আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপের নবম আসর দুয়ারে। ১০ ফেব্রুয়ারি শুক্রবার দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে শুরু হচ্ছে এ আসরটি। এ নিয়ে পঞ্চমবার টি২০ বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে বাংলাদেশ। আগের চার আসরে অভিজ্ঞতা সুখকর নয় মোটেও। এবার কি বৈশ্বিক মঞ্চে বড় দলগুলোকে চ্যালেঞ্জ জানাতে পারবেন নিগার সুলতানা, জাহানারা আলমরা?
২০১৪ সালের টি২০ বিশ্বকাপ আয়োজন করে বাংলাদেশ। স্বাগতিক হিসেবে সেবারই প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ পায় মেয়েরা। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি। পরের তিনটি আসরেই বাছাই পর্বে হয় চ্যাম্পিয়ন হয়ে, নয়তো রানার্সআপ হিসেবে মূল পর্বে খেলার সুযোগ আসে। দক্ষিণ আফ্রিকায় আসন্ন অষ্টম বিশ্বকাপেও বাছাই পর্ব পেরিয়ে খেলার সুযোগ করে নেয় লাল-সবুজ জার্সিধারীরা। এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের নারীদের পঞ্চম টি২০ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ।
২০২০ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত আসরে ‘এ’ গ্রুপে অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকার বিপক্ষে খেলে একটি ম্যাচও জেতা হয়নি বাংলাদেশের। এবারো ‘এ’ গ্রুপে বাংলাদেশ, পরিবর্তন শুধু একটি—ভারতের জায়গায় দক্ষিণ আফ্রিকা।
২০১৮ সালের টি২০ বিশ্বকাপ আসর বসেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাটিতে। সেবারও ‘এ’ গ্রুপে খেলে একটিও ম্যাচ জিততে পারেনি বাংলাদেশ। ২০১৬ সালে ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত টি২০ বিশ্বকাপ আসরেও জয়শূন্য বাংলাদেশ।
টি২০ বিশ্বকাপে আগের চারবারের অংশগ্রহণে বাংলাদেশ মাত্র দুটি ম্যাচ জিততে সমর্থ হয়, তা ২০১৪ সালে ঘরের মাঠে। ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইংল্যান্ড ও ভারতের কাছে হেরে আগেই বিদায় নিশ্চিত হওয়া বাংলাদেশ গ্রুপের শেষ ম্যাচে শ্রীলংকাকে হারিয়ে দিয়েছিল। পরে নবম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে আয়ারল্যান্ডকে হারায় বাংলাদেশ।
সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত টি২০ বিশ্বকাপের চার আসরে অংশ নিয়ে ১৭টি ম্যাচ খেলে দুটিতে জিততে সমর্থ হয় বাংলাদেশ, পরাজয়ের স্বাদ পায় তারা ১৫টি ম্যাচে।
২০২২ সালের সেপ্টেম্বরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাটিতে অনুষ্ঠিত হয় আইসিসি নারী টি২০ বিশ্বকাপের বাছাই পর্ব। এ টুর্নামেন্টের চ্যাম্পিয়ন হিসেবে বাংলাদেশ ও রানার্সআপ হিসেবে আয়ারল্যান্ড জায়গা করে নেয় টি২০ বিশ্বকাপ ২০২৩-এ। বাছাই পর্বের বৈতরণী পার হয়ে এবার মূল পর্বেও বড় পরীক্ষার মুখে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এবারো কি অতীতের পুনরাবৃত্তি, নাকি বিশ্বমঞ্চে সাফল্যের দেখা পাবে লাল-সবুজ জার্সিধারীরা?
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ মিশন শুরু হবে ১২ ফেব্রুয়ারি। কেপটাউনে নিগার, রুমানা আহমেদরা সেদিন খেলবেন উপমহাদেশের দল শ্রীলংকার বিপক্ষে। বিশ্বকাপে বাংলাদেশের দুই জয়ের একটি এ শ্রীলংকারই বিপক্ষে।
১৪ ফেব্রুয়ারি পার্লে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে, ১৭ ফেব্রুয়ারি কেপটাউনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ও ২১ ফেব্রুয়ারি কেপটাউনে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে খেলবেন নিগাররা।
এবার তারুণ্যনির্ভর দল গড়েছে বাংলাদেশ। সদ্যই দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত আইসিসি নারী অনূর্ধ্ব-১৯ টি২০ বিশ্বকাপে আলো ছড়ানো অলরাউন্ডার স্বর্ণা আক্তার, পেসার মারুফা আক্তার ও অলরাউন্ডার দিশা বিশ্বাস জায়গা করে নিয়েছে বড়দের টি২০ বিশ্বকাপের দলে।
এ তিন তরুণ দলকে আশাবাদী করে তুলেছেন। স্বর্ণা বিশ্বকাপের সেরা একাদশে জায়গা করে নিয়েছেন, যা বিশ্বকাপ শেষ হওয়ার পরদিন ঘোষণা করে আইসিসি। যুব বিশ্বকাপের সেই অভিজ্ঞতাই এবার বড়দের টি২০ বিশ্বকাপে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
বিশ্বকাপ খেলতে রওনা হওয়ার আগে বাংলাদেশ দলনায়ক নিগার সুলতানা বলছিলেন, ‘দল হিসেবে আমাদের শক্তি হলো ঐক্য। আমরা খুব ভারসাম্যপূর্ণ দল। আমাদের দলে অভিজ্ঞ ও নবীন প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের দারুণ মিশ্রণ রয়েছে। আমাদের দল সব সময় চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রস্তুত।’
তরুণদের নিয়ে তিনি বলেন, ‘মারুফা আক্তারকে নিয়ে আমি খুবই রোমাঞ্চিত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ওর অভিষেক হয়েছে। সদ্যসমাপ্ত অনূর্ধ্ব-১৯ টি২০ বিশ্বকাপেও সে দারুণ বোলিং করেছে। অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া তিন ক্রিকেটারের একজন মারুফা। ওরা জাতীয় দলে কেমন পারফর্ম করে দেখতে মুখিয়ে আছি।’
মারুফা আগেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। দিশা এর আগে নিউজিল্যান্ড সফরে গেলেও কোনো ম্যাচ খেলেননি। আর স্বর্ণা এ প্রথম জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন।
এবারের বিশ্বকাপে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে মোট ১০টি দেশ। ‘বি’ গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, ভারত, পাকিস্তান, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও আয়ারল্যান্ড।
মূল লড়াইয়ে মাঠে নামার আগে দুটি ওয়ার্মআপ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। আগামীকাল কেপটাউনে পাকিস্তানের বিপক্ষে ও বুধবার স্টেলেনবাখে ভারতের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। এ দুটি ম্যাচ খেলেই মূল লড়াইয়ের জন্য চূড়ান্ত প্রস্তুতি সম্পন্ন করবেন নিগার ও জাহানারা, রুমানারা।
আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি কেপটাউনের নিউল্যান্ডস ক্রিকেট স্টেডিয়ামে ফাইনালের মধ্য দিয়ে পর্দা নামবে অষ্টম টি২০ বিশ্বকাপ আসরের।
টি২০ বিশ্বকাপের বর্তমান চ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া এবং সর্বোচ্চ পাঁচবারের চ্যাম্পিয়নও তারা। ২০০৯ সালে প্রথম আসরে শিরোপা জিতে নেয় ইংলিশরা। এরপর ছয় আসরে পাঁচবারই শ্রেষ্ঠত্ব দেখায় অজিরা। মাঝে একবার শিরোপা জয় করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ।










