উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের শেষ ষোলোর প্লে-অফে রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে ইংলিশ জায়ান্ট ম্যানচেস্টার সিটি। শুক্রবার প্লে-অফের ড্র এ মহাকাব্যিক লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি করে দিয়েছে।
এছাড়া ফরাসি জায়ান্ট পিএসজি পেয়েছে একই দেশের ব্রেস্তকে, ইতালির আটালান্টা পেয়েছে বেলজিয়ামের ক্লাব ব্রুগেকে, ইতালির জুভেন্টাস পেয়েছে ডাচ ক্লাব আইন্দহোফেনকে, ফ্রান্সের মোনাকো পেয়েছে পর্তুগালের বেনফিকাকে, জার্মানির বরুশিয়া ডর্টমুন্ড পেয়েছে পর্তুগালের স্পোর্টিং লিসবনকে ও ইতালির এসি মিলান পেয়েছে ডাচ ক্লাব ফেনুর্ডকে।
গ্রুপ পর্বে অংশ নেয় মোট ৩৬টি দল। সেখান থেকে শীর্ষ আটটি দল সরাসরি শেষ ষোলোয় উঠে গেছে। এখন নবম থেকে ২৪তম স্থানে থাকা ১৬টি দল প্লে-অফে মুখোমুখি হবে। এই ১৬ দলের মধ্যে আটটি উঠে যাবে শেষ ষোলোয়।
নিয়মানুযায়ী ড্রর আগেই চূড়ান্ত হয়ে যায় ৯ ও ১০ নম্বরে থাকা দল প্লে-অফে পাবে ২৩ বা ২৪ নম্বর দলকে। এভাবে ১১/১২ খেলবে ২১/২২, ১৩/১৪ খেলবে ১৯/২০ ও ১৫/১৬ খেলবে ১৭/১৮ নম্বর দলের বিপক্ষে। এমন নিয়মের কারণেই ২২তম হওয়া ম্যানসিটি জানত, প্লে-অফে তাদের প্রতিপক্ষ হবে ১১তম রিয়াল ও ১২তম বায়ার্নের যেকোনো একটি। তবে রেকর্ড ১৫ বারের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন রিয়ালকেই পেল তারা।
শুক্রবারের ড্রয়ের পর সবচেয়ে বেশি আলোচনায় ম্যানসিটি-রিয়াল লড়াই। ইউরোপিয়ান ফুটবল কয়েক বছর ধরেই বহুল পরিচিত লড়াই হলো: ম্যানসিটি-রিয়াল ম্যাচ। ইউরোপের দুই পরাশক্তি ২০২৪-২৫ মৌসুমের চ্যাম্পিয়নস লিগে শেষ ষোলোর দুই লেগের প্লে-অফে লড়বে আগামী মাসে। দুই পরাশক্তি একটু আগেভাগের রাউন্ডেই মুখোমুখি হতে যাচ্ছে এবং এ নিয়ে টানা চতুর্থবারের মতো নকআউটে দেখা হচ্ছে তাদের। বিস্ময়কর ব্যাপার হলো গত তিন মৌসুমের লড়াইয়ে যারাই জিতেছে তারাই শেষ পর্যন্ত শিরোপা ঘরে তুলেছে। এবারো কি তাই হবে?
ম্যানসিটির স্প্যানিশ কোচ পেপ গার্দিওলা প্রতিপক্ষ হিসেবে রিয়াল মাদ্রিদকে পাওয়ার পর প্রতিক্রিয়ায় বলেছেন, ‘টানা চার বছরের মতো রিয়ালের মুখোমুখি হওয়া, এ যেন ডার্বির মতোই। আসলে প্লে-অফের ড্র তো আরেকটু ভালো হতে পারত।’
রেকর্ড ১৫ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদ ও ২০২৩ আসরের চ্যাম্পিয়ন ম্যানচেস্টার সিটির এত আগেভাগে মুখোমুখি হওয়ার কারণ তারা নিজেরাই। নতুন ফরম্যাটের লিগ পর্বে তারা দুটি দলই ধুঁকেছে। প্লে-অফে উঠলেও রিয়াল ১১তম ও ম্যানসিটি ২২তম হয়েছে। যে শীর্ষ আটটি দল সরাসরি শেষ ষোলোয় উঠেছে তাদের মধ্যে নেই ইংলিশ ও স্প্যানিশ চ্যাম্পিয়নরা। এমনকি লিগ পর্বের শেষ ম্যাচ জিতে প্লে-অফের টিকিট নিশ্চিত করেছে সিটি, হারলে বিদায় নিতে হতো গার্দিওলার দলকে।
রিয়াল প্লে-অফে ওঠার পথে হেরেছে লিল, এসি মিলান ও লিভারপুলের কাছে। সিটি হেরেছে স্পোর্টিং লিসবন, জুভেন্টাস ও পিএসজির কাছে। দুটি দলই শেষ মুহূর্তে ঘুরে দাঁড়িয়ে ইউরোপের এলিট টুর্নামেন্টে টিকে আছে, যদিও তাদের দুই দলের একটিকে কোয়ার্টার ফাইনালের আগেই বিদায় নিতে হবে। এটা লিগ পর্বে তাদের দুর্বল পারফরম্যান্সের প্রমাণ দেয়।
সব ধরনের প্রতিযোগিতায় সর্বশেষ ১১ ম্যাচের মধ্যে নয়টি জিতেছে রিয়াল মাদ্রিদ। দুঃসময় পেরিয়ে ফর্মে ফিরেছেন ফরাসি সুপারস্টার কিলিয়ান এমবাপ্পে। সর্বশেষ ১৩ ম্যাচে ১২ গোল করেছেন ফ্রান্স জাতীয় দলের এ তারকা। ব্রাজিলের ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও রদ্রিগোকে নিয়ে ভয়ংকর এক আক্রমণভাগ গড়ে তুলেছেন এমবাপ্পে।
সিটিও মৌসুমের মধ্যপথের ভরাডুবি কাটিয়ে উঠেছে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ১৩ ম্যাচ খেলে মাত্র একটি জিততে সমর্থ হয় তারা, যার মধ্যে নয়টিই ছিল হার। টানা চারবারের লিগ চ্যাম্পিয়নরা অবশ্য সর্বশেষ ছয়টি লিগ ম্যাচে অপরাজিত রয়েছে।
চ্যাম্পিয়নস লিগে দুই দল সর্বশেষ ২০২২ সালে সেমিফাইনালে মুখোমুখি হয়। সিটি নিজেদের মাঠে প্রথম লেগে ৪-৩ গোলের লিড নেয়ার পর রিয়ালের মাঠেও প্রথমে গোল দেয়। যদিও রদ্রিগো ৯০ ও ৯১ মিনিটে এবং করিম বেনজেমা ৯৫ মিনিটে গোল করে হৃদয় ভাঙেন সিটিজেনদের। পরে ফাইনালে লিভারপুলকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা ঘরে তোলে রিয়াল।
২০১২ সাল থেকে শুরু করে এ নিয়ে সপ্তমবার চ্যাম্পিয়নস লিগে মুখোমুখি হবে ইউরোপের দুই শক্তিশালী ও তারকাখচিত দল ম্যানসিটি ও রিয়াল মাদ্রিদ।










