তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হওয়া বাংলাদেশ ক্যারিবীয় দ্বীপে আরো বড় চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। ২০ ওভারের ফরম্যাটে দুইবারের সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ওয়েস্ট ইন্ডিজকে এবার মোকাবেলা করতে হবে। সোমবার ভোর ৬টায় প্রথম টি-টোয়েন্টি। সেন্ট ভিনসেন্টের কিংসটাউনের আর্নস ভেল স্টেডিয়ামে সিরিজের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
নিয়মিত অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর চোটের কারণে টেস্ট আর ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ দলকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবার টি-টোয়েন্টি সিরিজে নেতৃত্ব দেবেন লিটন দাস। ডানহাতি এই ব্যাটার অবশ্য নিজে খারাপ সময় পার করছেন। সর্বশেষ ৭ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে এসেছে যথাক্রমে ৬, ১, ০, ০, ২, ৪ ও ০ রান! এই ট্রমা থেকে নিজেকে বের করে আনার চ্যালেঞ্জ, সেই সঙ্গে দলকেও জয়ে ফেরানোর চ্যালেঞ্জ এখন লিটনের কাঁধে।
র্যাংকিংয়ের চার নম্বর দল ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি হচ্ছে নয় নম্বর দল বাংলাদেশ। টি-টোয়েন্টিতে ১৬ ম্যাচের মুখোমুখিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৯টি আর বাংলাদেশ ৫টি জয় পেয়েছে। এর মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে ৬ বারের মোকাবেলায় বাংলাদেশ কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি। ক্যারিবীয়রা জিতেছে ৪টি ম্যাচ, বাকি দুটি পরিত্যক্ত হয়। ক্যারিবীয়দের ডেরায় আরেকবার ২০ ওভারের ফরম্যাটে সিরিজ খেলতে নামছে বাংলাদেশ।
এর আগে সাতটি টি-টোয়েন্টি সিরিজে মুখোমুখি হয়েছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ দুটি আর ওয়েস্ট ইন্ডিজ চারটি জিতেছে, বাকিটি ড্র হয়। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশের মাঠে তিনটি করে ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠে একটি সিরিজ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০২২ সালের ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজ ২-০তে হেরেছে বাংলাদেশ। সেবার ডমিনিকায় সিরিজের প্রথম ম্যাচটি বৃষ্টিতে পরিত্যক্ত হয়। ডমিনিকায় সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে ৩৫ রানে ও তৃতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটের জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ।
বাংলাদেশের মাঠে দুই দল ৬ ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৪টি ও বাংলাদেশ ২টিতে জয় পায়। বাংলাদেশের মাটিতে দুই দলের সর্বশেষ টি-টোয়েন্টি ম্যাচ হয় ২০১৮ সালে। সেবার সিলেট ও ঢাকায় তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজটা ২-১-এ জিতে নেয় ক্যারিবীয়রা।
নিরপেক্ষ ভেন্যুতে তিনবার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারানোর কৃতিত্ব দেখায় বাংলাদেশ। ২০০৭ সালের প্রথম টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ক্যারিবীয়দের ৬ উইকেটে হারিয়েছিল টাইগাররা। মোহাম্মদ আশরাফুল ছিলেন সেই জয়ের নায়ক। ২৭ বলে ৬১ রান করে বাংলাদেশকে ১৬৫ রান তাড়া করে জিততে সাহায্য করেন তিনি। বল হাতেও নিয়েছিলেন ১ উইকেট। এছাড়া আফতাব আহমেদ করেছিলেন ৪৯ বলে ৬২ রান।
এছাড়া ২০১৮ সালের জুলাই ও আগস্টে সেন্ট কিটস ও মায়ামিতে তিন ম্যাচের সিরিজ খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও বাংলাদেশ। সেন্ট কিটসে প্রথম ম্যাচটি ডিএলএস মেথডে ৭ উইকেটে জয় পায় ক্যারিবীয়রা। এরপর মায়ামির দুটি ম্যাচই জিতে নেয় বাংলাদেশ। প্রথমটিতে তামিম ইকবাল ৪৪ বলে ৭৪ রান করে জেতান দলকে। ৩২ বলে ৬১ রান করে পরের ম্যাচে জয়ের নায়ক লিটন দাস। সাকিব আল হাসান ১০৩ রান ও ৩ উইকেট শিকার করে সিরিজের সেরা খেলোয়াড় হন।
ক্যারিবীয়-টাইগার টি-টোয়েন্টি দ্বৈরথে সর্বোচ্চ দলীয় স্কোরটা বাংলাদেশেরই গড়া। ২০১৮ সালে মিরপুরে ৪ উইকেটে ২১১ রানের সৌধ গড়েছিল স্বাগতিকরা। লিটন ৩৪ বলে ৬০, সাকিব ২৬ বলে ৪২ ও সৌম্য সরকার ২২ বলে ৩২ রান করেন। সাকিবের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে ম্যাচটি বাংলাদেশ জিতেছিল ৩৬ রানে। সাকিব বল হাতে নেন ২০ রানে ৫ উইকেট।
দুই দলের মুখোমুখিতে দুইশোর্ধ্ব স্কোর ওই একটিই। যদিও ক্যারিবীয়দের আছে ১৯৭, ১৯৩ ও ১৯০ রানের তিনটি বড় স্কোর। বাংলাদেশের ৫ উইকেটে করা ১৮৪ রান রয়েছে তালিকার পঞ্চম স্থানে।
সর্বোচ্চ স্কোরে যেমন বাংলাদেশ, সর্বনিম্ন স্কোরেও বাংলাদেশ। ২০১৪ সালে সেই মিরপুরেই ১৭২ রানের টার্গেটে খেলতে নেমে ৯৮ রানে অলআউট হয়ে যায় স্বাগতিকরা। স্যামুয়েল বদ্রি ১৫ রানে ৪টি ও ক্রিশমার স্যান্টোকি ১৭ রানে ৩টি উইকেট নিয়েছিলেন। এছাড়া ১১৮ ও ১২৯ রানের দুটি স্কোর রয়েছে বাংলাদেশের। ওয়েস্ট ইন্ডিজের সর্বনিম্ন স্কোর ৮ উইকেটে ১৩২ রান।
বাংলাদেশ-ও.ইন্ডিজ টি-টোয়েন্টি লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি রানের মালিক সাকিব আল হাসান। তিনি ২০ ওভারের ফরম্যাট থেকে অবসর নিয়েছেন এ বছর বিশ্বকাপ খেলে। সাকিব ১৪ ম্যাচে করেছেন ৩৪৭ রান। ১৪ ম্যাচে ৩০৪ রান নিয়ে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক মাহমুদউল্লাহও অবসর নিয়েছেন। চলতি মিশনে টি-টোয়েন্টি দলনায়ক লিটন দাস ক্যারিবীয়দের বিপক্ষে ১০ ম্যাচ খেলে দুই ফিফটিতে করেছেন ৩০২ রান। পরের দুটি নাম তামিম ইকবাল (২৫৫) ও মারলন স্যামুয়েলস (২২৬)।
সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোরটা ক্যারিবীয় হার্ডহিটার এভিন লুইসের। ২০১৮ সালে মিরপুরে ৩৬ বলে ৬ চার ও ৮ ছক্কায় ৮৯ রানের বিস্ফোরক ইনিংস খেলেছিলেন তিনি। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৮৮ রান বাংলাদেশের তামিম ইকবালের। ২০১২ সালে মিরপুরে ৮১ বলে ১০ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় এ রান করেন বামহাতি ওপেনার। দুই দলের কেউ এখনো সেঞ্চুরির দেখা পায়নি।










