ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে আজ শনিবার গাজী টায়ার্স
ক্রিকেট একাডেমিকে ৪০ রানে অলআউট করে দিয়েছে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। বিকেএসপিতে
পেস বোলার আবু হায়দার রনি একাই নিয়েছেন গাজীর ৭ উইকেট! পরে মাত্র ৬.২ ওভারে এক উইকেট
হারিয়ে জয় তুলে নেয় মোহামেডান। এদিন ফতুল্লায় লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জকে ৯৯ রানে অলআউট
করে দিয়ে ৮ উইকেটের জয় তুলে নেয় দেশের আরেক ঐতিহ্যবহুল ক্লাব আবাহনী লিমিটেড।
বাংলাদেশের ঘরোয়া ‘লিস্ট-এ’ ক্রিকেটে তৃতীয় সর্বনিম্ন
দলীয় সংগ্রহের রেকর্ড গড়ল গাজী টায়ার্স। সর্বনিম্ন ৩০ রানে অলআউট হওয়ার রেকর্ডটা চট্টগ্রাম
বিভাগের। ২০০২ সালে জাতীয় ক্রিকেট লিগের ওয়ানডে সংস্করণে সিলেট বিভাগের বিপক্ষে অমন
ভরাডুবি ঘটেছিল চট্টগ্রামের।
এছাড়া ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে ২০১৩ সালে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায়
আবাহনী লিমিটেডের বিধ্বংসী বোলিংয়ের মুখে মাত্র ৩৫ রানে অলআউট হয়েছিল ক্রিকেট কোচিং
স্কুল (সিসিএস)। আজ সেই প্রিমিয়ার লিগে ৪০ রানে অলআউট হলো গাজী টায়ার্স। রানের হিসেবে
এটা তৃতীয় সর্বনিম্ন স্কোর হলেও ওভারের হিসেবে এটা সংক্ষিপ্ততম (১২ ওভার)। মানে, এত
কম ওভারে দেশের লিস্ট-এ ক্রিকেটে কোনো দল অলআউট হয়নি।
মোহামেডানের বামহাতি এই পেসার ২০ রানে ৭ উইকেট নেন। ঢাকা
প্রিমিয়ার লিগে এটি এক ইনিংসে দ্বিতীয় সেরা বোলিংয়ের রেকর্ড। ইয়াসিন আরাফাতের ৮ উইকেট
নেয়ার নজির আছে। ২০১৮ সালে ফতুল্লায় আবাহনীর বিপক্ষে ৪০ রানে ৮ উইকেট নিয়েছিলেন গাজী
গ্রুপের ইয়াসিন।
ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ের এই দিনে গাজী টায়ার্সের ইফতেখার
সাজ্জাদ শুধু দুই অঙ্ক ছুঁতে পেরেছেন। তাও আট নম্বরে নেমেছেন তিনি। ১৬ রান করেন তিনি।
রনি ৭ উইকেট নেয়ার পর গাজী টায়ার্সের বাকি ৩টি উইকেট নেন স্পিনার নাসুম আহমেদ। রান
তাড়া করতে নেমে এক উইকেট হারিয়ে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় মোহামেডান। ১৯ রানে অপরাজিত
ছিলেন মোহামেডান অধিনায়ক ইমরুল কায়েস।
মোহামেডানের রেকর্ডময় দিনে উড়ল আবাহনীও। ফতুল্লায় লিজেন্ডস
অব রূপগঞ্জকে মাত্র ৯৯ রানে অলআউট করে দিয়ে আবাহনী ৮ উইকেটের জয় তুলে নিয়েছে।
জাতীয় দলের তিন পেসার তানজিম হাসান সাকিব, শরিফুল ইসলাম
ও তাসকিন আহমেদ ভয়ংকর গতির ঝড় তুলে বিধ্বস্ত করেন রূপগঞ্জকে। এই তিনজন ১০ উইকেট শিকার
করেন। এরপর মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত ও এনামুল হকের ব্যাটে ভর করে ১০.৪ ওভারেই জয় নিশ্চিত
করে আবাহনী। ২৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা খেলোয়াড় হয়েছেন তানজিম সাকিব।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
গাজী টায়ার্স-মোহামেডান
গাজী টায়ার্স: ১২ ওভারে ৪০ (ইফতেখার ১৬; আবু হায়দার ৭/২০,
নাসুম ৩/২০)। মোহামেডান: ৬.১ ওভারে ৪১/১ (ইমরুল ১৯*, রনি ১২; আরিদুল ১/৪)। ফল: মোহামেডান
৯ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: আবু হায়দার রনি (মোহামেডান)।
আবাহনী-রূপগঞ্জ
লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ: ২৮.৩ ওভারে ৯৯/১০ (শামীম ১৮, শহিদুল
১৭; তানজিম ৫/২৩, শরিফুল ৩/২৯, তাসকিন ২/১৬)। আবাহনী: ১০.৪ ওভারে ১০১/২ (মোসাদ্দেক
৪৮*, এনামুল ৩৭*; হালিম ১/২৬)। ফল: আবাহনী ৮ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: তানজিম হাসান সাকিব
(আবাহনী)।










