বিপিএল ফাইনালের ডামাডোলের মধ্যেই বৃহস্পতিবার বাংলাদেশে এসে পৌঁছেছে শ্রীলংকা ক্রিকেট দল। আগামীকাল তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের ব্যাট-বলের লড়াইও শুরু হয়ে যাচ্ছে। দ্বিপক্ষীয় এ পূর্ণাঙ্গ সিরিজে রয়েছে তিনটি টি২০, তিনটি ওয়ানডে আর দুটি টেস্ট। প্রথমেই টি২০ সিরিজ, যার সব ম্যাচই হবে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে। এরপর তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ চট্টগ্রামে।

টি২০ আর ওয়ানডের পর টেস্ট সিরিজও সিলেট ও চট্টগ্রামে। টাইগারদের মূল ভেন্যু ঢাকার শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে শ্রীলংকার বিপক্ষে কোনো খেলা নেই।

দ্বৈরথের শুরু টি২০ সিরিজ দিয়ে। ২০ ওভারের এই ফরম্যাটে দুটি দল এখন পর্যন্ত ১৩ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে শ্রীলংকা জিতেছে ৯টি, আর বাংলাদেশ ৪টি। এবার কি ব্যবধান কমাতে পারবে নাজমুল হোসেন শান্তর দল, নাকি সিংহলিজরা আরেকটু এগিয়ে যাবে?

দুই দল সর্বশেষ এ ফরম্যাটে মুখোমুখি হয় ২০২২ সালে। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে এশিয়া কাপের সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ২ উইকেটে হারায় শ্রীলংকা। ১৮৪ রানের টার্গেটে নেমে লংকানরা হারের মুখে পড়ে। তখন ৩৭ বলে ৬০ রানের ইনিংস খেলে দলকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তুলে জয় উপহার দেন কুশল মেন্ডিস। তখনকার দলনায়ক দাসুন শানাকা করেন ৩৩ বলে ৪৫ রান। 

দুই দলের টি২০ দ্বৈরথে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের রেকর্ডটা বাংলাদেশেরই। ২০১৮ সালে কলম্বোয় স্বাগতিকদের বিপক্ষে ২১৫ রানের টার্গেট সফলভাবে তাড়া করেছিল বাংলাদেশ। ১৯.৪ ওভার ব্যাট করে টাইগাদের সংগ্রহ ছিল ২১৫/৫। বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহ ১৯৩/৫। শ্রীলংকার দুশর বেশি স্কোর রয়েছে দুটি। ২০১৮ সালে এই সিলেটে ৪ উইকেটে ২১০ তুলে সিংহলিজরা বাংলাদেশকে হারিয়েছিল ৭৫ রানে। স্বাগতিকরা গুটিয়ে গিয়েছিল ১৩৫ রানে। 

দলীয় সর্বোচ্চ গৌরব যেমন বাংলাদেশের, তেমনি দলীয় সর্বনিম্ন সংগ্রহের লজ্জাও তাদের। ২০০৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত প্রথম টি২০ বিশ্বকাপে প্রথম দেখাতেই বাংলাদেশকে ৮৩ রানে অলআউট করে দিয়েছিল সিংহলিজদের ভয়ংকর বোলিং লাইনআপ। জোহানেসবার্গে আগে ব্যাট করে ৫ উইকেটে ১৪৭ রান তুলেছিল শ্রীলংকা। রান তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ ১৫.৫ ওভারে ৮৩ রানে শেষ। 

বাংলাদেশের বিপক্ষে শ্রীলংকার সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহ ১২৩ রান। ২০১৪ সালে চট্টগ্রামে আগে ব্যাট করে ১২০ রানে গুটিয়ে যায় বাংলাদেশ। জবাবে সিংহলিজরা শেষ বলে জয় তুলে নেয় (১২৩/৭)। নুয়ান কুলাসেকারা ৩৩ রানে ৪ উইকেট নেয়ার পর ব্যাট হাতে ২৮ বলে ৩৫ রান করে শ্রীলংকাকে জেতান থিসারা পেরেরা। 

দুই দেশের টি২০ লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন শ্রীলংকার কুশল পেরেরা। ৮ ইনিংসে ৩৬৬ রান করেছেন তিনি। বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম ১১ ইনিংসে ৩০০ ও মাহমুদউল্লাহ ১২ ইনিংসে ২৯৮ রান করেছেন। ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ইনিংস শ্রীলংকার চারিথ আসালঙ্কা ও বাংলাদেশের সাব্বির রহমানের। দুজনই খেলেছেন ৮০ রানের ইনিংস। অর্থাৎ বাংলাদেশ ও শ্রীলংকার ১৩ ম্যাচের দ্বৈরথে এখন পর্যন্ত কোনো সেঞ্চুরি নেই।

সব মিলিয়ে সব দলের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ১৫৮টি টি২০ ম্যাচ খেলে ৫৯টি জিতেছে বাংলাদেশ, হেরেছে ৯৫টি। জয়ের হার ৩৭.৩৪ শতাংশ।

বাংলাদেশ-শ্রীলংকা টি২০ দ্বৈরথে যুগ্মভাবে সবচেয়ে বেশি উইকেটের মালিক সাকিব আল হাসান ও মুস্তাফিজুর রহমান। দুজনই নিয়েছেন ১২ উইকেট। সাকিব শ্রীলংকার বিপক্ষে এবারের হোম সিরিজের কোনোটিই খেলবেন না। মুস্তাফিজুর রহমান সম্প্রতি বিপিএল ম্যাচের বিরতিতে অনুশীলনে মাথায় বলের আঘাত পান। এ ঘটনায় তাকে একদিন হাসপাতালেও কাটাতে হয়েছে। শ্রীলংকার বিপক্ষে তার খেলা অনিশ্চিত। এই দুই বোলারই না থাকলে অনেকটা সুবিধা পাবে অতিথি দলটি।

যদিও বামহাতি পেসার শরিফুল ইসলাম রয়েছেন দুর্দান্ত ফর্মে। দুর্দান্ত ঢাকার হয়ে শুধু রাউন্ড রবিন লিগেই নিয়েছেন ২২ উইকেট। তেমনি বামহাতি স্পিনার তাইজুল ইসলাম বিপিএলে ফরচুন বরিশালকে ফাইনালে তুলতে রেখেছেন অমূল্য অবদান। রংপুর রাইডার্সের হয়ে ভালো করেছেন ডানহাতি স্পিনার শেখ মেহেদী হাসান। তিনি নিয়েছেন ১৬ উইকেট। এদের সঙ্গে জ্বলে উঠতে পারেন ডানহাতি পেসার তানজিম হাসান সাকিব ও সদ্য ডাক পাওয়া স্পিনার আলিস আল ইসলাম। 

ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশকে আশা দেখাবেন কুমিল্লার হয়ে বিপিএলে আলো ছড়ানো তাওহিদ হৃদয় ও দলটিকে নেতৃত্ব দেয়া লিটন দাস। এছাড়া এনামুল হক বিজয়, সৌম্য সরকার ও মাহমুদউল্লাহ ভালো ফর্মে রয়েছেন। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ফর্ম দলকে চিন্তায় ফেলতে পারে। যদিও বিপিএলে ধুঁকতে থাকা এই বামহাতি ব্যাটার আন্তর্জাতিক মঞ্চে হয়তো নিজেকে ফিরে পাবেন।

এদিকে বাংলাদেশ ও  শ্রীলংকা ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে ৫৪ বার। এর মধ্যে ১০টি জিতেছে বাংলাদেশ, আর শ্রীলংকা ৪২টি জিতে অনেক অনেক এগিয়ে রয়েছে। সর্বশেষ দুই দল ওয়ানডেতে মুখোমুখি হয় গত বছর বিশ্বকাপে। দিল্লিতে অনুষ্ঠিত সেই ম্যাচে সিংহলিজদের ৩ উইকেটে হারায় টাইগাররা। এবার তিনটি ওয়ানডে ম্যাচই হবে চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে। চট্টগ্রামে দুই দল মাত্র একটি ওয়ানডে ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে। ২০০৬ সালের সেই ম্যাচে বাংলাদেশকে ৭৮ রানে হারায় সিংহলিজরা। 

টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ডটা খুবই দুর্বল। এখন পর্যন্ত ২৪ টেস্টের মুখোমুখিতে টাইগাররা জিতেছে ১টি, ১৮টি জিতেছে শ্রীলংকা। ২০২২ সালের বাংলাদেশ সফরে দুই ম্যাচের টেস্ট সিরিজ খেলেছে শ্রীলংকা। সেবার চট্টগ্রাম টেস্ট ড্র হলেও ঢাকা টেস্টটি ১০ উইকেটের বড় ব্যবধানে জিতে নেয় শ্রীলংকা।