ফুটবল ও সংগীতের আকর্ষণীয় যুগল জেরার্ড পিকে ও শাকিরা তাদের সন্তানদের নিয়ে থাকতেন বার্সেলোনায় প্রাসাদতুল্য একটি বাড়িতে। এ তারকা যুগলের বিচ্ছেদ ঘটে গেছে। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এল পাইস জানিয়েছে, জেরার্ডের স্মৃতিবিজড়িত বাড়িটি এবার কিনে নিচ্ছেন বার্সেলোনার তরুণ সুপারস্টার লামিনে ইয়ামাল। পিকের বাড়িটি কিনতে তার খরচ হবে দেড়শ কোটি টাকারও বেশি! শোবিজ ও ক্রীড়াঙ্গনের মানুষের কাছে আলোচিত এ বাড়ি কিনে নেয়ার খুব কাছাকাছি রয়েছেন ইয়ামাল।
বাড়িটির অবস্থান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং অন্য সতীর্থদের আবাসস্থলের কাছাকাছি হওয়ায় পিকের বাড়িটির চাহিদা রয়েছে। এর কাছেই থাকেন বার্সেলোনার খেলোয়াড় আলেহান্দ্রো বালদে ও রোনাল্ড আরাউহো।
পিকে–শাকিরার সম্পর্কের শুরু ২০১০ সালে। আর্কিটেস্ট মিরেইয়া অ্যাডমেটলার ২০১২ সালে বাড়িটি নির্মাণ করেন। নির্মাণের পর থেকে ২০২২ সালে আলাদা হয়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত সেই বাড়িতেই থাকতেন দুই ভুবনের দুই তারকা। এক যুগ পর সেই বাড়িটিতে উঠতে যাচ্ছেন বর্তমান ফুটবল দুনিয়ার বিস্ময়, আকাঙ্ক্ষিত নাম লামিনে ইয়ামাল। কাকতালীয় হলেও সত্য, পিকের মতো ইয়ামালের প্রেমের সঙ্গে জড়ানো নিকি নিকোলস একজন আর্জেন্টাইন সংগীতশিল্পী।
এটি শুধুই একটি বাড়ি নয়। যে বাড়িতে থাকতেন শাকিরার মতো বিশ্বের নন্দিত সংগীতশিল্পী আর বার্সেলোনার তারকা ফুটবলার পিকে, সেই বাড়িটিতে আবারো আলো জ্বলে উঠবে। এ আলো বিদ্যুতের আলো নয়, তারকার আলো। লামিলে ইয়ামাল এখন ফুটবল মহাকাশের এক উজ্জ্বল নক্ষত্র। তার আলোয় আলোকিত হতে পারে বার্সেলোনার এ প্রাসাদতুল্য বাড়ি।
দুটি ভবনে শয়নকক্ষ আছে মোট ছয়টি ও বাথরুম পাঁচটি। ইয়ামাল এ সম্পত্তি কেনার ব্যাপারে বেশ আগ্রহী বলে জানিয়েছে এল পাইস। তিনি নিজের পছন্দ ও চাহিদা অনুযায়ী বাড়িটি সাজাতে চান এবং এজন্য কিছু অর্থ সংস্কারকাজে ব্যয় করবেন।
লামিনে ইয়ামালের বয়স সবে ১৮। এই বয়সেই ফুটবলবিশ্বে ঝড় তুলেছেন। খ্যাতির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আসছে অর্থ। গত মে মাসে বার্সেলোনার সঙ্গে ৬ বছরের নতুন চুক্তি করেছেন। এ চুক্তির পর রবার্ট লেভানডভস্কিকে টপকে তিনিই এখন ক্লাবের সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড়। গুঞ্জন রয়েছে, ইয়ামাল বছরে পাবেন ৩ কোটি ৬০ লাখ ডলার (প্রায় ৪৪০ কোটি টাকা)। চুক্তি পূর্ণ করলে তিনি বার্সেলোনার কাছ থেকেই পাবেন আড়াই ২ হাজার কোটি টাকারও বেশি! কাজেই তার জন্য দেড়শ কোটি টাকা খরচ করে বাড়ি কেনা কঠিন হবে না। এর বাইরেও বিজ্ঞাপন আর বিভিন্ন নামি ব্র্যান্ডের সঙ্গে করা চুক্তি থেকে তিনি আয় করবেন আরো কোটি কোটি ডলার। রোনালদো, মেসিদের পর ফুটবলের অন্যতম বড় তারকা হয়ে ওঠা ইয়ামাল বাণিজ্যিক দুনিয়ায় আকর্ষণীয় এক নাম হয়ে উঠতে পারেন শিগগিরই।
মার্কিন বিজনেস সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, সব মিলিয়ে বছরে প্রায় ৩ কোটি ৭০ লাখ ইউরো (প্রায় ৫২৭ কোটি টাকা) আয় করতে পারেন বার্সেলোনার ফরওয়ার্ড ইয়ামাল। এতে তিনি বিশ্বের সবচেয়ে বেশি আয় করা ফুটবলারদের তালিকায় জায়গা পাবেন, যেখানে আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী লিওনেল মেসি, পাঁচবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো, ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে, ইংলিশ তারকা জুড বেলিংহাম রয়েছেন।
ইয়ামালকে ঘিরে এখন সর্বত্রই উন্মাদনা। তাই তো এ কিশোরের সই করা একটি কার্ডের নিলামে মূল্য উঠেছে ১৮ হাজার থেকে ২০ হাজার ডলার (২২ লাখ টাকা থেকে ২৪ লাখ ৪৫ হাজার টাকা)। কার্ডটি নিলামে তুলেছে ক্যাটাউইকি প্লাটফর্ম। ক্রীড়ার এ আকর্ষণীয় স্মারকটি কিনতে আগ্রহীরা বিড করার সময় পাচ্ছেন ৮ নভেম্বর পর্যন্ত।
এ কার্ডকে ‘জেম মিন্ট টেন’ গ্রেডে রাখা হচ্ছে, যা সম্ভাব্য সর্বোচ্চ গ্রেড। কার্ডটি এক ইতালীয় নাগরিকের কাছে রয়েছে, যিনি ভাগ্যচক্রে একটি প্যাকেট খুলে এটি পেয়েছেন। এটি এমন সময় মার্কেটে আসছে যখন কিনা বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের খেলোয়াড় হিসেবে ইয়ামালের বিশ্বজোড়া খ্যাতি ছড়িয়ে পড়েছে।
ইয়ামালকে নিয়ে ক্যাটাউইকির স্পোর্টস এক্সপার্ট উগো পেলোনি বলেন, ‘লামিনে ইয়ামাল এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম খ্যাতিমান খেলোয়াড় হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। শিরোপা জেতারা আকাঙ্ক্ষা ও দক্ষতা তাকে সংগ্রহকারীদের কাছে আকাঙ্ক্ষিত ব্যক্তিতে পরিণত করেছে এবং তার তুমুল সম্ভাবনার কথা বিবেচনা করে বিনিয়োগেও আগ্রহী হচ্ছেন অনেকে।’
এটা কেবল ক্রীড়াসংশ্লিষ্ট কিছু সংগ্রহ করার উন্মাদনাই নয়, এর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে আরো কিছু। ইয়ামাল ফুটবলের বর্তমান ও ভবিষ্যতের মহাতারকা। তার সই রয়েছে এমন কিছু সংগ্রহে রাখার সুযোগ নিতে চাইবেন অনেকে।
ইয়ামাল ১৮ বছর বয়সেই ফুটবলে ঝড় তুলেছেন। বার্সার হয়ে দুটি লিগ শিরোপাসহ মোট চারটি শিরোপা, স্পেনের হয়ে জিতেছেন ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা। এক বছরের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স দিয়েই ২০২৫ সালে ব্যালন ডি’অর পুরস্কারে তিনি রানারআপ হয়েছেন। প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি) তারকা ওসমান দেম্বেলে এবার ব্যালন ডি’অর পুরস্কার জিতে নিয়েছেন। ইয়ামাল যে গতিতে ছুটছেন তাতে খুব সহসাই যে তার হাতে বিশ্বসেরা ফুটবলারের এ পুরস্কার ধরা দেবে, সেটি আশা করাই যায়।
মার্কা ও গোল ডটকম










