ফিফা বিশ্বকাপের আসর বসে চার বছর পর পর। দীর্ঘ সময়ের যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে সুযোগ পায় নির্দিষ্ট কয়েকটি শীর্ষ দল। মূল লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত সফলতার দেখা মেলে কেবল একটা দলেরই। ৩২ দলের মধ্যে একটি দল শিরোপা জয় করে, বাকিরা হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরে। ব্যর্থ হওয়া দলগুলোর মধ্যে অধিকাংশ দলের কোচকে বিদায় নিতে হয় কিংবা ছাঁটাইয়ের শিকার হতে হয়। কাতার বিশ্বকাপে ব্যর্থ হওয়ায় জাতীয় দলের সঙ্গে যাদের সম্পর্কের সমাপ্তি ঘটেছে তাদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য নাম স্পেনের লুই এনরিকে ও ব্রাজিলের তিতে।

লুই এনরিকে: কাতার বিশ্বকাপে প্রথম কোচ বিদায়ের খবর আসে স্পেন থেকে। মরুর বুকের বিশ্বকাপে ঐতিহ্যবাহী তিকিতাকার প্রদর্শনীতে কোচ লুই এনরিকের নেতৃত্বে কোস্টারিকাকে ৭-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের শুরুটা বেশ ভালোই করেছিল স্পেন। কিন্তু কোস্টারিকার সঙ্গে এমন দুর্দান্ত জয়ের পরবর্তী তিনটি ম্যাচেই ফ্লপ। জার্মানির কাছে ১-১ গোলে ড্র এবং জাপানের কাছে ২-১ গোলের হার। গ্রুপে জাপান চ্যাম্পিয়ন হয়। জার্মানির সমান ৪ পয়েন্ট থাকলেও গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকায় কোনো মতে শেষ ষোলোতে উঠেছিল লা রোজারা। এরপর শেষ ষোলোয় মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে ৩-০ গোলে হেরে বিদায় সাবেক চ্যাম্পিয়নদের।

ব্যর্থতার দায়ে এনরিকেকে জাতীয় দলের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেয় স্পেন ফুটবল ফেডারেশন। নিজেদের অফিশিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্টে এনরিকের চাকরি ছাড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন। তাকে ছাঁটাইয়ের ৪৫ মিনিটের মধ্যেই নতুন কোচের নাম জানিয়েছে স্পেন ফুটবল কর্তৃপক্ষ। নতুন কোচ হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে আরেক স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেকে।

তিতে: বিশ্বকাপ মঞ্চে ব্যর্থতার দায়ে কোচ বদল বা বরখাস্তের সমার্থক শব্দ ব্রাজিল। এর আগের বিশ্বকাপ আসরগুলোতে এ রীতি গড়ে উঠেছে। ক্রোয়েশিয়ার সঙ্গে ৯ ডিসেম্বর টাইব্রেকারে হেরে কাতার বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যায় ব্রাজিল। এ হারের পর অলিখিত রীতি মেনে পদত্যাগ করতে দেরি করেননি কোচ লিওনার্দো বাচ্চি তিতে। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর পদ থেকে সরে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।

ক্রোয়েশিয়ার কাছে হারার পর পরই নিজে থেকেই পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়েছেন তিতে। পদত্যাগের ঘোষণায় তিতে বলেন, আমি দেড় বছর আগেই যেমনটি বলেছিলাম, বিশ্বকাপের পর দায়িত্ব ছাড়ব, সে কথা থেকে সরে আসছি না। নাটকের কোনো প্রয়োজন নেই। আরো অনেক সেরা কোচ আছেন যারা আমার স্থলাভিষিক্ত হতে পারেন। আমার পর্ব শেষ।

তবে ব্যতিক্রমও আছে। জার্মান কোচ হান্সি ফ্লিকের বিষয়টি একটি ব্যতিক্রম ঘটনা। কাতার বিশ্বকাপে ভরাডুবি হয়েছে চারবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন জার্মানির। টানা দ্বিতীয়বারের মতো ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরের গ্রুপ পর্ব থেকেই ছিটকে গেছে তারা। সেই ব্যর্থতার দায় নিয়ে অলিভার বিয়েরহফ জার্মান একাডেমির পরিচালকের দায়িত্ব ছেড়েছেন। তবে কোচের দায়িত্বে বহাল থাকছেন হ্যান্সি ফ্লিক। চরম হতাশা জাগানিয়া পারফরম্যান্সের পরও ফ্লিকের ওপর আস্থা রেখেছে দেশটির ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)।