কোনো মাপেই জেরার্ড পিকেকে গড়পড়তা মানের ফুটবলার বলার সুযোগ নেই। তিনি বিশ্বের অন্যতম সেরা সেন্টারব্যাক, যার ঝুলিতে আছে ৩৬টি শিরোপা। স্পেন জাতীয় দলের জার্সিতে জিতেছেন বিশ্বকাপ, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ আর অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপ।

পিকের মাঠের বাইরের ক্যারিয়ারও সমান বর্ণাঢ্য। কসমস হোল্ডিং, এসএলের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। ২০১৭ সালে যাত্রা করা এ কোম্পানির তিনি সিইও ও প্রেসিডেন্ট। অবশ্য উন্নতির পাশাপাশি ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে তিনি বিতর্কেও জড়িয়েছেন। বলা হচ্ছে, এর মাধ্যমে তিনি কখনো কখনো স্বার্থের সংঘাত তৈরি করেছেন।

সম্প্রতি স্প্যানিশ সুপার কাপ ম্যাচ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। চুক্তি অনুসারে, স্প্যানিশ সুপার কাপের লড়াই ২০১৯-২০ মৌসুমে অনুষ্ঠিত হয় সৌদি আরবে। করোনার কারণে ২০২০-২১ মৌসুমে আসরটি সৌদিতে হয়নি, স্পেনেই সম্পন্ন হয়। এবার সুপার কাপ আবারো অনুষ্ঠিত হয় সৌদি আরবের জেদ্দায়।

তিন বছরের চুক্তি হয়েছিল। চুক্তি অনুসারে, প্রতি বছর সৌদিতে সুপার কাপ আয়োজন করে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন (আরএএফএফ) ৮০ লাখ ইউরোর চেক হাতে পায়। বিশাল অর্থের হাতছানিতে উদ্দীপ্ত হয়েই কিনা ২০২৯ সাল পর্যন্ত স্প্যানিশ সুপার কাপ নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে চুক্তি করে রয়্যাল আন্দালুসিয়ান ফুটবল ফেডারেশন। এতে তাদের ২৭ কোটি ৪০ লাখ থেকে ৩৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার আয়ের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

স্প্যানিশ ফুটবলের এ আকর্ষণীয় চুক্তির সঙ্গে জড়িয়ে আছেন পিকে এবং এটি নিয়েই সম্প্রতি বিতর্কের ঝড় উঠেছে। পিকের কসমস ফুটবলই নাকি স্প্যানিশ সুপার কাপ সৌদি আরবে নিয়ে যেতে ভূমিকা রেখেছে। ‘এল কনফিডেনশিয়াল’ গোপন রেকর্ড ফাঁস করে দিয়ে জানিয়েছে, এই চুক্তিতে মধ্যস্থতা করায় চার বছরে ২৪ মিলিয়ন ইউরো পাবে পিকের কোম্পানি। যদিও স্বার্থের সংঘাতের প্রশ্ন উঠে আসায় এ বিষয়ে এখন চুপ রয়েছে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন।

স্বার্থের সংঘাত এজন্যই হচ্ছে যে টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণকারী অন্যতম দলের একজন খেলোয়াড় হয়েও এ টুর্নামেন্ট আয়োজনে স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ব্যবসায়িক চুক্তিতে উপনীত হয়েছেন পিকে।

অবশ্য পিকের নৈতিকতা কিংবা স্বার্থের সংঘাত নিয়ে প্রশ্ন ওঠা এই প্রথম নয়। ২০১৮ সালে অ্যান্ডোরা ক্লাব কেনেন তিনি, তার প্রেসিডেন্টও এ খেলোয়াড়। এ ক্লাব বর্তমানে খেলে তৃতীয় স্তরের প্রিমেরা আরএফইএফ লিগে। ক্লাবটি কেনার ক্ষেত্রেও অনিয়ম হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। বলা হচ্ছে, স্প্যানিশ ফুটবল ফেডারেশন প্রেসিডেন্ট লুইস রুবিয়ালেসের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক কাজে লাগিয়েই তিনি ক্লাবটি কিনতে সমর্থ হন।

বার্সা ও রাকুতেনের স্পন্সরশিপ চুক্তিতেও সম্পৃক্ত রয়েছেন পিকে। রাকুতেনের প্রতিষ্ঠান হিরোশি মিকিতানি আবার কসমস হোল্ডিংয়ের একাংশের মালিক। মার্কা