব সতীর্থ কেভিন ডি ব্রুইন, পর্তুগিজ সুপারস্টার ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ের (পিএসজি) ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পের সঙ্গে।
অঙ্গীকার দেখেই উপলব্ধি করা যায়, দুই পক্ষেরই একে অপরের প্রতি কতটা আস্থা রয়েছে। নাইকি মনে করে, আগামী দশকে কিলিয়ান এমবাপ্পের পাশাপাশি বিশ্ব ফুটবল শাসন করবেন হালান্ড। এ দুজন লিওনেল মেসি ও ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর সহজাত উত্তরাধিকার হিসেবে জায়গা করে নেবেন বলে ধারণা করা হয়। তাই তাকে লুফে নিতে দ্বিতীয়বার ভাবতে হয়নি নাইকিকে।
অতীতেও নাইকি দেখিয়েছে, খেলাধুলার সুপারস্টারদের সঙ্গে তারা মেগাচুক্তিতে আগ্রহী। অতীতে যেমন বাস্কেটবলের মাইকেল জর্ডান ও টেনিসের রাফায়েল নাদালের সঙ্গে দীর্ঘ চুক্তি ছিল নাইকির। এবার হলো হালান্ডের সঙ্গে।
পুমার কাছ থেকে বছরে ২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড আয় করেছেন নেইমার, এডিডাস মেসিকে বছরে দিয়েছে ১ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ড, আর নাইকি বছরে ১ কোটি ৫০ লাখ পাউন্ড দিয়েছে রোনালদোকে। ধারণা করা হচ্ছে, হালান্ডের চুক্তিটা এর চেয়েও আকর্ষণীয় হবে।
অতীতে ফুটবলের বহু সুপারস্টার ও খ্যাতিমান দলের সঙ্গে চুক্তি করেছে নাইকি। ব্রাজিলের রোনালদো ও রোনালদিনহো, ফ্রান্সের এমবাপ্পে আর পর্তুগালের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো পেয়েছেন নাইকির পৃষ্ঠপোষকতা। তবে শুধু সুপারস্টারই নয়, বিশ্বের অনেক নামি ক্লাব ও জাতীয় দলকেও পৃষ্ঠপোষকতা দিয়েছে নাইকি এবং তারা স্পোর্টসওয়্যার সরবরাহ করেছে।
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, ফরাসি লিগ ওয়ান, জার্মান বুন্দেসলিগা ও ইতালির সিরি-এ কিংবা বিশ্বে অন্য সব লিগে চোখ দিলেই দেখা যাবে, শীর্ষ খেলোয়াড়রা নাইকির সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন এবং তাদের পায়ে শোভা যায় নাইকির বিখ্যাত সব ব্র্যান্ডের বুট। নাইকির বুট পরে খেলেন চেলসি, ম্যানইউ, পিএসজি, রিয়াল মাদ্রিদ, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল ও বার্সেলোনার উল্লেখযোগ্যসংখ্যক খেলোয়াড়।
পিএসজির এমবাপ্পে, আল নাসরের ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, বার্সেলোনার ওসমান দেম্বেলে, এসি মিলানের ইব্রাহিমোভিচ, টটেনহামের রিচার্লিসন, রিয়াল মাদ্রিদের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র, লিভারপুলের অ্যালিসন, ম্যানইউর মার্কাস র্যাশফোর্ড, টটেনহামের হ্যারি কেন, লিভারপুলের ফার্জিল ফন ডাইক, ইন্টার মিলানের রোমেলু লুকাকু, রিয়ালের এডেন হ্যাজার্ড, রিয়ালের থিবো কোর্তোয়া, ম্যানইউর ব্রুনো ফার্নান্দেজ, বার্সেলোনার রবার্ট লেভানডোভস্কি, রিয়ালের লুকা মডরিচ ও ম্যানসিটির রিয়াদ মাহরেজ নাইকির বুট পরে খেলেন।
বহু সাবেক তারকা ফুটবলার নাইকির সঙ্গে জুটি বেঁধেছিলেন। তাদের দেখা যেত নাইকির সব আলোচিত বিজ্ঞাপনচিত্রেও। আর্জেন্টিনার সার্জিও আগুয়েরো, হারনান ক্রেসপো, দিয়েগো সিমিওনে; ব্রাজিলের রবার্তো কার্লোস, রোনালদো, রোনালদিনহো, রোমারিও; ক্যামেরুনের জেরেমি; আইভরি কোস্টের দিদিয়ের দ্রগবা; ক্রোয়েশিয়ার টমাস রসিস; ডেনমার্কের পিটার স্মাইকেল; ইংল্যান্ডের জেমি ক্যারাগার, অ্যাশলে কোল, রবি ফাউলার, ওয়েন রুনি, পল স্কোলস, জন টেরি, ইয়ান রাইট; ফ্রান্সের ফ্যাবিয়েন বার্থেজ, এরিক কাতোঁয়া, ইউরি জুরকাফ, ডেভিড জিনোলা, থিয়েরি অঁরি, ক্লদ ম্যাকেলেলে, এমানুয়েল পেটিট, লিলিয়ান থুরাম, প্যাট্রিক ভিয়েরা; জার্মানির অলিভিয়ার বিফেরহফ, মিরোস্লাভ ক্লোসা, ম্যাথিয়াস স্যামার; ইতালির ফ্যাবিও ক্যানাভারো, জেনারো গাত্তুসো, পাওলো মালদিনি, ফিলিপ্পো ইনজাগি, আন্দ্রে পিরলো, টট্টি, ক্রিস্টিয়ান ভিয়েরি; জাপানের হিদেতোশি নাকাতা, নেদারল্যান্ডসের এডগার ডেভিডস, রুদ ফন নিস্টলরুই, রবিন ফন পার্সি, ওয়েসলে স্নেইডার; স্পেনের সেস ফ্যাব্রেগাস, আন্দ্রেস ইনিয়েস্তা, চার্লস পুয়োল উল্লেখযোগ্য নাম।
ক্লাব হিসেবে নাইকির পৃষ্ঠপোষকতা পেয়েছে ইতালির ইন্টার মিলান, ফ্রান্সের পিএসজি, স্পেনের অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা; জার্মানির আরবি লিপজিগ; তুরস্কের গ্যালাতাসারে; ইংল্যান্ডের চেলসি, লিভারপুল ও টটেনহাম এবং ব্রাজিলের করিন্থিয়ানস।
যেসব জাতীয় দলে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে আমেরিকান কোম্পানিটি তারা হলো নাইজেরিয়া, ইংল্যান্ড, ফ্রান্স, নেদারল্যান্ডস, পর্তুগাল, যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, ব্রাজিল, কাতার ও ক্রোয়েশিয়া।
তবে বুট ও কিট সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত হলেও নাইকির কর্মকাণ্ড আরো বিস্তৃত। ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের নিয়মিত বল সরবরাহ করে, এমনকি ম্যাচ অফিশিয়ালদের জার্সিও সরবরাহ করে থাকে নাইকি। এছাড়া সিরি-এ, এ-লিগ ও ফ্রেঞ্চ কাপেও বল সরবরাহ করে নাইকি। গার্ডিয়ান ও গোল ডটকম।










