লাহোরে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে জিততে হলে পাকিস্তানকে করতে হতো ইতিহাস। আগে ব্যাটিং করে স্বাগতিকদের ৩৪৯ রানের লক্ষ্য দিয়েছিল সফরকারীরা। এত রান তাড়া করে এর আগে কখনো জেতার রেকর্ড নেই পাকিস্তানের। কিন্তু অধিনায়ক বাবর আজম (১১৪) ও ওপেনার ইমাম-উল হকের (১০৬) জোড়া সেঞ্চুরিতে এ রান টপকে গিয়ে নিজেদের নতুন ইতিহাস গড়ল দেশটি।

এর আগে ২০১৪ সালে মিরপুরে বাংলাদেশের বিপক্ষে ৩২৭ রান তাড়া করেছিল পাকিস্তান। ওটাই নিজেদের সর্বোচ্চ লক্ষ্য পাড়ি দেয়া।

রোমাঞ্চকর ম্যাচে ৬ বল ও ৬ উইকেটে হাতে রেখেই জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা (৪৯ ওভার, ৩৫২/৪)। ওয়ানডে ক্রিকেটের ইতিহাসে বাবর আজম তুলে নেন সবচেয়ে কম ইনিংস খেলে ওয়ানডেতে ১৫তম সেঞ্চুরি। এত সেঞ্চুরি করতে বাবরের লেগেছে ৮৩ ইনিংস। তার পরে আছেন সাবেক দক্ষিণ আফ্রিকার ক্রিকেটার হাশিম আমলা (৮৬), বিরাট কোহলির লেগেছিল ১০৬ ইনিংস। শুধু তাই নয় ২৭ বছর বয়সী বাবর দেশের হয়ে মোহাম্মদ ইউসুফের সঙ্গে যৌথ দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেঞ্চুরির মালিকও। তাদের ওপরে আছেন শুধু সাইদ আনোয়ার (২০টি)।

বাবরের আগে দুই ওপেনার ফখর জামান ও ইমাম উল হক পাকিস্তানকে ভালো সূচনা এনে দেন। ওপেনিং জুটিতে ১৮.৫ ওভারে দুজনে তোলেন ১১৮ রান। ব্যক্তিগত ৬৭ রানে আউট হন ফখর। তবে ইমাম তুলে নেন ওয়ানডেতে নিজের নবম সেঞ্চুরি। প্রথম ওয়ানডেতে করেছিলেন ১০৩ রান। দ্বিতীয় ওয়ানডেতে ৯৭ বলে করেন ১০৬ রান। বাবর খেলেন ৮৩ বলে ১১৪ রানের ম্যাচ সেরা ইনিংস। ১৭ বলে অপরাজিত ২৭ রান করে ফিনিশিংটা দেন খুশদিল শাহ।

এর আগে টস জিতে অস্ট্রেলিয়াকে ব্যাট করতে পাঠিয়েছিল পাকিস্তান। ট্রাভিস হেডের ৮৯, বেন ম্যাকডারমটের ১০৮ বলে ১০৪, মার্নাস লাবুশেনের ৫৯ ও মার্কাস স্টয়নিসের ৩৩ বলে ৪৯ রানের ঝড় ৮ উইকেটে ৩৪৮ রানের বিশাল স্কোর পাইয়ে দেয় অস্ট্রেলিয়াকে। লেজের দিকে শন অ্যাবটও ১৬ বলে ২৮ রানের কার্যকরী ইনিংস খেলেছেন।

পাকিস্তানের বোলারদের মধ্যে ৬৩ রানে সর্বোচ্চ ৪ উইকেট নেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। ৫৬ রানে দুটি নেন মোহাম্মদ ওয়াসিম। একই ভেন্যুতে আগামীকাল সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে মুখোমুখি হবে দু’দল। এ ম্যাচে যারা জিতবে তাদেরই সিরিজ।