ফুটবলে এমন কিছু ঘটনা রয়েছে যা শুধু পেলের ক্ষেত্রেই সম্ভব; এমনটা মানেন অনেকেই। যেমন তিনটি বিশ্বকাপ জেতার রেকর্ড ভাঙা হয়তো সাম্প্রতিককালে দেখা যাবে না। এক নজরে আরো কিছু কীর্তির খবর দেখে নেয়া যাক।

মাত্র ষোলো বছর জাতীয় দলে অভিষেক হয় পেলের। ১৯৫৮, ১৯৬২ ও ১৯৭০ সালে ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে চ্যাম্পিয়ন শিরোপা স্পর্শ করেছেন তিনি। টিনএজার হিসেবে জোড়া গোলের রেকর্ড গড়েন ১৯৫৮ সালে।

মূলত তিনটি বিশ্বকাপ জয় করার জন্য পেলে বিখ্যাত হন। তিনিই একমাত্র খেলোয়াড়, যিনি এতবার বিশ্বকাপ জয় করেছেন। এছাড়া ক্লাব ও দেশের হয়ে ১ হাজার ৩৬৩টি ম্যাচ খেলে মোট ১ হাজার ২৮১টি গোল করেছেন, যা বিশ্ব রেকর্ড।

পেলে নিজ শহর সান্তোসের ক্লাবের হয়ে জেতেন ৬টি ক্যামপিওনাতো ব্রাসিলিরো, ১০টি ক্যামপিওনাতো পলিস্তা, দুটি কোপা লিবারতাদোরস, দুটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল কাপ ও একটি ইন্টারকন্টিনেন্টাল সুপারকাপ। একবার করে জিতেছেন এনএএসএল সকার বল ও নিউইয়র্ক কসমস। অংশ নিয়েছে অসংখ্য প্রীতি ম্যাচে।

ব্রাজিলের হয়ে ৯২টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে অংশগ্রহণ করে ৭৭টি গোল করেন। ক্লাবের হয়ে করেছেন ৬১৮ গোল। বিশ্বকাপে তার গোল সংখ্যা বারো। ১৯৫৮ সালের সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিক ও ফাইনালে জোড়া গোল এসেছে তার পা থেকে। ফিফা তাকে ঘোষণা করে সেরা তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে। তবে সে সময়ে ব্যালন ডি'অর প্রচলিত ছিল না। ১৯৫৮ ও ১৯৭০ সালে ফিফা তাকে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত করে। পেলেকে জাতীয় সম্পদ ঘোষণা করে পেলেকে, যা তাকে বিদেশী ক্লাবে খেলতে বাধা দেয়।  

পেলের জন্ম ১৯৪০ সালের ২৩ অক্টোবর। ৮২ বছর বয়সী কিংবদন্তি কয়েক বছর ধরে কোলন ক্যান্সারে ভুগছিলেন। গত মাস থেকে ভর্তি ছিলেন সাও পাওলোর আলবার্ট আইনস্টাইন হাসপাতালে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৯ ডিসেম্বর) সেখানেই শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।