সেন্ট কিটসে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ২৯৫ রানের টার্গেট দিয়েও জিততে পারেনি বাংলাদেশ। শেরফান রাদারফোর্ড ঝড়ো সেঞ্চুরিতে হৃদয় ভেঙেছেন মেহেদী হাসান মিরাজদের। আগামীকাল মঙ্গলবার দ্বিতীয় ম্যাচে সমতায় ফেরার চ্যালেঞ্জ নিয়ে মাঠে নামবে টাইগাররা।
সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে সোমবার ভোর সাড়ে ৩টায় শেষ হওয়া ম্যাচে সেন্ট কিটসের ওয়ার্নার পার্কে টস জিতে ব্যাটিং বেছে নেয়া টাইগাররা তিন ফিফটিতে ৬ উইকেটে ২৯৪ রান তুলতে সমর্থ হয়। এই রান তাড়া করতে নেমে ২৭ রানের মধ্যে ২ উইকেট হারালেও অধিনায়ক শাই হোপ বিপর্যয় সামাল দেন। কিসি কার্টিকে নিয়ে বোর্ড ৬৭ রান যোগ করেন হোপ। ক্যারিবীয় দলনায়ক এরপর ৯৩ বলে ৯৯ রানের জুটি গড়েন রাদারফোর্ডকে নিয়ে।
হোপ ৮৮ বলে ৮৬ রানের ইনিংস খেলে মিরাজের শিকার হয়ে সাজঘরে ফেরেন। দলের সংগ্রহ ৪ উইকেটে ১৯৩। ক্যারিবীয়দের তখনো প্রয়োজন ৭৭ বলে ১০৩ রান। অনবদ্য খেলে রান ও বলের ব্যবধান ঘুচিয়ে আনেন বামহাতি ব্যাটার রাদারফোর্ড। জাস্টিন গ্রিভসকে নিয়ে মাত্র ৫৭ বলে ৯৫ রানের বিস্ফোরক জুটি গড়েন তিনি। এর মধ্যে গ্রিভসের ৩৬ ও তার নিজের ৫৮ রান। এ পথে মাত্র ৭৭ বলে ক্যারিয়ারের প্রথম ওয়ানডে সেঞ্চুরি পূর্ণ করেন ২৬ বছর বয়সী রাদারফোর্ড।
সেঞ্চুরির পর আরো আগ্রাসী ব্যাটিং করতে থাকেন তিনি। একটি পর্যায়ে হার মানেন পার্ট-টাইম বোলার সৌম্য সরকারের কাছে। আউট হওয়ার সময় তার নামের পাশে জ্বলজ্বল করছিল ৮০ বলে ১১৩ রান। ইনিংসটি সাজান ৭টি চার ও ৮টি বিশাল ছক্কায়। এরপর গ্রিভস ও রোস্টন চেজ দলের জয় নিশ্চিত করেন। গ্রিভস ৩১ বলে ৪১ ও চেজ ২ রানে অপরাজিত থাকেন।
বোলিংয়ে এমন উদযাপন কমই করতে পেরেছে টাইগাররা। ছবি: ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ
বড় টার্গেট তাড়া করতে নেমে ক্যারিবীয়রা অনিশ্চয়তায় ভুগলেও শেষ পর্যন্ত রাদারফোর্ডের আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ১৪ বল বাকি থাকতেই জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে যায় স্বাগতিকরা।
এর আগে টস জিতে ব্যাটিং করতে নেমে ৪৬ রানে ২ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। চারে নামা মিরাজ ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমকে নিয়ে হাল ধরেন। ৯৭ বলে ৭৯ রানের লড়াকু জুটিতে দলের সংগ্রহ একশ পার করে নেন এই দুজন। তানজিদ ৬০ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ৩ ছক্কায় ৬০ রান করে আলজারি জোসেফের শিকার হন।
জুটি ভাঙার পরও দায়িত্ব শেষ করেননি মিরাজ। আফিফ হোসেনকে নিয়ে আরেকটি ফিফটি রানের জুটি গড়েন তিনি। ৬২ বলে ৫৪ রান যোগ করেন দুজন। আফিফ ২৯ বলে ২৮ রান করে রোমারিও শেফার্ডের শিকার হন। মাহমুদউল্লাহকে নিয়ে ২২ বলে ১৯ রান যোগ করে সাজঘরের পথ ধরেন মিরাজও। তিনি ১০১ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ১ ছক্কায় ৭৪ রান করে জেইডেন সিলসের শিকার হন। শর্ট এক্সট্রা কাভার অঞ্চলে শেরফান রাদারফোর্ডকে ক্যাচ দেন তিনি (১৯৮/৫)।
শেষ ১২ ওভারে মাহমুদউল্লাহ ও জাকের আলী দাপুটে ব্যাটিংয়ে স্বাগতিকদের হতাশ করেন। ৭৪ বলে ৯৬ রানের পার্টনারশিপ গড়েন তারা। জাকের ৪০ বলে ৪৮ রান করে আউট হলেও মাহমুদউল্লাহ ৪৪ বলে ৫০ রানে অপরাজিত থাকেন। শেফার্ড তিনটি ও জোসেফ দুটি উইকেট নেন।










