ঢাকার এক পাঁচ তারকা হোটেলে
আজ রোববার বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বার্ষিক সাধারণ সভা (এজিএম) অনুষ্ঠিত
হয়েছে। এই এজিএমে ২০২১-২২ ও ২০২২-২৩ অর্থবছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব অনুমোদন পায় বলে জানান
বিসিবি সভাপতি এবং যুব ও ক্রীড়ামন্ত্রী নাজমুল হাসান পাপন। সভাশেষে প্রেস ব্রিফিংয়ে
তিনি জানান, বিসিবির আয় না বাড়লেও ব্যয় অনেক বেড়ে যাওয়ায় তারা চিন্তিত।
এজিএম শেষে সাংবাদিকদের
পাপন বলেন, ‘সব সময় আইসিসির দেয়া অডিটর দিয়ে আমরা অডিট করাই। এবার আসছে গ্র্যান্ড থনটন
ইন্টারন্যাশনাল। এরাও বিশ্বের শীর্ষ পাঁচের একটি। এটাও অনুমোদন হয়ে গেছে। এছাড়া বোর্ডের
চলতি আর্থিক সালের (১ জুলাই ২০২৩ থেকে ৩০ জুন ২০২৪) বাজেট অনুমোদিত হয়। সম্ভাব্য আয়
হচ্ছে ৪৪৬ কোটি টাকা এবং সম্ভাব্য ব্যয় হচ্ছে ৪০৭ কোটি টাকা। বিপিএলসহ। মোট উদ্ধৃত্ত
৩৯ কোটি টাকা। এই বাজেট বোর্ডের ওয়েবসাইটে আপলোড করা হয়েছে।’
বিসিবির নয়শ কোটি টাকারও
বেশি এফডিআর করা আছে। এরপরও বর্তমান বর্ধিত ব্যয় নিয়ে চিন্তিত বিসিবি। এ নিয়ে পাপন
বলেন, ‘আয় একই রকম আছে, কিন্তু ব্যয় কী হারে বেড়ে গেছে দেখতেই পাচ্ছেন। মূল্যস্ফীতির
কারণে ব্যয় অনেক বেড়ে গেছে। আমাদের যে সেভিংসটা হতো, সামনে সেটা হবে কিনা, আমরা সেটা
নিয়েই চিন্তায় আছি।’
আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা
গঠন ও এর কাঠামো নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে বিসিবি সভাপতি বলেন, ‘না, এটা কেন্দ্রের হস্তক্ষেপমুক্ত
হবে না। যতদিন পর্যন্ত না আমরা সন্তুষ্ট হতে পারব যে, তারা স্বাধীনভাবে চালাতে পারবে,
ততদিন না। আগে যেভাবে চলেছে এখনো সেভাবে চললে লাভ কী। আমরা তো সেভাবে চাই না। ডিসেন্ট্রালাইজেশন
(বিকেন্দ্রীকরণ) হবে না, জেনে রাখেন। এটা নিশ্চিত। ডিকনসেনট্রেশন হতে পারে, ডিসেন্ট্রালাইজেশন
নয়। অর্থ্যাৎ, কেন্দ্র থেকে চাপটা খানিকটা কমানো হবে। তবে আমাদের মূল উদ্দেশ্য কিন্তু
তাদের স্বাধীন বডি হিসেবে তৈরি করা।’
বিসিবি টিভি আসছে। এটি
নিয়ে পাপন বলেন, ‘বাংলাদেশের খেলা দেখানোর জন্য যাদের সঙ্গে চুক্তি থাকে তারা তো একসঙ্গে
একাধিক খেলা দেখাতে পারেন না। কাজেই আমাদের যখন একসঙ্গে একাধিক খেলা থাকে তখন সমস্যা
হয়। আমরা তো সব খেলাই দর্শককে দেখাতে চাই। এ কারণেই বিসিবি টিভির কথা ভেবেছি। টি-স্পোর্টস
যখন বাংলাদেশ পুরুষ দলের ম্যাচ দেখায়, তখন আমরা বিসিবি টিভিতে নারী দলের ম্যাচ থাকলে
দেখাতে পারব। আমরা বাংলাদেশ-এ দল, অনূর্ধ্ব-১৯ দল, ঘরোয়া ক্রিকেট—নানা কিছু দেখাতে
সক্ষম হবো। আমরা ঘরোয়া ক্রিকেটও টিভিতে দেখাবো। আমি সবার সাথে কথা বলে দেখেছি, ঘরোয়া
ক্রিকেট টিভিতে দেখানো হলে এতে ক্রিকেটের মান উন্নত হবে। উৎসাহ, উদ্দীপনা, আগ্রহ আরো
বেড়ে যাবে। কারণ যারা খেলবে তারা পরিবার পরিজন বন্ধু বান্ধবকে বলবে, আজ আমার খেলা আছে
দেখিস।’
তিনি আরো বলেন,‘এছাড়া
আম্পায়ারিংয়ের মান নিয়ে মানুষ কথা বলে। এখন মানুষ এসব নিজের চোখেই দেখতে পারবে। এটাই
টিভি করার মূল উদ্দেশ্য। আমাদের অন্যদের সঙ্গে চুক্তি থাকবে, কারণ ওখান থেকে তো আমরা
পয়সা পাব। আর নিজেদের খেলাগুলো দেখানোর জন্য থাকবে বিসিবি টিভি।’
জেলা লিগগুলো ঠিকমতো হচ্ছে
না। এটা নিয়ে পাপন বলেন, ‘আমি শুনেছি সব জেলা টাকা পাচ্ছে না। সবাই পাবেও না। যারা
খেলা পরিচালনা করবে এবং যাদের কাগজপত্রে আমরা সন্তুষ্ট শুধু তারাই পাবে। এছাড়া তাদের
যে টাকা দেয়া হয় সেটা পর্যাপ্ত না। যেমন, আমরা দুই লাখ টাকা দেই। আমরা বলেছি, ঠিক আছে
যারা একটা করে লিগ করবে তাদের জন্য এখন থেকে চার লাখ টাকা করে দিচ্ছি, যারা একাধিক
লিগ করতে তাদের ছয় লাখ টাকাও দিচ্ছি। তবে এটা সব জেলা পাবে এমন কিন্তু না।’
বোর্ডপ্রধান বলেন, ‘আজ
মূলত আলোচনা হয়েছে আঞ্চলিক ক্রিকেট সংস্থা নিয়ে। বরিশাল ছাড়া সব কটি আমরা করে ফেলেছি।
আমরা এডহক কমিটি করে দিয়েছি। এই এডহক কমিটি সবাইকে নিয়ে নির্বাচন করবে। সেটাই হবে আমাদের
আসল আঞ্চলিক ক্রিকেট এসোসিয়েশন। আঞ্চলিক ক্রিকেট এসোসিয়েশন হলে সবকিছু তাদের অধীনে
হবে, তখন সরাসরি তারা টাকা পাবে, কারো মাধ্যমে নিতে হবে না। আরা যারা কোচিং স্টাফ থাকবে,
তারাও তাদের অধীনে থাকবে। ওটাও বিসিবি। আঞ্চলিক সংস্থাও বিসিবির অংশ। তাদের ২০ লাখ
টাকা করে দেয়া হবে পরীক্ষামূলকভাবে একটা টি-টোয়েন্টি টুর্নামেন্ট করার জন্য। এটা দেখার
জন্য যে তারা কে কেমন পারফর্ম করে।’










