জ্যামাইকা টেস্টেও বাংলাদেশের দুর্দশা কাটছে না। স্যাবাইনা পার্কেও তারা পড়েছে ব্যাটিং বিপর্যয়ে। গতকাল টেস্টের দ্বিতীয় দিন ৬ উইকেটে ১২২ রান নিয়ে লাঞ্চের বিরতিতে যায় বাংলাদেশ। ২৮ ওভারের প্রথম সেশনে পুরোপুরি কর্তৃত্ব করে ক্যারিবীয়রা। এ সময় বাংলাদেশ ৪ উইকেট হারিয়ে মাত্র ৫৩ রান বোর্ডে যোগ করতে সমর্থ হয়। মেহেদী হাসান মিরাজ ১৮ ও তাইজুল ইসলাম ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন। লাঞ্চের পর ১৩.৫ ওভারে বাকি ৪ উইকেট হারিয়ে ১৬৪ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ।
মিরাজ ৩৬ ও তাইজুল ১৬ রান করেন। ওয়েস্ট ইন্ডিজের জেইডেন সিলস ৫ রানে ৪টি, শামার জোসেফ ৪৯ রানে ৩টি ও কেমার রোচ ৪৫ রানে ২টি উইকেট নেন।
জবাবে এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত স্বাগতিক দল ৯ ওভারে বিনা উইকেটে ১১ রান তোলে।
শনিবার রাতে কেমার রোচের জোড়া আঘাতে ১০ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। গতকাল আঘাত হানেন দুই পেসার শামার জোসেফ ও জেইডেন সিলস। লাঞ্চের আগে এ দুজন চারবার উইকেট উৎসব করেন। শামার জোসেফের শিকার হন শাহাদাত হোসেন দিপু (২২), জাকের আলী (১) ও সাদমান ইসলাম (৬৪)। সিলসের বলে ফার্স্ট স্লিপে কাভেম হজকে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন লিটন দাস (১০)।
এর আগে শনিবার ভেজা আউটফিল্ডের কারণে প্রায় ৫ ঘণ্টা বিলম্বে (স্থানীয় সময় বেলা ২টা) শুরু হয় জ্যামাইকা টেস্টের খেলা। রৌদ্রোজ্জ্বল দিনে টস জিতে আগে ব্যাটিং নেন মিরাজ এবং চিরাচরিতভাবে বিপর্যয় শুরু। পেসম্যান কেমার রোচের আঘাতে ১০ রানের মধ্যেই নেই ২ উইকেট! এর পরও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বাজে ফিল্ডিং আর ৩ ক্যাচ মিসের সুবিধা আদায় করে ২ উইকেটে ৬৯ রান তুলে নিয়ে প্রথম দিন মাঠ ছাড়ে সফরকারীরা। সাদমান ইসলাম ৫০ ও শাহাদাত হোসেন দিপু ১২ রানে অপরাজিত থেকে মাঠ ছাড়েন। গতকাল আর ১৪ রান করে দুজন বিচ্ছিন্ন হন।
কেমার রোচ মানেই বাংলাদেশের ব্যাটারদের জন্য এক দুঃস্বপ্নের নাম। ইনিংসে তার সেরা ১০ বোলিংয়ের মধ্যে চারটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে! অ্যান্টিগা টেস্টে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৪ উইকেট পেলেও বাংলাদেশের বিপক্ষে ইনিংসে ৫ উইকেট আছে তার ৪ বার। ডানহাতি এ ফাস্ট বোলার এবার জ্যামাইকা টেস্টেও শুরুতে টালমাটাল করে দেন বাংলাদেশকে। ৭ ওভারের মধ্যে তুলে নেন দু-দুটি উইকেট।
দলীয় ৮ রানে উইকেট বিলিয়ে দেন মাহমুদুল হাসান জয় (১২ বলে ৩)। রোচের বলে জসুয়া সিলভার হাতে ক্যাচ দেন ডানহাতি ব্যাটার। নিজের পরের ওভারে নতুন ব্যাটার মুমিনুল হককেও (৬ বলে ০) সাজঘরের পথ দেখান রোচ। জয়ের মতো একই কায়দায় আউট হন এ সাবেক অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে এ নিয়ে চতুর্থবার ‘ডাক’ মারলেন মুমিনুল। তাকে ফিরিয়ে বাংলাদেশের বিপক্ষে উইকেটের ফিফটি পূর্ণ করেন রোচ। ১৩ ম্যাচে ৫০ টাইগারকে শিকার করেছেন তিনি।
গতকাল মাঠে নামার আগ পর্যন্ত ৮৪ টেস্টে ২৭৯ উইকেট শিকার করেছেন রোচ। এর মধ্যে ১৯৩ উইকেট নিয়েছেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে। আর সর্বোচ্চ ৬১ উইকেট নিয়েছেন ইংল্যান্ডের বিপক্ষে।
এদিন দুবার জীবন পান সাদমান। ব্যক্তিগত ১৫ রানের মাথায় পেসার আলজারি জোসেফের বলে প্রথম স্লিপে তার একটি ক্যাচ ফেলে দেন অলিক আথানাজ। ৩৫ রানের মাথায় পেসার জাস্টিন গ্রিভসের বলে শর্ট কাভারে আবারো সাদমানের ক্যাচ ফেলে দেন ওয়েস্ট ইন্ডিজের অধিনায়ক ক্রেগ ব্র্যাথওয়েট। সেই সাদমান গতকাল আশা জাগিয়েও ৬৪ রান করে আউট হয়েছেন। এছাড়া স্লিপে দিপুর ক্যাচ ফেলেছেন আথানাজ ও কাভেম হজ। দিপু তখন ৮ রানে ব্যাট করছিলেন। জীবন পেয়ে অবশ্য ইনিংসটা বড় করতে পারেননি তরুণ এ ব্যাটার। তিনি এরপর ১৪ রান যোগ করে সাজঘরের পথ ধরেন।










