টেনিস সুপারস্টার নোভাক জোকোভিচের সম্পত্তি রয়েছে জন্মভূমি সার্বিয়া থেকে শুরু করে মোনাকো, যুক্তরাষ্ট্র আর স্পেনে। সর্বশেষ তিনি স্পেনের পর্যটন এলাকা কোস্টা ডেল সোল-এ ৮৫ লাখ পাউন্ডে (প্রায় ৯৮ কোটি ৫২ লাখ টাকা) একটি বাড়ি কেনেন। মোনাকোর মন্টে কার্লোয় ১৫ বছর থাকার পর এখন স্পেনের ওই বাড়িতে সপরিবারে থিতু হওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেছেন জোকোভিচ। তাই বাড়িটি তিনি সংস্কারে উদ্যোগী হয়েছেন এবং তা করবেন ফেং সুই আদলে। 

ফেং সুই মতে, ঘরের প্রতিটি জিনিসের বিশেষ গুরুত্ব আছে। কোনো দ্রব্য থেকে যেমন পজিটিভ এনার্জি নির্গত হয়, তেমনি কোনো কিছু থেকে নেগেটিভ এনার্জি নির্গত হতে পারে। ফেং সুইতে এমন কিছু জিনিসের উল্লেখ রয়েছে, যা বাড়িতে রাখলে শুভ ফল বিস্তার করে থাকে। এই বস্তুগুলো বাড়িতে উপস্থিত নানা অশুভ শক্তি দূর করে এবং শুভ শক্তির সঞ্চার ঘটায়। ফলে পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি হয় এবং ব্যক্তির জীবন হয় উন্নত ও সমৃদ্ধ। যেমন ঘোড়ার মূর্তি, লাফিং বুদ্ধা, ধাতু বা মাটির কচ্ছপ, ঘণ্টি, বাঁশ গাছ, চীনা ড্রাগন, চীনা কয়েন, লাভ বার্ড, জোড়া মাছ, পিরামিড ইত্যাদি।

প্রার্থনার শক্তি দিয়ে দূষিত পানিকে পরিশুদ্ধ করা যায় এমন বিশ্বাস রয়েছে জোকোভিচের। তিনি প্রকাশ করেন, ২০১৯ সালে মেলবোর্ন রয়্যাল বোটানিক গার্ডেনে একটি ডুমুর গাছের সঙ্গে আলিঙ্গন করেই তিনি অস্ট্রেলিয়ান ওপেন জিতেছিলেন। ওই ডুমুর গাছটিকে তিনি ‘বন্ধু’ বলে অভিহিত করেন।

কভিড-১৯ প্রতিরোধক টিকা না নেয়ায় সম্প্রতি এ খেলোয়াড়কে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলার অনুমতি না দিয়ে তাকে সেই দেশ থেকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলতে না ফেরে ফিরে আসার পর অলস সময়টাকে কাজে লাগাতে চাইছেন জোকোভিচ। তাই তো মারবেলার বাড়িটিকে ফেং সুই আদলে রূপ দিতে এরই মধ্যে একদল শীর্ষ ডিজাইনার ও স্থপতি নিয়োগ করেছেন তিনি। নির্মাতা এরই মধ্যে কাজের অংশ হিসেবে বাড়ির ভেতরের অংশটি গুঁড়িয়ে ফেলেছেন।

দুই বছর আগে বাড়িটি কেনেন জোকোভিচ। এরপর যখন নভেল করোনাভাইরাস মহামারী শুরু হলো তখন তিনি সপ্তাহে ৮ হাজার পাউন্ডে বাড়িটি ভাড়া দেন। ৯ শয্যার ভিলাটিতে নিজস্ব টেনিস কোর্ট, জিম, স্পা সেন্টার ও হোম সিনেমা রয়েছে।

জোকোভিচ ও তার স্ত্রী ইয়েলেনা যে ঘরটিতে থাকেন সেটি ছাড়াও বাথরুম, রান্নাঘর এবং জ্যাকুজিগুলো কাঠ, আগুন, মাটি, ধাতু এবং পানির পাঁচটি উপাদানের মতো ধারণার ওপর ভিত্তি করে ফেং সুই মডেলের সঙ্গে মিল রেখে প্রতিস্থাপন এবং সজ্জিত করা হবে।

একটি সূত্র স্প্যানিশ সেলিব্রিটি ওয়েবসাইট ভানিতাতিসকে জানিয়েছেন, একবার সংস্কারের কাজ শেষ হলে কাস্তা পার্লা পুরোপুরি ফেং সুই আদলে রূপ নেবে।

অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলতে গিয়ে এবার ব্যর্থ হয়ে ফিরে যান জোকোভিচ। এই মিশনে রওনা হওয়ার আগে নাকি কোস্টা ডেল সোলে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন তিনি। গুজব ছিল স্প্যানিশ সরকার এখন এ বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে, কীভাবে তাদের দেশে প্রবেশ করেছিলেন সার্বিয়ান তারকা। যদিও মাদ্রিদের কর্মকর্তারা বলেছেন, এমন বিষয় তাদের তদন্তাধীন নয়। তার মানে, এখানে কোনো আইনি ঝামেলায় পড়ছেন না জোকার।

৩৪ বছর বয়সী জোকোভিচ বিশ্বের অন্যতম ধনী ক্রীড়াবিদ। টেনিস কোর্টের সফলতাই তাকে কোটি কোটি পাউন্ড এনে দিয়েছে। গ্র্যান্ড স্লামই তিনি জিতেছেন ২০ বার, যা কিনা যুগ্মভাবে রেকর্ড। তিনি ছাড়াও ২০ বার করে গ্র্যান্ড স্লাম জিতেছেন রাফায়েল নাদাল ও রজার ফেদেরার। এবার অস্ট্রেলিয়ান ওপেনে খেলতে পারলে রেকর্ডটা এককভাবে নিজের করে নেয়ার সুযোগ ছিল জোকোভিচের সামনে।

ফোর্বসের  মতে, কোর্ট থেকে তিনি প্রাইজমানি হিসেবেই আয় করেছেন রেকর্ড ১৫ কোটি ৪৭ লাখ ৫৬ হাজার ৭২৬ ডলার, বাংলাদেশী মুদ্রা যায় প্রায় ১ হাজার ৩৩৫ কোটি ৯৪ লাখ টাকা। এছাড়া স্পন্সরশিপ চুক্তি থেকেও তিনি কোটি কোটি ডলার উপার্জন করেছেন। ২০২১ সালে লাকোস্তের সঙ্গে চার বছরের একটি চুক্তি করেন জোকোভিচ, যা তাকে বছরে দিচ্ছে ৯০ লাখ ডলার। এই চুক্তিতে তিনি খেলার সময় লাকোস্তের কিট পরিধান করেন। এছাড়া টেনিসের র্যাকেট প্রস্তুতকারক হেড, স্পোর্টসওয়্যার ও ইকুইপমেন্ট ব্র্যান্ড এএসআইসিএসের সঙ্গেও তার আকর্ষণীয় চুক্তি রয়েছে। দ্য সান, দ্য স্কটসম্যান