যুব ক্রিকেটে ২০২০ সালে বিশ্ব জয় করা বাংলাদেশ ২০২৩ সালে এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে। যুব ক্রিকেটে আরেকবার উড়ল বাংলাদেশের বিজয় নিশান। গতকাল দুবাই ইন্টারন্যাশনাল স্টেডিয়ামে একাদশ অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতকে ৫৯ রানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হলো লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। ১৯৯ রানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ১৩৯ রানে গুটিয়ে যায় রেকর্ড আটবারের চ্যাম্পিয়ন ভারত।
যুব এশিয়া কাপে এ নিয়ে ১১ আসরের মধ্যে ভারত সর্বোচ্চ আটবার ও বাংলাদেশ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দুবার শিরোপা জিতেছে। এছাড়া পাকিস্তান ও শ্রীলংকা একবার করে শিরোপার স্বাদ পায়। পাকিস্তানের শিরোপাটি ভারতের সঙ্গে যুগ্মভাবে জয় করা।
গতকাল ফাইনালে টস হেরে আগে ব্যাটিং করতে নেমে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। ৬৬ রানের মধ্যে কালাম সিদ্দিক, জাওয়াদ আবরার ও অধিনায়ক আজিজুল হাকিমের বিদায় ঘটলে বাংলাদেশের শিরোপাস্বপ্ন পড়ে যায় চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে। এরপর মোহাম্মদ শিহাব জেমস (৬৭ বলে ৪০), রিজান হোসেন (৬৫ বলে ৪৭) ও ফরিদ হাসানের (৪৯ বলে ৩৯) ব্যাটে ভর করে ৪৯.১ ওভার টিকে থেকে সব উইকেট হারিয়ে ১৯৮ রান তুলতে সমর্থ হয় বাংলাদেশ।
প্রাথমিক বিপর্যয় সামাল দেয়ার পর ৩ উইকেটে ১২৮ রান তুলে ভালো সংগ্রহের পথেই ছিল বাংলাদেশ। যদিও হঠাৎই স্কোরটা ৩২ ওভার শেষে রূপ নেয় ১৬৭/৮-এ! এরপর আর দুইশর গণ্ডি পেরোতে পারেনি আজিজুলের দল। ভারতের যুদ্ধজিৎ গুহ, চেতন শর্মা ও হার্দিক রাজ দুটি করে উইকেট নেন।
মাঝারি মানের টার্গেট তাড়া করতে নেমে ভারতও সুবিধা করতে পারেনি। ২৪ রানে ২ উইকেট হারানো ভারত বোর্ডে একশ রান ওঠার আগেই হারায় আরো ৫ উইকেট (৯২/৭)! অধিনায়ক মোহাম্মাদ আমান টেল-এন্ড নিয়ে লড়ে যাচ্ছিলেন। আমানকে বোল্ড করে ভারতের সব আশা শেষ করে দেন আজিজুল। এরপর বাকি দুই ব্যাটারকেও সাজঘরে ফিরিয়ে বাংলাদেশকে আনন্দে ভাসান অধিনায়ক।

ফাইনাল ও টুর্নামেন্টসেরা ইকবাল হোসেন ইমন ছবি: এসিসি
মাত্র ১৯৮ রানের পুঁজি নিয়েও আত্মবিশ্বাসী ছিল বাংলাদেশ। জয় শেষে পুরস্কার বিতরণ মঞ্চে দলনায়ক আজিজুল জানান, তার আত্মবিশ্বাস ছিল বাংলাদেশ জিতবে। বোলারদের ওপর বিশ্বাস ছিল তার। তিনি বলেছেন, ‘খুব ভালো লাগছে। আল্লাহকে ধন্যবাদ। আমরা সবাই খুব খুশি। অল্প রানে আটকে গেলেও আত্মবিশ্বাসী ছিলাম। আমি জানতাম, আমার বোলাররা কী করতে পারে।’
শুধু অন্যদের ওপর বিশ্বাস রেখে বসে থাকেননি আজিজুল, নিজেই এ কাজে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি দলের অন্যতম সেরা ব্যাটার। প্রতি ম্যাচেই রান পেয়েছেন। অথচ ফাইনালে হাসেনি তার ব্যাট। করেছেন ২৮ বলে ১৬ রান। এ ব্যর্থতা পরে বল হাতে পুষিয়ে দিয়েছেন তিনি। ২.২ ওভার বল করে ৮ রান দিয়ে নিয়েছেন ৩ উইকেট। বোলিং পরিকল্পনা নিয়ে আজিজুল বলেন, ‘ভারতের ব্যাটসম্যানরা অফসাইডে একটু ধুঁকছিল। বিশেষ করে চতুর্থ বা পঞ্চম স্টাম্প বরাবর বলে। পরিকল্পনা ছিল অফসাইডে বোলিং করে তাদের ঝামেলায় ফেলা।’
বাংলাদেশের সমর্থকদের ধন্যবাদ জানিয়েছেন আজিজুল। বিশেষ করে দুবাইয়ে মাঠে গিয়ে যারা দলকে সমর্থন করেছেন, তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি। বাংলাদেশ যুবদলের অধিনায়ক বলেছেন, ‘আমাদের সব সমর্থক ও বাংলাদেশের সব মানুষকে ধন্যবাদ।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর—
বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-১৯: ৪৯.১ ওভারে ১৯৮/১০ (রিজান ৪৭, শিহাব ৪০, ফরিদ ৩৯; যুদ্ধজিৎ গুহ ২/২৯)। ভারত অনূর্ধ্ব-১৯: ৩৫.২ ওভারে ১৩৯/১০ (আমান ২৬, হার্দিক রাজ ২৪; আজিজুল ৩/৮, ইকবাল ৩/২৪, আল ফাহাদ ২/৩৪)। ফল: বাংলাদেশ ৫৯ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও প্লেয়ার অব দ্য টুর্নামেন্ট: ইকবাল হোসেন ইমন (বাংলাদেশ)।










