গ্রুপ পর্ব শেষে ইতোমধ্যে ষোলটি দল উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নকআউট পর্ব নিশ্চিত করেছে। আজ উয়েফার হেডকোয়ার্টার সুইজারল্যান্ডের নিয়নে অনুষ্ঠিত হবে শেষ ষোলোর ড্র। সবচেয়ে চমকপ্রদ হলো বার্সেলোনাকে ছাড়াই হবে এবারের ড্র। যে দৃশ্য গত ২০ বছরেও দেখা যায়নি ইউরোপের সেরা মঞ্চে।

এবার সর্বোচ্চ ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের চারটি ক্লাব শেষ ষোলোয় জায়গা করেছে। স্প্যানিশ ক্লাব তিনটি। ফ্রান্স, ইতালি ও পর্তুগালের দুটি ক্লাব। জার্মানি, নেদারল্যান্ডস ও অস্ট্রিয়ার একটি করে ক্লাব নকআউটের টিকিট কাটে।

তবে এবার বিদায় নিতে হয়েছে বার্সেলোনা, সেভিয়া, এসি মিলান, বরুশিয়া ডর্টমুন্ড, আরবি লাইপজিগ, আটালান্টা ও পোর্তোর মতো শক্তিশালী দলগুলোকে। অথচ গত মৌসুমে এসি মিলান ছাড়া বাকি ছয় দলই চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শেষ ষোলোয় খেলেছিল। এবার চমকে দিয়ে সে জায়গাগুলো দখল করে নিয়েছে বেনফিকা, স্পোর্টিং সিপি, সালসবুর্গ, ভিয়ারিয়াল ও লিলের মতো দলগুলো।

আটটি গ্রুপের মধ্যে মাত্র তিনটি ক্লাব গ্রুপ পর্বে নিজেদের সবক’টি (ছয়টি) ম্যাচ জিতে নকআউট পর্বে জায়গা করে। ‘বি’ গ্রুপের ‘মৃত্যকূপ’ থেকে এসি মিলান, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ ও পোর্তোকে হারিয়ে ১৮ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয় লিভারপুল। ‘সি’ গ্রুপে ডাচ ক্লাব আয়াক্সও জিতেছে সবগুলো ম্যাচ। ‘ই’ গ্রুপে বায়ার্ন মিউনিখতো অন্য দলগুলোকে একইবারে বিধ্বস্ত করে উঠেছে শেষ ষোলোয়। ছয় ম্যাচে পূর্ণ ১৮ পয়েন্ট, সাথে ২২টি গোল প্রতিপক্ষের জালে। যা চলতি মৌসুমে গ্রুপ পর্বে কোনো ক্লাবের সবচেয়ে বেশি গোল। লিভারপুলের গোল সংখ্যা ১৯টি। তবে সবচেয়ে হাতাশার নামা বার্সেলোনা। বায়ার্ন মিউনিখের কাছে দুই লেগে হেরেছে একই ব্যবধানে (৩-০) তে। বেনফিকার মাঠে প্রথম দেখায় ৩-০ তে হার এবং ফিরতি দেখায় ঘরের মাঠে গোলশূন্য ড্র-তেই কপাল পুড়ে বার্সার। ডায়নামো কিয়েভের বিপক্ষে দুই দেখাতেই ১-০ গোলে জিতলেও তা নকআউটের জন্য যথেষ্ট ছিল না। দুটি করে জয়, ড্র ও হারে ৮ পয়েন্ট নিয়ে ‘ই’ গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ ষোলোতে পা রাখে বেনফিকা। অপরদিকে বার্সা তিন হার, দুই জয় ও এক ড্র’তে ৭ পয়েন্ট নিয়ে তিনে থেকে বিদায় নিতে হয়েছে। বায়ার্ন, আয়াক্স, লিভাপুলের সাথে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে রিয়াল, ম্যানসিটি, ম্যানইউ, জুভেন্টাস ও লিলে।

নকআউটে নির্ধারিত সময়ের খেলা শেষে দুই পর্বে মিলিয়ে যে দল গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকবে, তারা কোয়ার্টারে জায়গা করে নেবে। যদি গোল সংখ্যা সমান হয়, তবে হোম ও অ্যাওয়ে গোলের ভিত্তিতে শেষ আটে জায়গা করতে পারবে। এতেও যদি ফলাফল না হয়, তাহলে অতিরিক্ত ৩০ মিনিট খেলতে হবে দলগুলোকে। তাতেও যদি খেলা টাই হয়ে থাকে. তবে পেনাল্টি শুট আউটের মাধ্যমে খেলার নিষ্পত্তি হবে।

গ্রুপ পর্বে সেবাস্তিয়েন হালার সর্বোচ্চ ১০টি গোল করেন আয়াক্সের হয়ে। বায়ার্নের রবের্ত লেভানদোভস্কি করেছেন নয়টি গোল।

আগামী বছর ফেব্রুয়ারির ১৫, ১৬, ২২ ও ২৩ তারিখে প্রথম পর্বের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। দ্বিতীয় পর্বের ম্যাচগুলো হবে মার্চের ৮, ৯, ১৫ ও ১৬ তারিখে। ১৮ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে কোয়ার্টার ফাইনালের ড্র।

শেষ ষোলোয় যারা- ম্যানচেস্টার সিটি, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, লিভারপুল, চেলসি (ইংল্যান্ড), রিয়াল মাদ্রিদ, অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদ. ভিয়ারিয়াল (স্পেন), প্যারিস সেন্ট জার্মেই, লিলে (ফ্রান্স), জুভেন্টাস, ইন্টার মিলান (ইতালি), বেনফিকা, স্পোর্টিং সিপি (পর্তুগাল), বায়ার্ন মিউনিখ (জার্মানি), আয়াক্স (নেদারল্যান্ডস), সালসবুর্গ (অস্ট্রিয়া)।