টেনিসে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম আসর অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে স্বাগতিক দেশের ৪৪ বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটল। ১৯৭৮ সালের পর প্রথম অস্ট্রেলিয়ান হিসেবে মেলবোর্নে শিরোপা জয়ের কৃতিত্ব দেখালেন অ্যাশলে বার্টি। গতকাল নারী এককের ফাইনালে যুক্তরাষ্ট্রের ড্যানিয়েলে কলিন্সকে তিনি সরাসরি ৬-৩, ৭-৬ (৭/২) গেমে হারিয়ে দেন।
প্রথম সেটটা দাপটে জিতলেও দ্বিতীয় সেটে পরীক্ষার মুখে পড়েন বার্টি। এই সেটে তিনি পিছিয়ে পড়েন ১-৫ গেমে। কিন্তু সেখান থেকে অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তনে বার্টি সেটটি জিতে নেন।
চলতি আসরে কোনো সেট না হেরে তিনি চ্যাম্পিয়ন হলেন। আর চলতি বছর ১১ ম্যাচে অপরাজিত কুইন্সল্যান্ডের ২৫ বছর বয়সী এ তারকা। এটা তার ক্যারিয়ারের প্রথম গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা। এর আগে ২০১৯ সালে ফ্রেঞ্চ ওপেন ও ২০২০ সালে উইম্বলডন জয় করেন বার্টি।
জয়ের পর বার্টি বলেন, স্বপ্ন সত্যি হলো এবং একজন অসি হিসেবে আমি গর্বিত। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই, দেখা হবে আবার।
এদিকে রজার ফেদেরার, রাফায়েল নাদাল ও নোভাক জোকোভিচ—এই তিনজনই ২০২২ সাল শুরু করেন সমান ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপা নিয়ে। জোকোভিচের আশা ছিল, নিজের সবচেয়ে প্রিয় টুর্নামেন্ট অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে দশম শিরোপা জিতে নিয়ে দুই গ্রেটকে টপকে তিনিই হবেন পুরুষদের টেনিসে সর্বোচ্চ গ্র্যান্ড স্লামজয়ী খেলোয়াড়। কিন্তু জোকোভিচের সেই স্বপ্নের পথে বাদ সাধে কভিড-১৯-এর টিকা ইস্যু। টিকা না নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়ায় তাকে মেলবোর্ন থেকে দেশে ফিরিয়ে দিয়েছে দেশটির সরকার। এতে কপাল খুলে যায় নাদালের। ‘বিগ থ্রি’র দুজন না থাকায় নাদালের কাজটাও সহজ হয়ে পড়ে। স্প্যানিশ গ্রেট সুযোগটি লুফে নিচ্ছেন দারুণভাবে। তিনি এখন একুশতম গ্র্যান্ড স্লামের কাছাকাছি। আজ ছেলেদের ফাইনাল। জিতলেই একুশতম শিরোপার উৎসব করবেন ৩৫ বছর বয়সী এই খেলোয়াড়, গড়বেন টেনিসে নতুন ইতিহাস।
শুক্রবার ছেলেদের এককে প্রথম সেমিফাইনালে সপ্তম বাছাই ইতালির ম্যাত্তেও বেরেত্তিনিকে ৬-৩, ৬-২, ৩-৬, ৬-৩ গেমে হারিয়ে ফাইনালের টিকিট কাটেন নাদাল। ফাইনালে তিনি লড়বেন দ্বিতীয় বাছাই দানিল মেদভেদেভের বিপক্ষে, যিনি শুক্রবার দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৭-৬ (৭/৫), ৪-৬, ৬-৪, ৬-১ গেমে হারান গ্রিসের স্তেফানো সিসিপাসকে।
ষষ্ঠবারের মতো মেলবোর্নে ফাইনালের টিকিট পেয়ে নাদালের অনুভূতি, প্রথম দুই সেটে দীর্ঘদিন পর নিজের সেরা টেনিসটা খেলতে পেরেছি। কঠিন এক প্রতিপক্ষ, বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়, তার বিপক্ষে আমি মনে করি নিজের সেরা টেনিসটাই খেলতে পেরেছি আমি। অনেক কঠিন সময় গেছে। এর পরও ফাইনাল ওঠা আমার জন্য অনেক কিছু।
পায়ের পাতার ইনজুরিটা এতই ভুগিয়েছে নাদালকে যে মাত্র কয়েক মাস আগেও তিনি বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারটির সমাপ্তির আশঙ্কা করছিলেন। সেই নাদাল অবশেষে এবার ফাইনালে। তিনি বলেন, আমি অনেক কঠিন মুহূর্তের মধ্য দিয়ে এসেছি। এ সময় আমার টিম ও পরিবারের কাছ থেকে অনেক সমর্থন পেয়েছি কোনো সন্দেহ নেই। শত সমস্যা কাটিয়ে আজ আমি এখানে।
নাদালের ২০টি গ্র্যান্ড স্লাম শিরোপার মধ্যে ১৩টিই জিতেছেন ফ্রেঞ্চ ওপেনে। উইম্বলডন দুবার, ইউএস ওপেন চারবার ও অস্ট্রেলিয়ান ওপেন একবার জিতেছেন তিনি। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে চারবার ফাইনালে হেরেছেন এই স্প্যানিশ ‘ম্যাটাডোর’। বিবিসি, অস্ট্রেলিয়ান ওপেন










