মরক্কোর হারিয়ে কাতার বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিল
ফ্রান্স। গতকাল আল বাইত স্টেডিয়ামে আফ্রিকান দলটিকে ২-০ গোলে হারিয়ে দেয় বর্তমান
চ্যাম্পিয়নরা। রোববার ফাইনালে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হবে ব্লুজরা।
এ নিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠল
ফ্রান্স। সর্বশেষ এ কীর্তি আছে ব্রাজিলের (১৯৯৪, ১৯৯৮ ও ২০০২)। এখন ফরাসিদের সামনে তৃতীয় দল হিসেবে টানা
দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জয়ের হাতছানি। ১৯৬২ সালে ব্রাজিল ও ১৯৩৮ সালে এ কীর্তি গড়ে
ইতালি।
ফ্রান্সের কাছে হারলেও আজ ফুটবল অনুরাগীদের হূদয় জয় করে নেয়
মরক্কো। বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের বিপক্ষে ৬১ শতাংশ বল দখলে রাখে সাহসী মরক্কো! এমনকি ফ্রান্সের তারকাদের ১৪ শটের বিপরীতে আফ্রিকানরা শট
নিয়েছে ১৩টি। মরক্কোর দুটি শট ছিল টার্গেটে, আর ফরাসিদের
তিনটি, যার মধ্যে দুটি গোল হয়েছে।
পঞ্চম মিনিটে থিও হার্নান্দেজের গোলে লিড নেয় ফ্রান্স।
আতোয়াঁ গ্রিজম্যান ডানপ্রান্ত থেকে এমবাপ্পেকে কাট ব্যাক করলে তিনি কয়েকবার শট
নেয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় বল মরক্কোর ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে চলে যায় থিও হার্নান্দেজের
কাছে। এই লেফট ব্যাক অ্যাক্রোবেটিক ভলিতে দুরূহ কোন থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন। চলতি
বিশ্বকাপে এই প্রথম প্রতিপক্ষের কোনো খেলোয়াড় মরক্কোকে গোল দিতে সমর্থ হলো।
৪ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডে গোল! ১৯৫৮ বিশ্বকাপের
পর সেমিফাইনালে এটাই দ্রুততম গোল। সর্বশেষ ফ্রান্সের বিপক্ষে ৫-২ গোলে জয়ের পথে
দ্বিতীয় মিনিটে গোল করেছিলেন ব্রাজিলের ভাভা।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে দারুণ চাপ তৈরি করে মরক্কো। প্রথম
মিনিটে হাকিম জিয়েশের কর্নারের বল ধরে ফেলেন লরিস। তৃতীয় মিনিটে ফ্রিকিকের বলে
হাকিম শট নিলে তা সেভ করেন লরিস।
দ্বিতীয়ার্ধেও দারুণভাবে ফিসে আসে মরক্কো। এ সময় তারা
ফ্রান্সের গোলমুখে একের পর এক আক্রমণে গেলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোলবঞ্চিত হতে থাকে।
ইউসেফ এন-নেসিরি, হাকিম জিয়েশরা
প্রাণান্ত চেষ্টা করেও লক্ষ্যভেদ করতে পারছিলেন না কিছুতেই। কখনো বারে লেগে, কখনো ফরাসি ডিফেন্ডারে গায়ে-পায়ে লেগে বল
ফিরে এসে তাদের হতাশ করতে থাকে। এরই মধ্যে ৭৯ মিনিটে দ্বিতীয় গোল পেয়ে যায়
ফ্রান্স। মাঠে নামার ৪৪ সেকেন্ডেই গোল করেন এনট্র্যাখট ফ্রাংকফুর্ট ফরোয়ার্ড কোলো
মুয়ানি।
তবে হারলেও এখনই বাড়ি ফিরছে না অ্যাটলাস লায়ন্সরা। শনিবার
তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ক্রোয়েশিয়ার মুখোমুখি হবে তারা।










