গতকাল দুপুরে মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় স্টেডিয়ামের কনফারেন্স রুমে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ নিয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে টুর্নামেন্ট নিয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সভাপতি তামিম ইকবাল। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, ইসরাফিল খসরু, রফিকুল ইসলাম বাবু ও ফাহিম সিনহা। এরপর ঢাকা লিগের লোগো উন্মোচন করেন অতিথিরা। এরপর ১২ দলের প্রতিনিধিদের নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে টুর্নামেন্টের ট্রফি উন্মোচন করা হয়।

প্রিমিয়ার লিগ ঘিরে বিসিবি নানা পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে। দলগুলো এতদিন দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করত নিজেরাই। সেখানে বেশির ভাগ সময়ই থাকত ভাত, আলু ভর্তা আর গরুর মাংসের মতো খাবার। তামিম ইকবাল জানালেন, এখন থেকে দলগুলোর খাবারের ব্যবস্থা করবে বিসিবি, সেখানে থাকবে ক্রিকেটারদের ফিটনেসের ক্ষতি করবে না, এমন খাবার।

খাদ্যতালিকার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বললেন, ‘আমি এটা জানি, হঠাৎ করে ওই ভাতের অভ্যাস থেকে গ্রিল চিকেনে নিয়ে আসা হয়তো সহজ হবে না। আমি চাইব সবার জন্য যেন মানসম্মত খাবার নিশ্চিত করা যায়। আমরাই এবার খাবারের দায়িত্ব নিয়েছি। আশা করি, তারা ভালো ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার পাবে, যা তাদের ফিটনেসের ক্ষতি করবে না।’

এবার প্রিমিয়ার লিগের খেলা চলার সময় মাঠে আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখছে বিসিবি। সর্বশেষ প্রিমিয়ার লিগ আসরে তামিম খেলেছেন মোহামেডানের হয়ে। বিকেএসপিতে খেলতে নেমে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। গুরুতর হার্ট অ্যাটাকের শিকার হলে তাকে সিপিআর দিয়ে স্থানীয় হাসপাতালে নেয়া হয়। সেখানে তাকে দ্রুত এনজিওগ্রাম করে হার্টে রিং পরানো হয়। এবার তাই আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা রাখছে বিসিবি।

নিজের জীবনে ঘটে যাওয়া ভয়াবহ ঘটনার স্মৃতিচারণ করে তিনি জানান, প্রিমিয়ার লিগের ছয়টি ভেন্যুতে চার থেকে পাঁচটি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে। তামিম বলেন, ‘আমার কাছে মনে হয়, এটা বিসিবির দায়িত্ব, সবার নিরাপদ থাকা নিশ্চিত করা। আমরা যতটুকু করতে পারি, অতটুকু ব্যবস্থা করে রাখি। আমাদের প্রতিটা মাঠেই কমবেশি অ্যাম্বুলেন্স থাকবে।’

এছাড়া এবারের প্রিমিয়ার লিগ থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুর্নীতিবিরোধী নিয়মকানুনও ডিপিএলে অনুসরণ করা হবে বলে জানান অ্যাডহক কমিটির প্রধান তামিম ইকবাল।

এবারের লিগ চলাকালে ফোন ব্যবহার করা যাবে না বলে জানিয়েছেন তামিম ইকবাল। তিনি বলেন, ‘ঢাকা লিগে এবার কেউ ড্রেসিংরুমে ফোন ব্যবহার করতে পারবে না। মাঠে ঢুকেই ফোন জমা দিতে হবে।’

গত বছর ডিপিএল হয়নি। তামিম ইকবালের মোহামেডান থেকে শুরু করে শীর্ষ বেশকিছু ক্লাব এ লিগ বয়কট করে। এবার সবার অংশগ্রহণে হবে দেশের ঘরোয়া ক্রিকেটের সবচেয়ে পুরনো এ লিগ। প্রতিযোগী ক্লাবগুলোর প্রতি ধন্যবাদ জানিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘প্রথম বা দ্বিতীয় দিনেই আমরা প্রত্যেকটা ক্লাবকে ডাকি, তাদের সঙ্গে আলোচনা করা শুরু করি এবং তাদের আত্মবিশ্বাসী করে তুলি যে আগে যা হয়েছে ওই জিনিসগুলো পুনরায় হবে না। সব ঠিকঠাকভাবে হবে। তাদের প্রত্যেকটা টিমকেও আমি ধন্যবাদ জানাতে চাই।’

অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব নেয়ার পর থেকেই লিগ সচল করার লক্ষ্যে নামেন তামিম ইকবাল। এ নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা যখন এটার (বিসিবি) দায়িত্ব পেয়েছি, আমি আর আমার বোর্ডের প্রত্যেকটা মেম্বার, আমাদের জন্য প্রথম চ্যালেঞ্জটা ছিল যে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ বা অন্য যে লিগগুলো আছে এগুলোকে মাঠে কীভাবে ফেরত নিয়ে আসতে পারি— এটা নিয়ে কাজ করা।’

এ লিগের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি ‘বাংলাদেশের প্রত্যেকটা ক্রিকেট প্লেয়ারের জন্য এটা আমাদের ক্রিকেটিং ইকো-সিস্টেমের খুব গুরুত্বপূর্ণ টুর্নামেন্টগুলোর একটি। এটা আয়োজন করা চ্যালেঞ্জিং ছিল, কেননা কয়েক মাস ধরে ক্রিকেট একদম থেমে ছিল।’

এবারের ডিপিএলে রেলিগেশন পর্ব না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিসিবি। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বোর্ড এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। এর আগে একক লিগ পদ্ধতিতে টুর্নামেন্ট আয়োজনের কথা জানানো হলেও সেখানে রেলিগেশন লিগ রাখার প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে নতুন সিদ্ধান্তে সেই রেলিগেশন লিগও বাতিল করা হয়েছে, যা টুর্নামেন্টের প্রথাগত কাঠামোতে একটি বড় পরিবর্তন।

বিসিবির নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা শেষ দুটি দল সরাসরি ঢাকা প্রথম বিভাগ ক্রিকেট লিগে নেমে যাবে। রেলিগেশন লিগের জন্য আলাদা কোনো ম্যাচের প্রয়োজন হবে না, বরং মূল লিগের পয়েন্ট তালিকার ভিত্তিতেই অবনমন নির্ধারিত হবে। অন্যদিকে লিগ পর্বের খেলা শেষে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থানকারী দলটিকেই সরাসরি চ্যাম্পিয়ন হিসেবে ঘোষণা করা হবে। অর্থাৎ এবারের আসরে কোনো সুপার লিগ বা রেলিগেশন লিগ ছাড়াই একক রাউন্ড রবিন পদ্ধতিতে শ্রেষ্ঠত্ব নির্ধারিত হবে।

ঢাকার শীর্ষস্থানীয় ১২টি ক্লাবের অংশগ্রহণে ৪ মে শুরু হবে এ মর্যাদাপূর্ণ লিস্ট ‘এ’ টুর্নামেন্ট। ১১ জুন পর্যন্ত চলা এ আসরে সর্বমোট ৬৬টি ম্যাচ হবে। সব ম্যাচই লিগ পর্বে অনুষ্ঠিত হবে বিধায় প্রতিটি দলের জন্য প্রতিটি ম্যাচই পয়েন্ট অর্জনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু পয়েন্ট টেবিল সংশোধনের জন্য সুপার লিগের বাড়তি সুযোগ নেই, তাই নিয়মিত ধারাবাহিকতা বজায় রাখা দলগুলোর জন্যই চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথ প্রশস্ত হবে।

ডিপিএলের জন্য ছয়টি ভেন্যু নির্ধারণ করা হয়েছে। এগুলো হলো সাভারের বিকেএসপি ৩ ও ৪ নম্বর মাঠ, ক্রিকেটার্স একাডেমি মাঠ, বসুন্ধরা স্পোর্টস সিটি মাঠ, পূর্বগাঁও ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের (পিকেএসপি) ২ নম্বর মাঠ এবং ইউল্যাব বিশ্ববিদ্যালয় মাঠ। ভেন্যুগুলোতে প্রয়োজনীয় কারিগরি প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে যাতে সূচি অনুযায়ী নির্বিঘ্নে খেলাগুলো পরিচালনা করা যায়।

ভেন্যু নিয়ে তামিম ইকবাল বলেন, ‘বিকেএসপিতে যাতায়াতের বিষয়টি মাথায় রেখে ঢাকায় মাঠ বাড়ানো হয়েছে। এতে খেলোয়াড়, কর্মকর্তা ও এর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার যাতায়াতের কষ্টটা কমে আসবে। এছাড়া বেসরকারি ভেন্যুগুলোতে খেলা হলে তারাও সুযোগ-সুবিধা বাড়াতে উদ্যোগী হবে, কেননা এটা তো লিস্ট-এ টুর্নামেন্ট।’