আর্জেন্টাইন ফুটবল মহাতারকা লিওনেল মেসি যুক্ত হোটেল ব্যবসার সঙ্গেও। তার হোটেল চেইনের নাম ‘মিম হোটেলস’। ম্যাজিস্টিক গ্রুপের মাধ্যমে ২০১৭ সাল থেকে তিনি এ প্রকল্পে বিনিয়োগ করে আসছেন। এবার তার পোর্টফোলিওতে যুক্ত হলো আরেকটি হোটেল —মিম সোটোগ্র্যান্ডে ক্লাব মারিটিমো। ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী প্রাইভেট অভিজাত এলাকা সোটোগ্র্যান্ডেতে যতগুলো হোটেল রয়েছে তার অন্যতম অভিজাত হোটেলটির মালিক এখন মেসি ও তার কোম্পানি।

এটা মেসির চেইন হোটেলের তালিকায় ষষ্ঠ। তার সর্বশেষটিতেও পর্যটকদের বিষয়টি প্রাধান্য পেয়েছে। এই হোটেলে গলফ, পোলো আর পানিতে খেলা যায় এমন নানা খেলার সুযোগ রয়েছে। যদিও এই হোটেলটি ঘিরে বেশ সমালোচনাও হচ্ছে। কিনে নেয়ার পর এই হোটেলের পুরনো ৪০ জন স্টাফকে ছাঁটাই করা হয়েছে। সান রক পৌর মেয়র হুয়ান কার্লোস রুইজ বইক্স এসব কর্মীর পাশে দাঁড়িয়েছেন। তিনি বলেন, এটা অন্যায়। ব্যাখ্যাতীত। হোটেলটি যখন পুনরায় চালু হবে তখন যাতে এই কর্মীগুলো তাদের চাকরি ফিরে যায় সেজন্য আমরা লড়াই করব।

ছাঁটাই হওয়া এক হোটেল কর্মীর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ হোটেলে ২৬ বছর ধরে কাজ করে আসা মিগুয়েল নিজের সর্বস্ব নিংড়ে দিয়েছে। তারা মালিকানা বদলে ফেলল আর বছরের পর বছর ধরে নিজেদের উৎসর্গ করে দেয়া মানুষগুলোকেও ছুড়ে ফেলল। হোটেলটিতে ২৬ বছর কাজ করার পর এখন ৪৯ বছর বয়সে সে কিনা বেকার!

চলতি বছর এপ্রিল মাসে চালু হওয়ার কথা মেসির নতুন হোটেলটির। তার আগে এতে তুলির শেষ আঁচড় দিচ্ছেন বিশ্বখ্যাত ডিজাইনার পাসকুয়া ওর্তেগা, যিনি এসব স্থাপনায় অনন্য কাঠামো দিতে পারঙ্গম।

এ হোটেলে রয়েছে ৪৫টি প্রশস্ত রুম, যার বেশির ভাগ থেকেই অবলোকন করা যাবে সমুদ্র আর সোটোগ্র্যান্ডে বন্দরের দৃশ্য। ভূমধ্যসাগরে প্রমোদতরীতে ঘোরাঘুরির ব্যবস্থাটাও করে দেবে হোটেল কর্তৃপক্ষ। এই হোটেলেই রয়েছে দুটি রুফটপ রেস্টুরেন্ট। এছাড়া শরীর ও মনের প্রশান্তির জন্য হোটেলে রয়েছে স্পা সেন্টারও।

স্পেনেরই ক্লাব বার্সেলোনায় দুই দশকেরও বেশি সময় খেলে যাওয়া মেসি এখন খেলেন ফরাসি ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইয়ে (পিএসজি)। সাতবার ব্যালন ডি’অর জেতা তারকা এখন প্যারিসে থাকলেও ব্যবসার কারণে স্পেনে তাকে প্রায়ই আসা-যাওয়া করতে হয়, আর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ হয়ে পড়া স্পেনে তিনি বিনিয়োগ করেই চলেছেন। মেসির বিশাল অংকের মুনাফা অর্জনের অন্যতম অবলম্ব্বন হোটেল ব্যবসা। স্পেনের বিভিন্ন শহরে রয়েছে তার বেশ কয়েকটি হোটেল। ওই একটি দেশেই তিনি এখন ছয়টি হোটেলের মালিক। বার্সেলোনা শহরে নিজের বাড়ির পাশেই থাকা হোটেল মিম সিটগেস ছাড়াও তার মালিকানাধীন হোটেলগুলো হলো: হোটেল মিম ইবিজা, হোটেল মিম মায়োর্কা, হোটেল মিম বাকেইরা ও হোটেল মিম অ্যান্ডোরা।

মেসির পরিবেশগত অঙ্গীকার:

মেসির চেইনে থাকা প্রতিটি হোটেলেরই যুক্তরাষ্ট্রের গ্রিন বিল্ডিং কাউন্সিল কর্তৃক প্রদত্ত এলইইডি সনদ রয়েছে কিংবা পাওয়ার পথে। তাদের নির্দেশনা অনুসরণ করেই হোটেলগুলোতে দেয়া হয়েছে টেকসই ও পরিবেশবান্ধব রূপ।

এদিকে গত বছর ডিসেম্বরে বার্সেলোনায় মেসির ২৬ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের হোটেল মিম সিটগেস গুঁড়িয়ে দেয়ার নির্দেশ দেন দেশটির আদালত। ৭৭টি শয়নকক্ষবিশিষ্ট চার তারকা হোটেলটি বার্সেলোনা নগরীর নির্মাণ মানদণ্ড মেনে তৈরি করা হয়নি বলেই রায় যায় মেসির বিরুদ্ধে।

রোনালদোর হোটেল ব্যবসা

মেসি যেমন ম্যাজিস্টিক গ্রুপের মাধ্যমে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করছেন, তেমনি পেসাতানা গ্রুপের সঙ্গে যুগলবন্দি হয়ে হোটেল ব্যবসায় বিনিয়োগ করে চলেছেন তারই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো। রিয়াল মাদ্রিদ ও জুভেন্টাস ঘুরে দ্বিতীয়বারের মতো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের জার্সি গায়ে তোলা রোনালদোর মালিকানাধীন পাঁচটি হোটেল রয়েছে ‘সিআরসেভেন’ নামে। ষষ্ঠ হোটেলটিও চেইনে যুক্ত হওয়ার পথে।

এরই মধ্যে জন্মভূমি পর্তুগালে সিআরসেভেন ব্র্যান্ডের দুটি হোটেল রয়েছে। এছাড়া স্পেনের মাদ্রিদ, মরক্কোর মারাকেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরের অভিজাত ম্যানহাটনে রয়েছে তার হোটেল। ষষ্ঠ হোটেলটি হবে প্যারিস নগরীতে।

ব্লেচার রিপোর্ট, মার্কা, ইনসাইডার ডটকম