ওয়ানডে
কিংবা টি২০ ক্রিকেটের টানটান উত্তেজনাই আজ ফিরে এলো নিউজিল্যান্ড ও শ্রীলংকার মধ্যকার
ক্রাইস্টচার্চ টেস্টে। পঞ্চম দিন শেষ
বলে অতিথি শ্রীলংকাকে হারাল নিউজিল্যান্ড! ২৮৫ রানের টার্গেটটা তারা ছুঁয়েছে মাত্র
দুই উইকেট হাতে রেখে।
সর্বশেষ টেস্টে
ইতিহাসের চতুর্থ দল হিসেবে ফলো-অনে পড়েও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টেস্ট জয়ের কৃতিত্ব
দেখায় নিউজিল্যান্ড। এবার তারা আরেক থ্রিলার লিখে টেস্ট জিতল। আজ চার উইকেট হাতে
নিয়ে শেষ ১২ বলে প্রয়োজন পড়ে ১৫ রান। এরপর দুই উইকটে হারিয়ে শেষ বলে গিয়ে জয়ের
সমীকরণ মেলাতে পেরেছেন উইলিয়ামসনরা।
১৭ ওভারে ২৮ রান
তুলে চতুর্থ দিন মাঠ ছাড়ে কিউইরা। আজ শেষ দিন তাদের জিততে প্রয়োজন ছিল ২৫৭ রান।
সকালে বৃষ্টির বাগড়ায় প্রথম সেশনে কোনো খেলা মাঠে গড়ায়নি। তাতে নিউজিল্যান্ডের
উৎকন্ঠা বাড়ে। যদিও দ্বিতীয় সেশনে কেন উইলিয়ামসন (১৯৪ বলে ১২১*) ও ড্যারিল মিচেলের
(৮৬ বলে ৮১*) ওয়ানডে মেজাজের ব্যাটিং কিউইদের জয়ের সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখে। এই দুজন
১৫৭ বল খেলে বোর্ডে ১৪২ রান যোগ করেন।
লংকানরাও হাল
ছাড়ছিল না। দিনের শেষ তিন ওভারে স্বাগতিকদের তিন উইকেট তুলে নেয় অতিথিরা। মাইকেল
ব্রেসওয়েল, টিম সাউদি ও ম্যাট হেনরি সাজঘরে ফিরে গেলে বেসিন রিজার্ভে চরম নাটকীয়তা
তৈরি হয়। শেষ ওভারে লাগতো ৮ রান। একটি সময় স্কোর সমতায় পৌঁছলে শেষ বলে প্রয়োজন পড়ে
এক রানের। স্ট্রাইকিং প্রান্তে উইলিয়ামসন। বোলিংয়ে আসিথা ফার্নান্দো। পুল করতে
গিয়ে ব্যর্থ হলেও রানের জন্য ছুটছিলেন উইলিয়ামসন ও তার সঙ্গী নেইল ওয়াগনার। নন
স্ট্রাইক প্রান্তে সরাসরি থ্রোতে বল লেগে যায় স্ট্যাম্পে। যদিও ততক্ষণে নিরাপদে
পৌঁছে যান উইলিয়ামসন।
রিপ্লেতে দেখা
গেল, রানআউট হননি উইলিয়ামসন। কিউইদের সাবেক অধিনায়ক তখন আলিঙ্গনে বাধেন ওয়াগনারকে।
‘বাই’ হিসেবে পাওয়া এই এক রানে জয় নিশ্চিত হয়ে যায় নিউজিল্যান্ডের। আর তীরে এসে
তরি ডোবায় লংকানরা হতাশায় ন্যুয়ে পড়ে।
উইলিয়ামসনের
বীরত্বের পরও ম্যাচসেরা হয়েছেন ড্যারিল মিচেল। প্রথম ইনিংসে ১০২ ও দ্বিতীয় ইনিংসে
লড়াকু ৮১ রান তাকে সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার এনে দেয়।
১৭ মার্চ ওয়েলিংটনে শুরু হবে সিরিজের দ্বিতীয়
ও শেষ টেস্ট।










