ক্লাবগুলো সাধারণত নতুন মৌসুম সামনে রেখে গ্রীষ্মকালীন দলবদলে বেশি ব্যয় করে পছন্দের স্কোয়াড তৈরিতে মন দেয়। যদিও কিছু ক্লাব স্কোয়াডের দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে প্রয়োজনে মধ্য মৌসুমের শীতকালীন দলবদলে বিশাল অঙ্ক বিনিয়োগ করে। এবার যেমন জুভেন্টাস, লিভারপুল ও বার্সেলোনা বড় অঙ্ক খরচ করে দল গোছানোর চেষ্টা করেছে।

৩১ জানুয়ারি শেষ হওয়া দলবদলে সর্বোচ্চ ব্যয় করেছে ইতালির জায়ান্ট জুভেন্টাস, যারা ফিওরেন্টিনা থেকে দাসুন ব্লাহোভিচকে কিনতেই ব্যয় করেছে ৯০ মিলিয়ন ডলার! তাকে কেনার কারণও স্পষ্ট। খেলোয়াড়টি ইতালির ফুটবলে গোলস্কোরিংয়ের নতুন রেকর্ড গড়েছেন। আর্সেনালও তাকে কিনতে চেষ্টা করেছে, যদিও খেলোয়াড়টির গন্তব্য ছিল শুধুই তুরিন।

পোর্তা থেকে কৃতী উইঙ্গার লুইস দিয়াসকে দলভুক্ত করেছে ইংলিশ ক্লাব লিভারপুল। এছাড়া ৬০.৫ মিলিয়ন ডলারের বড় অঙ্কে স্প্যানিশ ফরোয়ার্ড ফেরান তোরেসকে কিনেছে বার্সেলোনা। কাতালানরা আর্সেনাল থেকে পিয়েরে-এমারি অবামেয়াং ও অ্যাস্টন ভিলা থেকে  অ্যাডামা ট্রাওরেকে দলে ভিড়িয়েছে। এভারটন ছাড়তে চাইছিলেন ফরাসি ডিফেন্ডার লুকাস দিনিয়ে। ফলে তাকে অনেকটা কম মূল্যে পেয়েছে অ্যাস্টন ভিলা। শীর্ষ দশে দুবার এসেছে নিউক্যাসলের নাম। ম্যাগপাইদের নতুন মালিক ক্লাবকে অবনমন থেকে বাঁচাতে কিনেছেন ব্রুনো গিমারেস ও ক্রি উডকে।

আর্সেনাল থেকে গ্যাবনিজ স্ট্রাইকার অবামেয়াংকে ‘ফ্রি এজেন্ট’ হিসেবে বিনা ফিতেই পেয়েছে কাতালানরা। কৃতী গোলস্কোরারের সঙ্গে ২০২৫ সাল পর্যন্ত চুক্তি করেছে স্প্যানিশ জায়ান্টরা। যদিও ২০২৩ সালে চুক্তি বাতিল করার ‘অপশন’ রয়েছে। এ চুক্তির রিলিজ ক্লজ ১০০ মিলিয়ন ইউরো। এদিকে চুক্তি শেষ হওয়ার ১৮ মাস আগেই অবামেয়াং চলে যাওয়ায় তাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে ৭০ লাখ পাউন্ড দেবে আর্সেনাল। গানারদের হয়ে সপ্তাহে ৩ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড পারিশ্রমিক ছিল গ্যাবন জাতীয় দলের এই স্ট্রাইকারের।

ফরাসি স্ট্রাইকার ওসমান দেম্বেলে পিএসজিতে যেতে চেয়েও শেষ পর্যন্ত পারেননি। ফলে অবামেয়াংকে অনেক কম বেতনে বার্সায় সই করতে হয়েছে। যদিও পরের মৌসুমে বাড়তি পারিশ্রমিক পাবেন তিনি।

আর্সেনালের জার্সিতে ১৬৩ ম্যাচে ৯২ গোল করেছেন অবামেয়াং। যদিও শৃঙ্খলার কারণে গত ডিসেম্বর থেকে তিনি গানারদের হয়ে খেলছেন না। বার্সার সঙ্গে চুক্তি সইয়ের পর তিনি বলেছেন, আমি খুবই আনন্দিত। চেষ্টা করব এই ক্লাবটিকে চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরিয়ে নিতে।

এছাড়া বার্সেলোনা একাডেমি ‘লা মাসিয়া’র তৈরি ফরোয়ার্ড অ্যাডামা ট্রাওরে সাত বছর ইংল্যান্ডের ক্লাব অ্যাস্টন ভিলায় কাটিয়ে ফিরেছেন শৈশবের ক্লাবে। বার্সায় ফিরে আনন্দিত এই খেলোয়াড় বলেন, সাত বছর দূরে ছিলাম, এখন নিজের সর্বোচ্চটা দিয়ে বার্সা সমর্থকদের খুশি রাখার চেষ্টা করব। ঘরে ফিরতে পেরে আমি আনন্দিত। আশা করি, রোববার (অ্যাতলেটিকোর বিপক্ষে ম্যাচ) আমি নিজের মেধার স্বাক্ষর রাখতে পারব।

অ্যাস্টন ভিলা থেকে ধার চুক্তিতে বার্সেলোনায় নাম লেখানো ট্রাওরে নতুন ক্লাবে খেলবেন ১১ নম্বর জার্সি পরে।

এদিকে, গত ৩১ জানুয়ারি শেষ হওয়া শীতকালীন দলবদলে ইতিহাসের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৯৫ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো। এ সময় সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে টটেনহাম। ২০১৮ সালের শীতে সর্বোচ্চ ৪৩০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয়ের রেকর্ড হয়েছিল। প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলো ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মাত্র ৭০ মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করে, যা কিনা এবারের শেষ দিনের ব্যয়ের চেয়েও ১০ মিলিয়ন পাউন্ড কম।

দর্শকরা মাঠে ফেরার অনুমতি পাওয়ায় এখন ক্লাবগুলোর আয় বাড়ছে, তাতে ব্যয় করার সক্ষমতাও তৈরি হচ্ছে। প্রিমিয়ার লিগের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেক করেছে তলানির পাঁচটি ক্লাব। এরা হলো এভারটন, নরউইচ, নিউক্যাসল, ওয়াটফোর্ড ও বার্নলে। অথচ গত বছর তলানির পাঁচটি দল ব্যয় করেছিল মাত্র ৫ মিলিয়ন পাউন্ড।

ডেলোয়েটের সহযোগী ও স্পোর্টস বিজনেস গ্রুপের প্রধান ড্যান জোনস বলেন, এ ট্রান্সফার উইন্ডো এটাই প্রমাণ করছে যে প্রিমিয়ার লিগের ওপর কভিডের আর্থিক চাপ ধীরে ধীরে প্রশমিত হচ্ছে এবং মহামারী-পূর্ব অবস্থার মতোই শীতের ব্যয়ের কাছাকাছি পৌঁছে গেছে, যা কিনা ইতিহাসে সর্বোচ্চ কয়েকটির একটি।

এ শীতে ইউরোপের অন্য চারটি বড় লিগ মিলে ব্যয় করেছে ৩৮০ মিলিয়ন ইউরো (৩১৭ মিলিয়ন পাউন্ড), যা কিনা প্রিমিয়ার লিগ ও ইংলিশ ফুটবল লিগের সম্মিলিত ব্যয়ের চেয়ে মাত্র ২ মিলিয়ন বেশি।

প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোর নেট ব্যয় (ক্রয় ব্যয় থেকে আয় বাদ দিলে) ১৮০ মিলিয়ন পাউন্ড, যা ২০০৩ সালে শীতকালীন দলবদল চালুর পর সর্বোচ্চ। বিবিসি, স্পোর্টিংনিউজ