সিলেটে চলমান এনসিএল টি-টোয়েন্টি লিগে সবার আগে ফাইনালে উঠেছে রংপুর বিভাগ। গতকাল দুপুরে প্রথম কোয়ালিফায়ার ম্যাচে ঢাকা মেট্রোকে ৪ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় আকবর আলীর দল। আগে ব্যাটিং করে ৯ উইকেটে ১০৭ রান তুলতে সমর্থ হয় মেট্রো। এই রান তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেট হারিয়ে শেষ ওভারে জয় নিশ্চিত করে রংপুর। এদিকে গতকাল এলিমিনেটর ম্যাচে খুলনা বিভাগের কাছে ৭ রানে হেরে বিদায় নিয়েছে চট্টগ্রাম বিভাগ। ১৪৭ রান তাড়া করতে নেমে ৬ উইকেটে ১৩৯ রান তুলতে সমর্থ হয় চট্টগ্রাম।

পুরো আসরে দুর্দান্ত খেলা ঢাকা মেট্রো গতকাল কোয়ালিফায়ার ম্যাচে এসে বিবর্ণ। দুই পেসার রবিউল হক (৩/১৯), আলাউদ্দিন বাবু (২/২৫) ও স্পিনার আরিফ আহমেদের (১/১৭) দারুণ বোলিংয়ের মুখে নির্ধারিত ২০ ওভারে ১০৮ রান তুলতে সমর্থ হয় তারা। ওপেনার ইমরানুজ্জামান সর্বোচ্চ ৩০ রান করেন ৪২ বলের মোকাবেলায়। এছাড়া আমিনুল ইসলাম বিপ্লব করেন ২৪ বলে ২৩ রান।

এ রান তাড়া করতে নেমে কিছুটা পরীক্ষার মুখে পড়লেও শেষ পর্যন্ত জয় আটকায়নি রংপুরের। মিডল অর্ডারে আরিফুল হক (২০ বলে ২২) ও তানভীর হায়দার (২৪ বলে ২২) এবং টপ অর্ডারের চৌধুরী রিজওয়ান (১৭), আব্দুল্লাহ আল মামুন (১৭) ও নাঈম ইসলামের (১৬) ব্যাটে ভর করে জয় তুলে নেয় রংপুর।

রংপুরের কাছে হারলেও এখনই বিদায় নিচ্ছে না ঢাকা মেট্রো। আরেকটি সুযোগ পাবে তারা। আজ বেলা সোয়া ১টায় দ্বিতীয় কোয়ালিফায়ার ম্যাচে তারা খেলবে খুলনা বিভাগের বিপক্ষে। এই ম্যাচ জিতলে মঙ্গলবারের ফাইনালে আবারো দেখা হবে রংপুরের সঙ্গে।

গতকাল সকালে ‘এলিমিনেটর’ ম্যাচে আগে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুর দিকে এনামুল হক বিজয়কে হারিয়ে চাপে পড়ে খুলনা। অনূর্ধ্ব-১৯ দলের অধিনায়ক আজিজুল হাকিম (১৬ বলে ২০) ও অভিজ্ঞ মোহাম্মদ মিথুন (১২ বলে ১৬) হাল ধরে দলের রান পঞ্চাশ পার করান। যদিও অল্প সময়ের ব্যবধানে দুজনই আউট হয়ে যান (৫২/৩)। সেখান থেকে ইমরুল কায়েস ও নুরুল হাসান সোহান ৩১ রানের জুটি গড়েন। ইমরুল ১৫ বলে ১৭ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন। সোহান অবশ্য হাল ছাড়েননি। তিনি টেল-এন্ডকে নিয়ে দলের সম্মানজনক সংগ্রহ নিশ্চিত করেন। ১৯তম ওভারে আহমেদ শরিফের শিকার হন সোহান। ৩৯ বলে ৬ বাউন্ডারি ও ২ ছক্কায় ৫২ রানের ইনিংস খেলেন খুলনার দলনায়ক।

সোহানের বিদায়ের পর দ্রুত ৩ উইকেট হারিয়ে ১৯.৩ ওভারে অলআউট হয়ে যায় খুলনা। চট্টগ্রামের আহমেদ শরিফ ২৬ রানে ৪টি ও ফাহাদ হোসেন ২০ রানে ৩টি উইকেট নেন। রান তাড়া করতে নেমে ৬৪ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসে চট্টগ্রাম। ইয়াসির আলী (২৭ বলে ৩৭) ও নাঈম হাসান (২৭ বলে ৩৪*) চেষ্টা করলেও দলকে জেতাতে পারেননি। মেহেদী হাসান রানা ও মাসুম খান টুটুল ২টি করে উইকেট নেন।