দেশের ফুটবলের পাইপলাইনকে শক্তিশালী ও মজবুত করার লক্ষ্যে তৃণমূলের ফুটবলারদের নিয়ে কাজ করে থাকে প্রিমিয়ার লিগের অন্যতম দল সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। এ কাজকে আরো বেগবান করতে ক্লাবটির নজর এখন দ্বিতীয় বিভাগের দল গঠনের দিকে। গত ৬ জুন তৃণমূলের ফুটবলারদের নিয়ে ট্যালেন্ট হান্ট কার্যক্রম শুরু করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। প্রথম ধাপের বাছাই শেষে ১০ জুন দ্বিতীয় ধাপের বাছাই প্রক্রিয়াও সম্পন্ন হয়। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই বাছাইয়ের শেষ ধাপ সম্পন্ন হওয়ার কথা।

কমলাপুর শহীদ সিপাহী বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত বাছাই পর্বের দ্বিতীয় ধাপে সারা দেশ থেকে মোট ২২১ জন কিশোর ফুটবলার অংশ নেন। সেখান থেকে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ৫০ জনকে প্রাথমিকভাবে নির্বাচিত করেন সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব কর্মকর্তারা। এর আগে প্রথম ধাপে নির্বাচিত হন ৩৭ জন। দুই ধাপ মিলিয়ে বাছাই করা হয় মোট ৮৭ জনকে। বাছাইকৃত খেলোয়াড়দের মধ্য থেকে চূড়ান্ত বাছাইয়ে ৩০-৩৫ জন খেলোয়াড় রেখে দেয়ার কথা জানিয়েছেন সাইফ স্পোর্টিং জুনিয়র দলের প্রধান কোচ সাইফুর রহমান মণি।

জাতীয় দলের সাবেক তারকা ফুটবলার মণির তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এ হান্টিং কার্যক্রমে সহকারী কোচ হিসেবে আছেন আরো দুজন—সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব সিনিয়র দলের ম্যানেজার শাহেদ এবং গোলরক্ষক কোচ পান্নু।

শুক্রবার বিভিন্ন পর্যায়ে ট্রেনিং সেশনে অংশ নেন খেলোয়াড়রা। ট্যালেন্ট হান্টে অংশ নেয়া ফুটবলাররা দুই দলে ভাগ হয়ে পরস্পরের বিপক্ষে লড়াইয়ে নামেন। কয়েক ধাপে খেলোয়াড়দের দিয়ে প্রস্তুতি ম্যাচ খেলানো হয়। পর্যবেক্ষণ করা হয় তাদের ম্যাচ ফিটনেস, বলে টেকনিক ও ট্যাকটিসের পরীক্ষা। সকাল ৮টায় শুরু হওয়া ট্যালেন্ট হান্ট কার্যক্রম শেষ হয় দুপুর সাড়ে ১২টায়। মাঠে উপস্থিত থেকে সাইফ জুনিয়র দলের ট্যালেন্ট হান্ট কার্যক্রম প্রত্যক্ষ করেন ও পরামর্শ দেন ক্লাবটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক শেখ মোহাম্মদ মারুফ হাসান। তিনি বলেন, বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে প্রত্যন্ত অঞ্চলে অনেক খেলোয়াড় লুকিয়ে রয়েছে। হয়তো তারা সুযোগের অভাবে তাদের নির্দিষ্ট জায়গায় যেতে পারেনি। সে কারণে আমি জুনিয়র টিমের জন্য কেন্দ্রীয়ভাবে হান্টিংয়ের ব্যবস্থা করেছি। ফুটবলে পাইপলাইন তৈরি করাই আমার প্রধান উদ্দেশ্য। পাইপলাইনে আমাদের খেলোয়াড় নেই। এ পাইপলাইনটা যদি আমরা তৈরি করতে পারি, তাহলে বাংলাদেশের ফুটবলের উন্নতি হবে।