জ্যামাইকার স্যাবাইনা পার্কে সাড়ে ছয় বছর পর প্রথম ও সব মিলিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো টেস্ট খেলতে নেমেছে বাংলাদেশ। গতকাল বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় এ মাঠে শুরু হয় সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট। অ্যান্টিগা টেস্টে হেরে যাওয়ায় সিরিজ বাঁচাতে এ টেস্টে জিততেই হবে মেহেদী হাসান মিরাজের দলকে।

স্যাবাইনা পার্কে ২০১৮ সালের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত টেস্টে ক্যারিবীয়দের কাছে ১৬৬ রানে হেরেছে সাকিব আল হাসানের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ প্রথম ইনিংসে ৩৫৪ রানে অলআউট হওয়ার পর বাংলাদেশ গুটিয়ে যায় ১৪৯ রানে। সাকিবের ৬ উইকেট শিকারে দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যারিবীয়রা অলআউট ১২৯ রানে। এতে ৩৩৫ রানের টার্গেটের সামনে পড়ে বাংলাদেশ। এ টার্গেট তাড়া করতে নেমে কোনো লড়াইই করতে পারেনি সাকিবের দল। জেসন হোল্ডার ৬ উইকেট নিয়ে ধসিয়ে দেন বাংলাদেশকে (১৬৮/১০)।

প্রথম ম্যাচের অভিজ্ঞতা আরো খারাপ। ২০০৪ সালের জুনে এ মাঠে প্রথমবার টেস্ট খেলতে নেমেই ইনিংস ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ। সফরকারীরা প্রথম ইনিংসে ২৮৪ রান তোলার পর রামনরেশ সারওয়ানের ডাবল সেঞ্চুরিতে ৪ উইকেটে ৫৫৯ রান তুলে ইনিংস ঘোষণা করে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। বাংলাদেশ দ্বিতীয় ইনিংসে ১৭৬ রানে গুটিয়ে গেলে ইনিংস জয় নিশ্চিত হয় স্বাগতিকদের।

২০০৪ সালের সেই ম্যাচ খেলা ক্রিকেটারদের সবাই এখন অবসরে। এমনকি ২০১৮ সালের ম্যাচটি খেলা ক্রিকেটারদের মধ্যে তামিম ইকবাল, সাকিব, মাহমুদউল্লাহ, নুরুল হাসান, কামরুল ইসলাম ও আবু জায়েদ রাহী নেই বর্তমান দলে। চলমান টেস্টের মধ্যে শুধু মুমিনুল হক, মিরাজ, লিটন দাস ও তাইজুল ইসলামের আছে স্যাবাইনা পার্কে টেস্ট খেলার অভিজ্ঞতা। বাকিদের জন্য প্রথম অভিজ্ঞতা।

স্যাবাইনা পার্কে টেস্টের সর্বোচ্চ স্কোরটা ইংল্যান্ডের গড়া। ১৯৩০ সালে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৮৪৯ রান তুলেছিল তারা। আর ১৯৫৮ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ৭৯০ রান তুলেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া ওয়েস্ট ইন্ডিজের ৬৩১, ৫৮৩, ৫৭৬, ৫৫৯, ৫৩৫ ও ৫০৮ রানের ইনিংস রয়েছে এ মাঠে।

স্যাবাইনা পার্কে সবচেয়ে বেশি রান করেছেন ক্যারিবীয় গ্রেট স্যার গ্যারি সোবার্স। তিনি ১১ ম্যাচ খেলে ১০৪.১৫ গড়ে ১ হাজার ৩৫৪ রান করেছেন। সেঞ্চুরি করেছেন ৫টি, ফিফটি করেছেন ৪টি। এছাড়া আরেক ক্যারিবীয় গ্রেট ব্রায়ান লারা ১২ ম্যাচে করেছেন ১ হাজার ১১২ রান। এক হাজারের বেশি রান করেছেন এ দুজনই। আর সর্বোচ্চ ৪৮টি উইকেট নিয়েছেন পেসার কোর্টনি ওয়ালশ। ইংল্যান্ডের স্টিভ হার্মিসন ১২ রানে ৭ উইকেট নিয়ে স্যাবাইনা পার্কে সেরা বোলিংয়ের রেকর্ডটা ধরে রেখেছেন। সেরা বোলিংয়ের তালিকায় আটে রয়েছেন বাংলাদেশের সাকিব আল হাসান। ২০১৮ সালে তিনি এ মাঠে নেন ৩৩ রানে ৬ উইকেট।

স্যাবাইনা পার্কে ৫৪ টেস্ট খেলে ২৫টি জিতেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এছাড়া হার ১৫টি আর ড্র হয় ১৪টি ম্যাচ। ইংল্যান্ড ১৫ টেস্ট খেলে ৩টি, অস্ট্রেলিয়া ১১ টেস্ট খেলে ৫টি, ভারত ১৩ টেস্ট খেলে ৩টি, পাকিস্তান ৬ টেস্ট খেলে ৩টি জিতেছে।

১৯৩০ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এ মাঠে ৫৪টি টেস্ট অনুষ্ঠিত হয়েছে, যার মধ্যে ৪০টিতে ফল হয়েছে এবং ১৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।

ওয়েস্ট ইন্ডিজে ২০০৭ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ এবং ২০১০ ও ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেললেও স্যাবাইনা পার্কে বাংলাদেশ কোনো ওয়ানডে কিংবা টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেনি! তাই ক্রিস গেইলের হোমটাউনে তৃতীয়বারের মতো টেস্ট খেলতে নামছে বাংলাদেশ।

বাংলাদেশ না খেললেও স্যাবাইনা পার্কে ১৯৮৪ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত ৪১টি ওয়ানডে ও ২০১৪ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত মোট ৯টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সব মিলিয়ে স্যাবাইনা পার্কে ১০৪টি আন্তর্জাতিক ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে।

২০২১ সালের পর স্যাবাইনা পার্কে প্রথম কোনো টেস্ট ম্যাচ অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সর্বশেষ ২০২১ সালের আগস্টে এ মাঠে পাকিস্তানের কাছে ১০৯ রানে হারের স্বাদ পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ১০ উইকেট নিয়ে ম্যাচসেরা হয়েছিলেন শাহিন শাহ আফ্রিদি।