ফুটবলে আফ্রিকা মহাদেশের শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারণের আসর ‘দি আফ্রিকা কাপ অব নেশন্স’ শুরু আজ। মরক্কোর নয়টি স্টেডিয়ামে চার সপ্তাহের এ আসরের ফাইনাল ১৮ জানুয়ারি।

গত বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল খেলে তাক লাগিয়ে দেয়া মরক্কো এবার ঘরের মাঠে মহাদেশীয় আসরে বড় চ্যালেঞ্জের মুখে পড়বে। তারা সত্যিকার অর্থেই ফুটবলে বৈশ্বিক পরাশক্তি হয়ে উঠতে পারবে কিনা, তার একটা পরীক্ষা এবার হয়ে যাবে। সেই সঙ্গে ২০৩০ বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজকও তারা। তার একটা মহড়াও এখন হয়ে যাবে। এরই মধ্যে বিশ্বকাপ আয়োজনের জোরালো প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে উত্তর আফ্রিকার দেশটি।

আফ্রিকা মহাদেশের ২৪টি দল এ আসরে অংশ নেবে, যারা মরক্কোর ছয়টি শহরের নয়টি নতুন কিংবা সংস্কার করা স্টেডিয়ামে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। ২০২২ সালে কাতার বিশ্বকাপে সেমিফাইনাল খেলা মরক্কো এবার ঘরের মাঠে শিরোপা জয়ের আশা নিয়ে নামবে। তারা একমাত্র শিরোপা জিতেছিল ১৯৭৬ সালে। সেবার খেলা হয়েছিল ইথিওপিয়ায়। এবার ঘরের মাঠে কি দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা উৎসব করতে পারবেন আশরাফ হাকিমিরা?

বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্ট গতবার শিরোপার ফেভারিট না হয়েও শেষ পর্যন্ত চ্যাম্পিয়ন হয়। ফাইনালে তারা হারিয়ে দেয় নাইজেরিয়াকে। গতবার কাছাকাছি গিয়েও শিরোপা জিততে না পারা ‘সুপার ঈগল’ নাইজেরিয়া এবার আর ব্যর্থ হতে চাইবে না।

২০২১ সালে নিজেদের ইতিহাসে প্রথম শিরোপা জয় করা সাদিও মানের সেনেগাল আরেকবার নামছে মহাদেশীয় মুকুট জয়ের আশা নিয়ে। আর লিভারপুলে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ মোহামেদ সালাহর পারফরম্যান্সে কোনো নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে না, এটাই আশা করবে ‘ফারাও’খ্যাত মিসর। তারা আফ্রিকার রেকর্ড সাতবারের চ্যাম্পিয়ন। অষ্টম শিরোপার সন্ধানে নামছে দলটি।

আসরটি প্রথমে আয়োজন করার কথা ছিল গিনির। যদিও আফ্রিকা মহাদেশের ফুটবল কনফেডারেশন (সিএএফ) দেখল যে এত বড় একটি আসর আয়োজন করার মতো যথেষ্ট অবকাঠামো নেই গিনির। ফলে ২০২২ সালে তাদের আয়োজকস্বত্ব নিয়ে নেয় সংস্থাটি। তখন ডাক পড়ে মরক্কোর, যাদের ২০১৫ সালের আসর বাতিল করা হয়েছিল। মজার বিষয় হলো, ২০১৩ থেকে শুরু করে প্রতিটি আয়োজক দেশ বদলানোর প্রয়োজন পড়েছে।

আসরটি গ্রীষ্মে আয়োজনের কথা ছিল। যদিও ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপের সঙ্গে যাতে সাংঘর্ষিক না হয় সেটি নিশ্চিত করতে আসরটি স্থগিত করা হয় এবং ডিসেম্বরে সরিয়ে নেয়া হয়। ২০১৯ সাল থেকে নেশন্স কাপ গ্রীষ্মে সরিয়ে নেয় সিএএফ। ২০২১ সালের আসরটি কভিড-১৯ মহামারীর কারণে পিছিয়ে নেয়া হয় এক বছর। ২০২২ সালের জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে আয়োজন করা হয় ক্যামেরুনের গরমের কথা বিবেচনা করে।

মিসর সর্বোচ্চ সাতবার আফ্রিকাসেরার মুকুট জিতেছে। এছাড়া ক্যামেরুন পাঁচবার, ঘানা চারবার, আইভরি কোস্ট ও নাইজেরিয়া তিনবার করে, আলজেরিয়া ও ডিআর কঙ্গো দুবার করে এবং সেনেগাল, তিউনিসিয়া, জাম্বিয়া, মরক্কো, ইথিওপিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুদান ও কঙ্গো একবার করে শিরোপা জিতেছে।

অংশগ্রহণকারী দেশ ও গ্রুপিং

‘এ’ গ্রুপে পড়েছে মরক্কো, মালি, জাম্বিয়া ও কমোরোস। ১৯৭৬ সালের পর দ্বিতীয়বারের মতো শিরোপা জয়ের চাপে থাকবে মরক্কো। নবনির্মিত ৬৯ হাজার ৫০০ দর্শক ধারণক্ষম মৌলা আব্দেল্লাহ স্টেডিয়ামে প্রথম ম্যাচে নবাগত কমোরোসের মুখোমুখি হবে তারা।

‘বি’ গ্রুপে লড়বে মিসর, দক্ষিণ আফ্রিকা, অ্যাঙ্গোলা ও জিম্বাবুয়ে। গতবার শেষ ষোলো থেকে মরক্কোকে বিদায় করে দিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। ‘সি’ গ্রুপে নাইজেরিয়া, তিউনিসিয়া, উগান্ডা ও তানজানিয়া, ‘ডি’ গ্রুপে সেনেগাল, ডিআর কঙ্গো, বেনিন ও বতসোয়ানা, ‘ই’ গ্রুপে আলজেরিয়া, বুরকিনা ফাসো, ইকুয়াটোরিয়াল গিনি ও সুদান এবং ‘এফ’ গ্রুপে আইভরি কোস্ট, ক্যামেরুন, গ্যাবন ও মোজাম্বিক লড়বে। পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ক্যামেরুন ও তিনবারের চ্যাম্পিয়ন আইভরি কোস্টের লড়াই হবে রোমাঞ্চকর। এছাড়া আর্সেনালের সাবেক ফরওয়ার্ড পিয়েরে-এমেরিক অবামেয়াং থাকায় গ্যাবনও শক্তিশালী। তাই ‘এফ’কে বলা যেতে পারে ‘গ্রুপ অব ডেথ’।

৬টি গ্রুপের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ দল সরাসরি শেষ ষোলোয় উঠবে। এরপর তৃতীয় হওয়া দলগুলোর মধ্যে সেরা চারটি পাবে শেষ ষোলোর টিকিট।