অবিশ্বাস্য এক অধ্যায়ের সমাপ্তিরেখা টেনে দিচ্ছেন । জার্মান ফুটবল গ্রেট বায়ার্ন মিউনিখে তার ২৫ বছরের বর্ণিল পথচলা থামিয়ে দিচ্ছেন চলতি মৌসুম শেষে।
বায়ার্নের একাডেমিতে বেড়ে ওঠার পর ২০০৮ সালে বাভারিয়ানদের সিনিয়র দলে অভিষেক মুলারের। যদিও মুলারকে বিশ্ব চিনে যায় তার দুই বছর পর। দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত ফিফা বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা হিসেবে গোল্ডেন বুট জয় করেন ১৯ বছরের মুলার। এরপর ক্রমেই মুলার পরিণত হতে থাকেন। বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুট জয়ের চার বছর পর ২০১৪ সালে বিশ্বকাপও জিতে নেন। ব্রাজিলের মাটিতে ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে শিরোপা জয় করে মুলারের দেশ জার্মানি।
‘আজীবনের ক্লাব’ বায়ার্নের জার্সিতে মোট ৩৩টি শিরোপা জিতেছেন। এর মধ্যে জার্মান বুন্দেসলিগা শিরোপাই ১২টি। এছাড়া চ্যাম্পিয়নস লিগ দুটি। যদিও সাম্প্রতিক মৌসুমগুলোতে তিনি নিয়মিত খেলার সুযোগ পেতেন না। চলতি মৌসুমে ২৪ ম্যাচ খেলে মাত্র একটি গোল করেছেন। এর মধ্যে মাত্র আট ম্যাচে তিনি মূল একাদশে সুযোগ পান। দলে নিজের গুরুত্ব কমছে বুঝতে পেরেই সরে যাচ্ছেন ৩৫ বছর বয়সী মুলার।
বায়ার্ন ছাড়ার ঘোষণায় মুলার বলেন, ‘এটা পরিষ্কার যে আজকের দিনটি আমার জন্য অন্যদিনের মতো নয়। এ গ্রীষ্মেই বায়ার্নে আমার ২৫ বছরের অধ্যায়ের শেষ হবে। এটা ছিল অবিশ্বাস্য এক জার্নি, অনন্য অভিজ্ঞতা, বড় বড় অনেক লড়াই আর অবিস্মরণীয় সব ট্রফিতে ভরা এ অধ্যায়।’
২০০০ সালে ১১ বছর বয়সে বায়ার্নের একাডেমিতে যোগ দেন মুলার। ২০০৮ সালে ইয়ুর্গেন ক্লিন্সম্যানের অধীনে বায়ার্নে অভিষেক ঘটে তার। সেই থেকে তিনি ক্লাব রেকর্ড ৭৪৩ ম্যাচ খেলে করেছেন ২৪৭ গোল। বায়ার্নের ইতিহাসে তার চেয়ে বেশি গোল আছে আর মাত্র দুজনের।
বায়ার্নের জার্সিতে এত ম্যাচ খেলা নিয়ে মুলার বলেন, ‘আমি এতটাই গৌরব আর আনন্দ অনুভব করেছি যে ভালোবাসার এ ক্লাবেই সারা জীবন খেলে গেছি। এ ক্লাব ও সমর্থকদের সঙ্গে অবিশ্বাস্য যোগাযোগ অটুট থাকবে। বিদায়ের ঘোষণায় আমি বলতে চাই—আমরা একসঙ্গে শিরোপা উদযাপন করব আর সারা জীবন এই স্মৃতি রোমন্থন করব।’
মুলারের নামের পাশে যোগ হতে পারে আরো শিরোপা। বুন্দেসলিগায় পয়েন্ট টেবিলে বায়ার্নই শীর্ষে। এছাড়া উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল খেলবে ইতালির ইন্টার মিলানের বিপক্ষে। এ নিয়ে মুলার বলেন, ‘সামনের দিনগুলোতে আমরা আমাদের সর্বোচ্চটুকু দিয়ে খেলব এবং লিগ শিরোপা নিয়ে আসব মিউনিখে। আর উঠতে চাই চ্যাম্পিয়নস লিগে। আসুন, সবাই একসঙ্গে লড়ি।’
বায়ার্ন জানিয়েছে, ক্লাবটির হয়ে মুলারের শেষ অধ্যায় হবে আগামী জুন ও জুলাইয়ের ফিফা ক্লাব বিশ্বকাপ। ক্লাব প্রেসিডেন্ট হার্বার্ট হাইনার বলেন, ‘টমাস মুলারের ক্যারিয়ারটা হলো বাভারিয়ান রূপকথা। তার বেড়ে ওঠা বাভারিয়ায়, খেলেছেন বায়ার্নে। তার মতো এত বেশি বুন্দেসলিগা শিরোপা কেউ জেতেনি, ৩৩টি শিরোপাও তার হয়ে কথা বলবে। এফসি বায়ার্ন মিউনিখের ইতিহাসে অন্যতম সেরা ব্যক্তিত্ব হলেন টমাস মুলার।’
বায়ার্নের ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেন শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে বলেছেন, ‘কিংবদন্তির সংজ্ঞা হলেন মুলার। দুই বছর তার সঙ্গে খেলাটা ছিল আমার জন্য সৌভাগ্যের। চলো একসঙ্গে দারুণ এক সমাপ্তি টানি।’










