রুশ আগ্রাসন শুরুর পর অন্য সব কর্মকাণ্ডের মতো বন্ধ হয়ে গিয়েছিল ইউক্রেনের ফুটবলও। ছয় মাসের অচলাবস্থা শেষে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে ফুটবল ফিরেছে। শুরু হয়েছে ইউক্রেনিয়ান লিগ। এ নিয়ে ইউক্রেনের ফুটবলসংশ্লিষ্টদের মধ্যে এখন আনন্দের বন্যা।

ইউক্রেনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (এইউএফ) প্রেসিডেন্ট আন্দ্রিই পাভেলকো অনুভূতি প্রকাশ করে বলেছেন, যুদ্ধাবস্থার বিরুদ্ধে ফুটবল। শান্তির জন্য ফুটবল।

গতবার ঠিক এ সময়ে শুরু হয়েছিল সর্বশেষ চ্যাম্পিয়নশিপ। যদিও তিন মাসের শীতকালীন বন্ধের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে রুশ সেনারা আক্রমণ করলে লিগটি আর শুরুই হতে পারেনি।

এফসি চেরনোমোরেটস ওডেসা দলের কোচ রোমান গ্রিগোরচুক বলেন, ফুটবল ফিরে এসেছে, এজন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ, সেই সঙ্গে ইউক্রেনের সেনাবাহিনীকেও। এ খেলার প্রতি কৃতজ্ঞতা, এর মধ্য দিয়ে আমরা আমাদের জাতির শক্তি প্রদর্শন করতে সক্ষম হব।

সুনিশ্চিত কারণে এ লিগে অংশ নেবে না দুটি দল। বন্দর নগরী মারিওপোল রাশিয়ার সেনারা দখল করে নেয়ায় সেখানকার কোনো দলের পক্ষে অংশ নেয়া সম্ভব নয়, একই কথা প্রযোজ্য রাশিয়ার দখলে চলে যাওয়া আরেক শহর চেরনোবিলের জন্যও। এ শহরও মারাত্মকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে।

তবে লিগ শুরু হলেও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেই। তাই কোনো সমর্থক মাঠে থাকবে না বলে সিদ্ধান্ত এসেছে। আর বিমান হামলা হলে আগেই সাইরেন বেজে উঠবে এবং তখন ৫০০ মিটার দূরের আশ্রয়কেন্দ্রে চলে যেতে হবে সবাইকে।

নিরাপত্তা ইস্যু নিয়ে পাভেলকো বলেছেন, প্রধান সমস্যা হলো লিগে যারা অংশগ্রহণ করবে তাদের নিরাপত্তার জন্য কোনো ব্যবস্থা নেই। তবে যুদ্ধের মধ্যে ফুটবল শুধু খেলাই নয়। এটা আমাদের মানুষের সাহসিকতা, চেতনা আর জয়ের আকাঙ্ক্ষা ফুটিয়ে তুলছে।

গত এপ্রিলে মার্শাল ল জারির পর আর মাঠে গড়ায়নি ২০২১-২২ ফুটবল লিগ। ওই মুহূর্তে টেবিলের শীর্ষে ছিল শাখতার দোনেত্স্ক, যাদের বিজয়ী ঘোষণা করা হয়। যদিও শাখতারকে কোনো ট্রফি দেয়া হয়নি।

লিগে অংশ নিচ্ছে ১৬টি দল। দনবাসের অন্য দল জরিয়া লুগানস্ক তাদের ম্যাচ খেলবে জাকাপাতিয়ায়, যে ভেন্যুতে প্রথম দিন দুটি ম্যাচ হয়েছে। দেশের পশ্চিমাঞ্চলে হওয়ায় এ ভেন্যুটিতে সবচেয়ে নিরাপদ মনে করা হচ্ছে। বাকি সব ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে কিয়েভে। কেননা এ শহরে এ মুহূর্তে রুশ আগ্রাসনের আশঙ্কা খুব কম। মার্কা