সিলেট টেস্টে ১০ উইকেট নিয়েও মেহেদী হাসান মিরাজ ছিলেন পরাজিত দলে। বাংলাদেশ হেরে যায় ব্যাটিং ব্যর্থতায়। এবার চট্টগ্রাম টেস্টে তিনি প্রায় একাই হারিয়ে দিলেন জিম্বাবুয়েকে। বোলিংয়ের পাশাপাশি লড়লেন ব্যাট হাতেও। মিরাজের অলরাউন্ড নৈপুণ্যে সাগরিকায় অতিথি দলকে ইনিংস ও ১০৬ রানের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে সিরিজ ড্র করল টাইগাররা।
ঘরের মাঠে টানা ছয় ম্যাচ হারের পর অবশেষে জয়ের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের কাছে একটি এবং শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দুটি করে মোট চারটি টেস্টে হারের পর সিলেটে জিম্বাবুয়ের কাছেও হেরেছে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। চট্টলার জয়ে হারের বৃত্ত ভাঙল টাইগাররা।
জিম্বাবুয়ের প্রথম ইনিংসে করা ২২৭ রানের জবাবে বাংলাদেশ ৪৪৪ রান পেয়েছে মিরাজের বীরত্বে। মঙ্গলবার দ্বিতীয় দিন ২৭৯ রান তুলতেই ৭ উইকেট হারিয়ে বসে বাংলাদেশ। গতকাল ৭ উইকেটে ২৯১ রান নিয়ে ব্যাটিংয়ে নামে স্বাগতিকরা। সেখান থেকে তাইজুল ইসলামকে নিয়ে ৮৪ বলে ৬৩, তানজিম হাসান সাকিবকে নিয়ে ১৫৬ বলে ৯৪ ও হাসান মাহমুদকে নিয়ে ৩৯ বলে ৬ রান যোগ করে মিরাজই দলকে ৪৪৪ রান এনে দেন। তাইজুল ৪৫ বলে ২০, তানজিম ৮০ বলে ৪১ আর হাসান ১৬ বল খেলে শূন্য রান করে মিরাজকে ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটা পূর্ণ করতে সাহায্য করেছেন।
এরপর বল হাতেও নায়ক মিরাজ। ২১ ওভারে মাত্র ৩২ রানের খরচায় নিয়েছেন ৫ উইকেট। প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট শিকার করা তাইজুল নেন ৪২ রানে ৪ উইকেট। আর নাঈম হাসানের শিকার এক উইকেট। ঘূর্ণিতে নাজেহাল জিম্বাবুয়ে ৪৬.২ ওভারে ১১১ রানে শেষ।
ব্যাট-বলে অনবদ্য পারফর্ম করে দলকে জেতানোর পর মিরাজ বলেছেন, ‘অনেক ভালো লাগছে। প্রথম ম্যাচে হেরেছি বলে এ ম্যাচ আমাদের জিততেই হতো। ছেলেরা সবাই এ ম্যাচ নিয়ে অঙ্গীকারবদ্ধ ছিল। আমরা একটি টিম হিসেবে খেলেছি। জয়ের মূল কৃতিত্ব বোলারদের। তাইজুল আমাকে সাপোর্ট দিয়েছেন। তানজিম ও হাসান লড়াকু মানসিকতা দেখিয়ে আমাকে সেঞ্চুরি পেতে সাহায্য করেছেন। আসলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে খেলতে পারলে আমরা খুব ভালো একটি টিম।’
চট্টগ্রাম টেস্টে গতকাল অনেক রেকর্ড গড়েছেন মিরাজ। ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছেন; ১৩ বারের মতো ইনিংসে ৫ উইকেট নিয়েছেন; একই টেস্টে সেঞ্চুরি ও ৫ উইকেট শিকারি বাংলাদেশের তৃতীয় ক্রিকেটার; দুই হাজার রান ও ২০০ উইকেটের ডাবল করা বাংলাদেশের দ্বিতীয় ক্রিকেটার। সাকিব আল হাসান ডাবল অর্জন করেছিলেন ৫৪ টেস্টে, মিরাজের লেগেছে ৫৩ টেস্ট। এছাড়া একই সিরিজে এক ম্যাচে ১০ উইকেট শিকার ও এক ইনিংসে সেঞ্চুরি করা টেস্ট ইতিহাসের সপ্তম ক্রিকেটার মিরাজ; টেস্টে তৃতীয়বার ম্যান অব দ্য ম্যাচ, যা বাংলাদেশের চতুর্থ সর্বোচ্চ এবং টেস্টে তৃতীয়বার ম্যান অব দ্য সিরিজ হয়েছেন, যা বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ।
অসংখ্য কীর্তি গড়ে দলকে জেতানোর পর মিরাজ ধন্যবাদ জানালেন বিসিবির কোচ মিজানুর রহমান ও ক্রিকেট দলের ম্যানেজার নাফিস ইকবালকে। তিনি বলেন, ‘নাফিস ভাই আমাকে সবসময় বুস্টআপ করে। আজও যখন ব্যাটিংয়ে যাচ্ছিলাম, বারবার একটা কথা বলছিল, মিরাজ, তুই কিন্তু প্রপার ব্যাটসম্যান, তোর কিন্তু একশ আছে। দুইটা মানুষকে (মিজান ও নাফিস) অবশ্যই মনের ভেতর থেকে ধন্যবাদ দিতে চাই।’
বাংলাদেশ দলনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, এমন বড় জয়েও প্রথম ম্যাচের হারকে ভুলতে পারছেন না। তার কথায়, ‘সত্যি বলতে, আমি খুব বেশি খুশি নই, যদি আপনি দুই ম্যাচের কথা বলেন। আরো ভালো ক্রিকেট খেলা উচিত ছিল, সিরিজটা আমাদের জেতা উচিত ছিল। ওইভাবে চিন্তা করলে আমরা প্রথম ম্যাচটা মোটেও ভালো খেলতে পারিনি।’
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ২২৭ ও ১১১ (বেন কারেন ৪৬, ক্রেগ আরভিন ২৫; মিরাজ ৫/৩২, তাইজুল ৩/৪২, নাঈম ১/৩৪)। বাংলাদেশ: ৪৪৪ (সাদমান ১২০, মিরাজ ১০৪; ভিনসেন্ট মাসেকেসা ৫/১১৫)। ফল: বাংলাদেশ ইনিংস ও ১০৬ রানে জয়ী। প্লেয়ার অব দ্য ম্যাচ ও সিরিজ: মেহেদী হাসান মিরাজ (বাংলাদেশ, ১১৬ রান ও ১৫ উইকেট)। সিরিজ: ২ ম্যাচের সিরিজ ১-১-এ ড্র।










