ফিফা বিশ্বকাপ-২০২৬ এর বাছাইপর্বে চারদিনের ব্যবধানে দুটি বড় প্রতিপক্ষের মুখোমুখি বর্তমান বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন ও লাতিন অঞ্চলের টেবিল টপার আর্জেন্টিনা। শনিবার ভোর সাড়ে ৫টায় মন্টিভিডিওতে স্বাগতিক উরুগুয়ের বিপক্ষে খেলতে নামছে আর্জেন্টিনা। এর চারদিন পর বুধবার ভোরে বুয়েন্স আয়ার্সে আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল মহারণ।

যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোয় অনুষ্ঠেয় আসরের বাছাইপর্ব চলছে। লাতিন অঞ্চলে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে ১০টি দল, বাকি আছে আর ছয় রাউন্ড। শীর্ষ চারটি স্থানে রয়েছে আর্জেন্টিনা (২৫ পয়েন্ট), উরুগুয়ে (২০ পয়েন্ট), একুয়েডর (১৯ পয়েন্ট), কলম্বিয়া (১৯ পয়েন্ট) ও ব্রাজিল (১৮ পয়েন্ট)। এমন পরিস্থিতিতে দুই রাউন্ডের খেলা হবে যথাক্রমে ২০, ২১ ও ২৫ মার্চ।

শুক্রবার মাঠে নামছে টেবিলের পাঁচে থাকা ব্রাজিল। ভোর ৬টা ৪৫ মিনিটে কলম্বিয়ার মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। একই দিন ভোর ৫টায় প্যারাগুয়ের প্রতিপক্ষ চিলি ও সকাল সাড়ে ৭টায় মুখোমুখি হবে পেরু-বলিভিয়া।

পরদিন ভোর সাড়ে ৫টায় হাইভোল্টেজ ম্যাচে লড়বে উরুগুয়ে ও আর্জেন্টিনা। এছাড়া ভোর ৩টায় মুখোমুখি হবে একুয়েডর ভেনেজুয়েলা।

লাতিন অঞ্চলে আর্জেন্টিনা শীর্ষে থাকলেও চিত্রটা দ্রুত পাল্টে যেতে পারে, কারণ তাদের পরের দুটি ম্যাচই কঠিন। আর্জেন্টিনা দুই ম্যাচে হারলে শীর্ষে ওঠার সুযোগ আছে উরুগুয়ের। সেক্ষেত্রে তাদের দুটি ম্যাচেই জিততে হবে। আবার ব্রাজিলও টানা দুই জয়ে উঠে আসতে পারে শীর্ষ তিনের মধ্যে। কাজেই সামনের একটি সপ্তাহ লাতিন অঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তৃতীয় রাউন্ডের পর থেকেই শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে আর্জেন্টিনা। যদিও কোপা আমেরিকা জয়ের পর বাছাইপর্বে দুটি ম্যাচ হেরে বসে লিওনেল মেসিদের আর্জেন্টিনা। কলম্বিয়া ও প্যারাগুয়ের কাছে হেরেছে তারা। এছাড়া ভেনেজুয়েলার সঙ্গেও পয়েন্ট হারায় আলবিসেস্তেরা। এই তিনটি ম্যাচই ছিল অন্যের মাঠে। এরপরেও পাঁচ পয়েন্টের লিড নিয়ে টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে বর্তমান লাতিন ও বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। সপ্তম স্থানে থাকা বলিভিয়ার পক্ষে সর্বোচ্চ ৩১ পয়েন্ট অর্জন করা সম্ভব। আর্জেন্টিনাকে তাই সরাসরি বিশ্বকাপে যেতে বাকি ১৮ পয়েন্টের মধ্যে সাত পয়েন্ট পেতে হবে। কাজটা কঠিন না হলেও সমস্যা হলো তাদের পরের দুই প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও ব্রাজিল তাদের অপেক্ষা বাড়াতে পারে।

অবশ্য লাতিন অঞ্চলের দলগুলোর জন্য কাজটা এবার অপেক্ষাকৃত সহজ। এই অঞ্চল থেকে ছয়টি দল সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট পাবে। সপ্তম দলটি প্লে-অফ খেলে বিশ্বকাপে ওঠার সুযোগ পাবে।