গত রোববার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে ম্যানচেস্টার ডার্বিতে ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোকে বাদ দেয় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ম্যাচে বড় ব্যবধানে হেরেছে রেড ডেভিলরা। হারের পর সৃষ্টি হয় গৃহদাহ! বাদ পড়ে ভীষণ ক্ষুব্ধ হয়েছেন রোনালদো। তিনি এতটাই ক্ষেপেছেন যে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যাপারে এজেন্ট হোর্হে মেন্দেসের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকও নাকি সেরেছেন। যদিও ‘সুপারএজেন্ট’
মেন্দেস এ সময় তাকে বুঝিয়ে শান্ত করার চেষ্টা করেছেন।
দ্য সানের খবরে বলা হচ্ছে, দলে জায়গা হারিয়ে ক্ষুব্ধ রোনালদো আগামী গ্রীষ্মের দলবদলেই ম্যানইউ ছাড়তে চান, যে ক্লাবে যোগ দিয়েছেন এখনো এক মৌসুমও পূর্ণ হয়নি। ইতালির ক্লাব জুভেন্টাসে তিন মৌসুম খেলে গত গ্রীষ্মে তিনি যোগ দেন সাবেক ক্লাব ম্যানইউতে। যদিও এখানের অধ্যায়টা তার সুখের হচ্ছে না।
ম্যানইউ কোচ রালফ র্যাংনিক জানিয়েছিলেন, ইতিহাদে তাকে সুপার-সাব হিসেবে খেলানো হবে। এতেই ভীষণ ক্ষুব্ধ হন ইতিহাসের অন্যতম সেরা ফরোয়ার্ড। যদিও তিনি নিতম্বের চোটে পড়ায় শেষ পর্যন্ত স্কোয়াড থেকে বাদ পড়েন। গত রোববারের ম্যাচ সামনে রেখে সিটি সেন্টারের লাউরি হোটেলে জড়ো হন ম্যানইউর খেলোয়াড়রা, আর এ সময় রোনালদো উড়ে যান তার নিজ দেশ পর্তুগালে।
ম্যানচেস্টার ডার্বিতে র্যাংনিকের কৌশল ছিল কোনো স্বীকৃত স্ট্রাইকার ছাড়াই একাদশ সাজানো। রোনালদোকে তিনি বলেন, তাকে তিনি শেষদিকে নামাতে চান যাতে অবদান রাখতে পারেন। যদিও ক্ষুব্ধ রোনালদোর দাবি, তিনি শুরু থেকে খেললেই বেশি অবদান রাখতে পারতেন।
জুভেন্টাস থেকে ফেরার পর সাবেক ক্লাবের সঙ্গে দুই বছরের চুক্তি করেন রোনালদো। প্রত্যাবর্তনের পর শুরুটা দুর্দান্ত হয় তার, করেন ১৫ গোল। যদিও এই ১৫ গোলের মধ্যে সর্বশেষ ১০ ম্যাচে করেছেন মাত্র একটি।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে শীর্ষ চারের জন্য লড়ছে ম্যানইউ। রোনালদোর উপদেষ্টারা এরই মধ্যে ক্লাবের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দিয়েছেন, তারা যদি শীর্ষ চারে থাকতে না পারে তবে খেলোয়াড়টি বিদায় নিতে পারেন। খেলোয়াড়টি যদি একাদশে জায়গা পাওয়া নিয়ে অসন্তুষ্ট হন, তবে ম্যানইউর চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার লক্ষ্যপূরণ হলেও তিনি বিদায় নিতে পারেন। যেমনটি তিনি করেছিলেন জুভেন্টাসের সঙ্গে।
গত বছর আগস্টে ১ কোটি ২৮ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে রোনালদোকে সই করায় ম্যানইউ। অথচ এই খেলোয়াড়কেই ২০০৯ সালে তখনকার বিশ্বরেকর্ড ৮ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ডে রিয়াল মাদ্রিদের কাছে বিক্রি করেছিল রেড ডেভিলরা। রিয়ালে যোগ দিয়ে তিনি ইতিহাস গড়েছেন, হয়েছেন ক্লাবটির ইতিহাসে সর্বোচ্চ গোলদাতা। এছাড়া আরো অনেক রেকর্ড গড়েছেন। এরপর জুভেন্টাস ঘুরে ফিরেছেন পুরনো ডেরায়। যদিও ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে চলে আসা খেলোয়াড়টিকে এবার অনেক সস্তায় পেয়েছে ক্লাবটি। দ্য সান










