নিয়মিত গোল করে কিংবা করিয়ে দুই লিগে ঝড় তুলছেন দুই ফরাসি স্ট্রাইকার করিম বেনজেমা ও কিলিয়ান এমবাপ্পে। ফ্রেঞ্চ লিগ ওয়ানে টানা দুই ড্রয়ের পর এমবাপ্পের জোড়া গোলে জয়ে ফিরল পিএসজি। রোববার রাতে ঘরের মাঠে মোনাকোর বিপক্ষে ২-০ গোলে জয় তুলে নিয়েছে প্যারিসিয়ানরা। এদিকে স্প্যানিশ লা লিগায় মাদ্রিদ ডার্বিতে অ্যাতলেটিকো মাদ্রিদকে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করেছে রিয়াল মাদ্রিদ। স্বাগতিকদের হয়ে করিম বেনজেমা এগিয়ে নেয়ার পর মার্কো অ্যাসেনসিও ব্যবধান দ্বিগুন করেন।
আরেক ম্যাচে দুইবার এগিয়ে গিয়েও ওসাসুনার সাথে ২-২ গোলে ড্র করেছে বার্সেলোনা। ১৯ বছর বয়সী দুই তরুণ নিকোলাস গনজালেস ও আবদে ইজ্জালজৌলি বার্সার হয়ে গোল দুটি করেন। তবে ডেভিড গার্সিয়া ও এজেকিয়েল আভিলা স্বাগতিকদের পক্ষে গোল করে বার্সাকে জয় বঞ্চিত করেন।
পার্স দেস প্রিন্সেসে নেইমারের অনুপস্থিতিতে এমবাপ্পে-মেসি-ডি মারিয়াদের নিয়ে গড়া আক্রমণভাগ নিয়ে মাঠে নামে পিএসজি। ম্যাচের একাদশ মিনিটে বক্সের ভেতর ডি মারিয়াকে ফাউল করায় পিএসজি পেনাল্টি পায়। সেই পেনাল্টি থেকে গোল করতে ভুল করেননি এমবাপ্পে (১-০)।
পিএসজি দ্বিতীয় গোলটি পায় বিরতির ঠিক আগ মুহূর্তে। প্রতিপক্ষের পাস ধরে দুরন্ত গতিতে বল নিয়ে ছোটেন মেসি। ডি বক্সের কাছে গিয়ে সেই বল পাস দেন এমবাপ্পের কাছে। আবারো গোল করেন এমবাপ্পে (২-০)। চলতি মৌসুমে লিগ ওয়ানে এমবাপ্পের গোল সংখ্যা হলো নয়টি। বিরতির পর বেশ কিছু আক্রমণ করলেও আর কোনো গোল পায়নি পিএসজি। ফলে ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে মাউরিসিও পচেত্তিনোর দল।
এই জয়ের ফলে ১৮ ম্যাচে ৪৫ পয়েন্ট নিয়ে লিগ ওয়ানের শীর্ষস্থানটা আরো মজবুত করল পিএসজি। ১৭ ম্যাচে ৩২ পয়েন্ট নিয়ে মার্শেই আছে দ্বিতীয় স্থানে।
এদিকে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে ম্যাচের ১৬ মিনিটে মাঝমাঠে প্রতিপক্ষের ভুল পাস ধরে আক্রমণে ওঠে রিয়াল মাদ্রিদ। সতীর্থের পাস পেয়ে বেনজেমা একজনের বাধা এড়িয়ে ডান দিকে বল বাড়ান অ্যাসেনসিওকে। তিনি থ্রু পাসে ডি-বক্সে খুঁজে নেন ভিনিসিয়াসকে। ব্রাজিলিয়ান এই ফরোয়ার্ড বল বল বাড়ান বেনজেমাকে। চমত্কার সাইডভলিতে দলকে উল্লাসে ভাসান ফরাসি ফরোয়ার্ড (১-০)। লা লিগায় চলতি মৌসুমে তার গোল সংখ্যা হলো ১৩টি।
বিরতির পর দারুণ এক পাল্টা আক্রমণে ৫৭ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অ্যাসেনসিও। মাঝমাঠের তারকা টনি ক্রুসের পাস বাঁ দিকে পেয়ে ভিনিসিয়াস ডি-বক্সে ডান দিকে ফাঁকায় থাকা অ্যাসেনসিওকে খুঁজে নেন। আর প্রথম ছোঁয়ায় কোনাকুনি শটে গোলটি করেন এই স্প্যানিয়ার্ড (২-০)।
সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে টানা ১০ জয় ও ১৩ ম্যাচ অপরাজিত থাকার আনন্দে মাঠ ছাড়ে রিয়াল। লা লিগায় ১৭ ম্যাচে ১৩ জয় ও তিন ড্রয়ে ৪২ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। এক ম্যাচ কম খেলা সেভিয়ার পয়েন্ট ৩৪। ১৭ ম্যাচে ৩৩ পয়েন্ট নিয়ে তিন নম্বরে রিয়াল বেটিস। ১৬ ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে চার নম্বরে অ্যাতলেটিকো। তাদের সমান ১৬ ম্যাচে ২৪ পয়েন্ট নিয়ে আট নম্বরে বার্সেলোনা।










