অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার অ্যান্ড্রু সাইমন্ডস গত ১৪ মে কুইন্সল্যান্ডের হার্ভে রেঞ্জ পার্বত্য এলাকায় গাড়ি দূর্ঘটনায় নিহত হন। সেই জায়গাটি টাউন্সভিল শহর থেকে ৫০ কিলোমিটার দূরে। সাইমন্ডসের স্মৃতিবিজড়িত টাউন্সভিলে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ খেলছে অস্ট্রেলিয়া। টাউন্সভিলের টনি আয়ারল্যান্ড স্টেডিয়ামে আজ প্রথম ওয়ানডে ম্যাচ শুরুর আগে শ্রদ্ধা, ভালোবাসায় স্মরণ করা হয় সাবেক কৃতী অলরাউন্ডারকে। মাঠের চারিদিকে লেখা ছিল ‘রয়’ ও ‘৩৮৮’। রয় ছিল সাইমন্ডসের ডাকনাম, আর ‘৩৮৮’ তার টেস্ট ক্যাপের নম্বর। মাঠে তার ব্যবহূত ব্যাট, বল, ক্যাপ, মাছ ধরার বড়শিসহ অনেক কিছু মাঠে এনে রাখা হয়।
এ সময় সাইমন্ডসের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। খেলোয়াড়দের সঙ্গে মাঠে মাঠে নামেন সাইমন্ডসের দুই সন্তান ক্লোয়ে ও বিলি। এমনকি তারা দুজন অস্ট্রেলিয়ার দ্বাদশ খেলোয়াড়ের ভূমিকা পালন করে, বিরতির সময় তাদের পানি বহন করতেও দেখা যায়।
সাইমন্ডসের ‘ফেরা’র এই ম্যাচে হেসেখেলে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। ২৩ বছর বয়সী পেসার ক্যামেরন গ্রিনের তোপের মুখে ২০০ রানে অলআউট হয় প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ খেলতে যাওয়া জিম্বাবুয়ে। এছাড়া স্পিনার অ্যাডাম জাম্পা নেন তিনটি উইকেট। পেসার মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউড ও মিচেল মার্শ শক্ত বোলিং করে সফরকারীদের চাপে রাখেন। জিম্বাবুয়ের পক্ষে ওয়েসলে মাদেভেরে সর্বোচ্চ ৭২ রান করেন ৯১ বল মোকাবেলায়।
এরপর ডেভিড ওয়ার্নার (৬৬ বলে ৫৭), স্টিভেন স্মিথ (৮০ বলে ৪৮*) ও গ্লেন ম্যাক্সওয়েলের (৯ বলে ৩২*) ব্যাটে ভর করে ৯৯ বল হাতে রেখে ৫ উইকেটের জয় তুলে নেয় অস্ট্রেলিয়া। হার্ডহিটার ম্যাক্সওয়েল ৯ বলে ৩ ছক্কা ও ৩ চারের সাহায্যে ৩২ রান তুলে অস্ট্রেলিয়ার জয় ত্বরান্বিত করেন। একটি পর্যায়ে অস্ট্রেলিয়ার স্কোর ছিল ১৫৫/৫; তখন স্মিথ অপরাজিত ছিলেন ৪১ রানে। এরপর ম্যাক্সওয়েল ঝড়ে জিতে যায় অজিরা, তখন স্মিথ অপরাজিত ৪৮ রানে! রায়ান বার্ল ৬০ রানে তিনটি উইকেট নেন।
বুধবার ভোর ৫টা ৪০ মিনিটে একই মাঠে সিরিজের দ্বিতীয় ও শনিবার একই সময় একই মাঠে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে ২০০৪ সালের মে মাসে সবশেষ ও একমাত্র ওয়ানডে সিরিজ খেলে অস্ট্রেলিয়া ও জিম্বাবুয়ে। সেবার হারারেতে তিন ম্যাচের সিরিজ ৩-০ ব্যবধানে জিতেছিল অজিরা। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে এটি জিম্বাবুয়ের যেকোনো ফরম্যাটে প্রথম সিরিজ।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
জিম্বাবুয়ে: ৪৭.৩ ওভারে ২০০ (মাদেভেরে ৭২, মারুমানি ৪৫, চাকাভা ৩১; গ্রিন ৫/৩৩, জাম্পা ৩/৫৭)। অস্ট্রেলিয়া: ৩৩.৩ ওভারে ২০১/৫ (ওয়ার্নার ৫৭, স্মিথ ৪৮*, ম্যাক্সওয়েল ৩২*; রায়ার্ন বার্ল ৩/৬০)। ফল: অস্ট্রেলিয়া ৫ উইকেটে জয়ী। ম্যাচসেরা: ক্যামেরন গ্রিন (অস্ট্রেলিয়া)। সিরিজ: অস্ট্রেলিয়া ১-০তে এগিয়ে।










