২০২৪ সালে একমাত্র আইসিসি টুর্নামেন্ট ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ আসর। বিশ্বকাপ মানেই আরেকবার দক্ষিণ আফ্রিকার স্বপ্নভঙ্গের বিদায়। জমজমাট ফাইনালে প্রোটিয়াদের ৭ রানে হারিয়ে ২০০৭ সালের পর আবারো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয় করার কৃতিত্ব দেখায় ভারত। ক্রিকেটে বহু নাটকীয়তা, রোমাঞ্চকর ঘটনার অবতারণা হলেও এবারের আলোচিত ঘটনা ছিল ভারতের বিশ্ব জয়। ভারতের দ্বিতীয়বারের মতো টি-টোয়েন্টির মুকুট পরার এই বছরে বাংলাদেশের ছিল অম্ল-মধুর স্মৃতি।

২০২৪ সালে মোট দশটি টেস্ট খেলে বাংলাদেশের জয় এসেছে তিনটি এবং তিনটিই বিদেশের মাটিতে! আগস্ট-সেপ্টেম্বরে রাওয়ালপিন্ডিতে পাকিস্তানের বিপক্ষে ঐতিহাসিক দুটি টেস্ট ম্যাচ জিতে নেয় বাংলাদেশ। ওই সফরের আগে ঘরের মাঠে কিংবা পাকিস্তানের মাঠে কখনো দেশটির বিপক্ষে টেস্ট জেতেনি টাইগাররা। অথচ এবার পরপর দুই ম্যাচে জয়লাভ করার কীর্তি গড়ে নাজমুল হোসেন শান্তর দল। এরপর বিজয়ের মাস ডিসেম্বরে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে টেস্ট জয়ের কৃতিত্ব দেখায় খর্বশক্তির বাংলাদেশ দল। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত ও দলের সবচেয়ে অভিজ্ঞ খেলোয়াড় মুশফিকুর রহিমকে ছাড়াই ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে খেলতে যায় বাংলাদেশ। অ্যান্টিগায় প্রথম টেস্ট হারলেও জ্যামাইকায় দলগত নৈপুন্য দেখিয়ে জয় তুলে নেয় মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

২০২৪ সালে বাংলাদেশ হেরেছে বাকি সাতটি টেস্ট ম্যাচ। ঘরের মাঠে শ্রীলংকা ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে দুটি করে এবং ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে একটি ম্যাচ হেরেছে টাইগাররা।

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের বছরে ওয়ানডে খুব বেশি খেলেনি বাংলাদেশ। এ বছর মোট নয়টি ম্যাচ খেলে জয় মাত্র তিনটি, বাকি ছয়টিতে ছিল হার। সর্বশেষ ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরে তিন ম্যাচের সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় মিরাজের নেতৃত্বাধীন দল। ওয়েস্ট ইন্ডিজ সফরের আগেই সংযুক্ত আরব আমিরাতের মাঠে আফগানিস্তানের কাছে ২-১-এ সিরিজ হেরেছে টাইগাররা। এর বাইরে চলতি বছর আর একটি ওয়ানডে সিরিজ খেলেছে তারা। মার্চের সেই হোম সিরিজে চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত তিন ম্যাচের দুটিতে জিতেছে বাংলাদেশ, সিংহলিজরা জিতেছে একটি। সিরিজের হিসেবে তিনটি খেলে দুটিতে হেরেছে বাংলাদেশ, জিতেছে একটিতে।

এ বছর ২৪টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর মধ্যে বাংলাদেশ জিতেছে ১২টি, হারও সমান ১২টিতে। যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে উঠলেও সেখানে সুবিধা করতে পারেনি বাংলাদেশ। সুপার এইটে তিন ম্যাচ খেলে তিনটিতেই হেরে বিদায় নিতে হয় শান্তর দলকে। অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও আফগানিস্তান হারিয়ে দেয় বাংলাদেশকে। বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের মাঠে ২-১-এ সিরিজ হেরে লজ্জায় ডুবেছে বাংলাদেশ দল। যদিও সেই হারের প্রভাব বিশ্বকাপে পড়তে দেয়নি টাইগাররা।

series win

ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয়। ছবি: ক্রিকেট ওয়েস্ট ইন্ডিজ

সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের মাঠে ৩-০তে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতে দারুণভাবে বছর শেষ করে টাইগাররা। টেস্ট সিরিজ ড্র করার পর ওয়ানডে সিরিজে ভরাডুবি ঘটে বাংলাদেশের। সেই ধ্বংসস্তুপ থেকে উঠে দাঁড়িয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে পরাশক্তি ওয়েস্ট ইন্ডিজকে হারিয়ে চমক দেখায় বাংলাদেশ।

বাংলাদেশের নারীরা এ বছর ছয়টি ওয়ানডে খেলে তিনটিতে জিতেছে, সমান তিনটিতে হার। নভেম্বর ও ডিসেম্বরে মিরপুরে তিন ম্যাচের সিরিজে আইরিশ নারীদের হোয়াইটওয়াশ করে নিগার সুলতানা জ্যোতির দল। এরপর অবশ্য সিলেটে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে হোয়াইটওয়াশ হয় বাংলাদেশের নারীরা। এছাড়া মার্চে অস্ট্রেলিয়ার কাছে তিন ম্যাচের হোম সিরিজে সবগুলোতেই হেরেছে নিগার ও তার দল।

এ বছর ১৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলে নিগাররা জিতেছে মাত্র তিনটি! অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৩-০তে, ভারতের কাছে ৫-০তে ও আয়ারল্যান্ডের কাছে ৩-০তে সিরিজ হেরেছে ঘরের মাঠে। এ বছর আরব আমিরাতে অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে স্কটল্যান্ডকে হারালেও পরে টানা তিন ম্যাচ হেরে বিদায় নেয় নিগারের দল।

8082e63c-8d32-4d02-ae6c-3017d36ca4e2

যুবাদের এশিয়া কাপ জয়ের আনন্দ। ছবি: এসিসি

এ বছর ক্রিকেটে বাংলাদেশকে সবচেয়ে বড় উৎসবের উপলক্ষ্য এনে দিয়েছেন জুনিয়র ক্রিকেটাররা। গত ৮ ডিসেম্বর দুবাই ফাইনালে ভারতকে ৫৯ রানে হারিয়ে এসিসি অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ শিরোপা জয় করে বাংলাদেশের যুবারা। এটি টাইগার যুবাদের টানা দ্বিতীয় এশিয়ান মুকুট। যদিও সম্প্রতি মালয়েশিয়ায় অনুষ্ঠিত মেয়েদের অনূর্ধ্ব-১৯ এশিয়া কাপ ফাইনালে ভারতের কাছে হেরেছে বাংলাদেশের মেয়েরা।