পোর্ট এলিজাবেথ টেস্টে দ্বিতীয় ইনিংসে ৯০ রানের মধ্যেই প্রোটিয়াদের ৩ উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। তাইজুল ইসলাম দুটি ও খালেদ আহমেদ একটি উইকেট নেন। ডিন এলগারের (২৬) পর সারেল আরউই (৪১) ও কিগান পিটারসেন (১৪) সাজঘরে ফিরেছেন। এরপরও স্বস্তি নেই বাংলাদেশ শিবিরে। কেননা প্রথম ইনিংসেই ২৩৬ রানের লিড পায় স্বাগতিকরা।

 

এ প্রতিবেদন লেখার সময় স্বাগতিকদের সংগ্রহ ছিল ৩ উইকেটে ১০৫ রান। দুই ইনিংস মিলে লিড ছিল ৩৪১ রানের। তাই বিশাল টার্গেটের মুখে পড়তে যাচ্ছে অতিথি দলটি। তেম্বা বাভুমা ও রায়ান রিকেলটন উভয়ই সমান ১০ রান নিয়ে ব্যাট করছিলেন।

 

এর আগে ২৫ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে ২১৭ রানে অলআউট হয়ে যায় বাংলাদেশ। ২৩৬ রানের বিশাল লিড পাওয়া দক্ষিণ আফ্রিকা অতিথিদের ফলো-অন না করিয়ে নিজেরাই আবার ব্যাটিংয়ে নেমেছে।

 

মুশফিকুর রহিম ও ইয়াসির আলীর লড়াইয়ে দুশ পার হতে পেরেছে বাংলাদেশ। ষষ্ঠ উইকেটে ১৭২ বল খেলে ৭০ রান যোগ করেন এ দুজন। তাদের দৃঢ়তায়ই সকালের প্রথম ঘণ্টায় কোনো উইকেট নিতে পারেনি প্রোটিয়ারা। যদিও পরের এক ঘণ্টায় দারুণ সফলতা পায় ডিন এলগারের দল। এ সময় তারা তুলে নেয় মুশফিক ও ইয়াসির দুজনকেই। এ দুজনের বিদায়ে স্বাগতিকরা স্বস্তি পেলেও বিপদে পড়ে অতিথিরা। এরপর হুড়মুড় করে ভেঙে পরে বাংলাদেশের ব্যাটিং লাইনআপ। ১৯২/৫ থেকে দেখতে না দেখতেই স্কোরটা হয়ে যায় ২১৭/১০।

 

সম্মিলিত বোলিং পারফরম্যান্সে বাংলাদেশকে অলআউট করে দক্ষিণ আফ্রিকা। সাইমন হারমার ও উইয়ান মুলডার প্রত্যেকেই নেন তিনটি করে উইকেট এবং কেশব মহারাজ ও ডুয়ান অলিভিয়ার নেন দুটি করে। 

 

৫ উইকেটে ১৩৯ রান নিয়ে আজ সকালে ব্যাটিংয়ে নামা বাংলাদেশকে দুশর কাছাকাছি নিয়ে বিচ্ছিন্ন হন মুশফিক ও ইয়াসির। দুর্দান্ত খেলতে থাকা ইয়াসিরকে নিজের করা ফিরতি বলে ক্যাচ নিয়ে সাজঘরে পাঠান স্পিনার কেশব মহারাজ। আউট হওয়ার আগে ৮৭ বলে ৭ বাউন্ডারির সাহায্যে ৪৬ রান  করেন ইয়াসির।

 

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজকে নিয়ে ১৮ রানের জুটি গড়ে বিদায় নেন মুশফিক। দুর্দল একটি রিভার্স সুইপ খেলতে গয়ে উইকেট বিলিয়ে দেন মুশফিক। তাকে বোল্ড করেন স্পিনার সাইমন হারমার। ১৩৬ বলে ৮ বাউন্ডারিতে ৫১ রান করেন তিনি। এরপর বোর্ডে আর ৭ রান যোগ করে বাকি তিন উইকেট হারায় বাংলাদেশ। 

 

সকালে মুশফিক ৩০ ও ইয়াসির ৮ রানে অপরাজিত থেকে ব্যাটিংয়ে নামেন। মুশফিক অনেকটা ধীরগতিতে এগোলেও ছুটছিলেন ইয়াসির। সকালে সিংহভাগ রানই তার ব্যাট থেকে এসেছে। ৭০ রানের জুটির মধ্যে মুশফিকের অবদান মাত্র ২১, আর ইয়াসিরের ৪৬!

 

এর আগে দ্বিতীয় দিন কেশব মহারাজের ৮৪, ডিন এলগারের ৭০, তেম্বা বাভুমার ৬৭ ও কিগান পিটারসেনের ৬৪ রানে ভর করে প্রথম ইনিংসে ৪৫৩ রান তুলে অলআউট হয় প্রোটিয়ারা। তাইজুল ইসলাম ১৩৫ রানে ৬টি উইকেট শিকার করেন, যা দক্ষিণ আফ্রিকায় কোনো বাংলাদেশি বোলারের সেরা বোলিং ফিগার।

 

এদিকে দক্ষিণ আফ্রিকার দ্বিতীয় ইনিংসের প্রথম ওভারেই চোট পেয়ে মাঠ ছাড়েন মেহেদী হাসান মিরাজ। এবাদত হোসেনের বলে সারেল আরউই কাট শট খেললে সরাসরি গিয়ে ব্যাকওয়ার্ড পয়েন্টে দাঁড়ানো মিরাজের বুকে লাগে। বল লাগার পর মাঠেই পড়ে যান মিরাজ। এ সময় ফিজিওর পাশাপাশি মেডিকেল টিমও মাঠে আসে এবং মিরাজকে স্ট্রেচারে করে মাঠের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়। বাংলাদেশ দলের সূত্র জানায়, মিরাজকে ড্রেসিংরুমেই চিকিত্সা দেয়া হয়, হাসপাতালে নেয়ার আর প্রয়োজন পড়েনি। পরে মাঠে ফিরে বেশ কয়েক ওভার বলও করেন তিনি।