অ্যাডাম জাম্পার ফুল টস বলকে লং-অন অঞ্চল দিয়ে সীমানাছাড়া করেই দু হাত উঁচিয়ে উদযাপন করেন বাবর, তার সঙ্গী মোহাম্মদ রিজওয়ান। পরে দুজন আলিঙ্গন করেন। অস্ট্রেলিয়াকে তাদেরই মাঠে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজে হারিয়ে উচ্ছ্বসিত পাকিস্তানের সাবেক ও বর্তমান অধিনায়ক। ২০০২ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে সিরিজ জিতল পাকিস্তান।

প্রথম ম্যাচে স্নায়ুক্ষয়ী লড়াই শেষে ২ উইকেটের জয় পায় অস্ট্রেলিয়া। পরের দুই ম্যাচে দাপট দেখায় পাকিস্তানের পেস বোলিং ব্রিগেড। শাহিন শাহ আফ্রিদি, নাসিম শাহ, হারিস রউফ ও মোহাম্মদ হাসনাইন দাঁড়াতেই দেননি অজি ব্যাটারদের।

অ্যাডিলেডে দ্বিতীয় ওয়ানডে ম্যাচে ৯ উইকেটের বিশাল জয় তুলে নেয়া পাকিস্তান আজ পার্থে তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডে ম্যাচে আরো দুর্বার। অস্ট্রেলিয়াকে ১৪০ রানে অলআউট করে সিরিজ জিতে নিল।

পার্থের চিরাচরিত পেসবান্ধব উইকেটে আগুন ঝরান পাকিস্তানি পেসাররা। আগের ম্যাচে ৫ উইকেট নিয়ে অস্ট্রেলিয়াকে বিধ্বস্ত করেন রউফ। আজও দুর্দান্ত বোলিং করে ৭ ওভারে ২৪ রান দিয়ে তুলে নেন ২টি উইকেট। আফ্রিদি ও নাসিম উভয়েই নেন ৩টি করে উইকেট। চতুর্থ পেসার হাসনাইন পান ১টি। ৩১.৫ ওভারে অলআউট হয়ে যায় অজিরা। স্বাগতিক দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৩০ রান করেছেন শন অ্যাবট।

এরপর সাইম আইয়ুব ও শফিক আব্দুল্লাহ ওপেনিং জুটিতে ৮৪ রান তুলে দিলে জয় নিয়ে আর ভাবতে হয়নি পাকিস্তানকে। বাবর ও রিজওয়ান ৫৩ বলে ৫৮ রানের অবিচ্ছিন্ন জুটিতে দলকে জয় এনে দেন।

এর আগে অস্ট্রেলিয়ায় মাত্র একবার ওয়ানডে সিরিজ জিততে পেরেছে পাকিস্তান। ২০০২ সালের সফরে ২-১-এ সিরিজ জিতেছিল এশিয়ান দেশটি। তারপর ২০১০ সালে ৫-০তে ও ২০১৭ সালে ৪-১-এ সিরিজ হেরেছে তারা। অজিদের মাঠে চতুর্থবার ওয়ানডে সিরিজ খেলে ২-২ করল পাকিস্তান।

সংক্ষিপ্ত স্কোর

অস্ট্রেলিয়া: ৩১.৫ ওভারে ১৪০ (শন অ্যাবট ৩০, ম্যাথিউ শর্ট ২২; শাহিন ৩/৩২, নাসিম ৩/৫৪, হারিস ২/২৪)। পাকিস্তান: ২৬.৫ ওভারে ১৪৩/২ (সাইম ৪২, শফিক ৩৭, রিজওয়ান ৩০*, বাবর ২৮*; ল্যান্স মরিস ২/২৪)। ফল: পাকিস্তান ৮ উইকেটে জয়ী। সিরিজ: পাকিস্তান ২-১-এ জয়ী। ম্যাচসেরা ও সিরিজসেরা: হারিস রউফ (পাকিস্তান, ১০ উইকেট)।