যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক বাণিজ্যবিষয়ক সাময়িকী ফোর্বসের জরিপে চতুর্থবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ক্রীড়াবিদ হিসেবে নাম উঠল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর। ৩৯ বছর বয়সী এ ফুটবলার গত এক বছরে ২৬ কোটি ডলার আয় করেছেন, যা বাংলাদেশী মুদ্রায় ৩ হাজার ৪৭ কোটি টাকারও বেশি! রোনালদোর পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আয় করেছেন স্প্যানিশ গলফার জন রাম। তিনে আছেন ইন্টার মিয়ামিতে খেলা আর্জেন্টাইন ফুটবলার লিওনেল মেসি।
ফোর্বস খেলোয়াড়দের আয়ের তালিকা করেছে বেতন, বোনাস, স্পন্সরসহ সব ধরনের আয় বিবেচনায় নিয়ে।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বার ফোর্বসের তালিকায় ১ নম্বরে থাকলেন রোনালদো, আর সব মিলিয়ে চতুর্থবার। ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি ঘটলে দুই পক্ষ চুক্তি বাতিল করে। ২০২২ সালের ডিসেম্বরে সৌদি আরবের ক্লাব আল নাসেরে নাম লেখানোর পর গত বছর তিনি আয়ে বিশ্বে ১ নম্বরে উঠে যান। এবারো তার জায়গা হলো ১ নম্বরে।
রোনালদোর ১ নম্বরে থাকারই কথা। কেননা আল নাসেরে বছরে ২০ কোটি ডলারের বেশি বেতন পেয়ে থাকেন পর্তুগিজ সুপারস্টার। ফুটবল ইতিহাসে তার মতো পারিশ্রমিক আর কেউ পান না। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকেও তার বিপুল আয়। ৬৯ কোটি ইনস্টাগ্রাম অনুসারী রয়েছে রোনালদোর। এ খাত থেকে কয়েক কোটি ডলার আয় করেন সাবেক রিয়াল মাদ্রিদ সুপারস্টার। এছাড়া এনডোর্সমেন্ট চুক্তি থেকেও অনেক আয় করেন তিনি। তার মাঠের বাইরের আয় ৬ কোটি ডলার বলে ফোর্বসের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ফোর্বস ম্যাগাজিন জানিয়েছে, ৩৯ বছর বয়সী রোনালদো আগের বছরের চেয়ে ১৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার বেশি আয় করেছেন। সৌদিতে গিয়ে তার আয় বাড়লেও কমেছে ফুটবলে তার ‘চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী’ লিওনেল মেসি।
গলফার জন রামের দ্বিতীয় স্থানে উঠে আসার ক্ষেত্রেও সৌদি আরবের বিশেষ ভূমিকা আছে। দেশটির এলআইভি গলফে রাম যোগদান করে ন্যূনতম ৩০ কোটি ডলার পারিশ্রমিক পাচ্ছেন বলে সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়। ফোর্বস বলছে, রামের বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ২১ কোটি ৮০ লাখ ডলার। রোনালদো ও রাম এ দুজনেরই শুধু বছরে ২০ কোটি ডলারের বেশি আয়।
আর্জেন্টাইন ফুটবলার মেসি সাড়ে ১৩ কোটি ডলার আয় করে আছেন তিনে। তার মাঠ ও মাঠের বাইরের আয় প্রায় সমান। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের ইন্টার মিয়ামি থেকে বছরে সাড়ে ৬ কোটি ডলার আয় করেন তিনি। এছাড়া অ্যাডিডাস, অ্যাপলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তির মাধ্যমে আয় আছে আরো ৭ কোটি ডলার। বছরে বাংলাদেশী মুদ্রায় ১ হাজার ৫৮২ কোটি টাকারও বেশি আয় করেন ৩৭ বছর বয়সী মেসি।
আয়ের দিক থেকে শীর্ষ পাঁচে আছেন আমেরিকান বাস্কেটবল সুপারস্টার লেব্রন জেমস (১২ কোটি ৮২ লাখ ডলার) ও গ্রিক-নাইজেরিয়ান বাস্কেটবল তারকা জিয়ানিস আন্তেতেকুমপো (১১.১ কোটি ডলার)।
সদ্যই প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) ছাড়ার ঘোষণা দেয়া ফরাসি তারকা কিলিয়ান এমবাপ্পের আয় ১১ কোটি। তিনি আগামী মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদে যোগ দিতে চলেছেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। মাদ্রিদে নাম লেখালে তার আয় বাড়বে বৈ কমবে না। এমবাপ্পের পরই ব্রাজিলিয়ান তারকা নেইমার (১০.৮ কোটি ডলার), যিনি গত মৌসুমে যোগ দেন সৌদি আরবের ক্লাব আল হিলালে। এছাড়া আল ইত্তিহাদের ফরোয়ার্ড করিম বেনজেমার আয় ১০.৬ কোটি ডলার।
সবচেয়ে বেশি আয় করা শীর্ষ ১০ ক্রীড়াবিদের সম্মিলিত বার্ষিক আয় ১৩৮ কোটি ডলার। হিসাবটি করা হয়েছে কর ও এজেন্ট ফি প্রদানের আগেই। এ দুই খাতে খরচটা বাদ দিলে খেলোয়াড়দের আয় কিছুটা কমে যাবে।










