কলকাতার ইডেন গার্ডেনসে আজ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ভয়াবহ ব্যাটিং বিপর্যয়ে পড়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা।  ষষ্ঠ ওভারের মধ্যেই দুই ওপেনার তেম্বা বাভুমা ও কুইন্টন ডি কককে হারায় তারা। এরপর দলীয় ২৪ রানের মধ্যে পতন ঘটে চতুর্থ উইকেটের। এ প্রতিবেদন লেখার সময় প্রোটিয়াদের সংগ্রহ ছিল ১৯ ওভারে ৬২/৪। বিপর্যয়ের পর হাল ধরেন হাইনরিখ ক্লাসেন (১৩*) ও ডেভিড মিলার (২৫*)।

প্রথম ওভারের ষষ্ঠ বলে সাজঘরে ফেরেন অধিনায়ক বাভুমা। মিচেল স্টার্কের বলে উইকটেকিপার জস ইংলিশকে ক্যাচ দেন তিনি। এরপর অস্ট্রেলিয়ার আগুণে বোলিংয়ের মুখে কোনঠাসা হয়ে পড়েন ডুসেন ও ডি কক। দুজন কোনোভাবেই রান বের করতে পারছিলেন। অজিদের যেমন বোলিং, তেমন শক্ত ফিল্ডিং। এমনই দম বন্ধ হওয়া পরিস্থিতি থেকে বের হয়ে আসতে গিয়ে জীবন দিলেন ডি কক। জস হ্যাজেলউডকে স্ট্রেইটে ছক্কা মারতে গিয়ে বল আকাশে তুলে দেন তিনি। অজি দলনায়ক প্যাট কামিন্স লং-অন থেকে  অনেকটা পেছনে দৌড়ে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন। ভাঙে ২৮ বলে ৭ রানের জুটি।

এরপর ফন ডার ডুসেনের সঙ্গে উইকেটে যোগ দেন এইডেন মার্করাম। ৩১ বলের মোকাবেলায় মাত্র ১৪ রান বোর্ডে যোগ করতে সমর্থ হন তারা। ১১তম ওভারে দলের রান যখন ২২ তখন স্টার্কের শিকার হন মার্করাম। পয়েন্টে দুর্দান্ত এক ক্যাচ নেন ডেভিড ওয়ার্নার।

পরের ওভারে হ্যাজলেউডের বলে স্লিপে স্টিভ স্মিথকে ক্যাচ দেন ডুসেন। স্বভাববিরুদ্ধ ব্যাটিংয়ে ৩১ বলে ৬ রান করে সাজঘরের পথ ধরেন তিনি। ২৪ রানে ৪ উইকেট পতনের পর দলকে বড় লজ্জা থেকে বাঁচানোর ভার পড়ে হাইনরিখ ক্লাসেন ও ডেভিড মিলারের ওপর।

রাউন্ড রবিন লিগে ৯ ম্যাচের ৭টি জিতে পয়েন্ট টেবিলের দুইয়ে দক্ষিণ আফ্রিকা। অস্ট্রেলিয়া সমান ৭টি ম্যাচ জিতলেও নিট রানরেটে পিছিয়ে থাকায় তিনে অবস্থান করছে। 

আজকের ম্যাচের বিজয়ী রোববার আহমেদাবাদে ফাইনাল ম্যাচে ভারতের মুখোমুখি হবে। বুধবার প্রথম সেমিফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৭০ রানে হারায় ভারত।

অস্ট্রেলিয়া পাঁচবারের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, আর দক্ষিণ আফ্রিকা কখনই ফাইনাল খেলেনি। ১৯৯৯ সালের সেমিফাইনালে অজিদের কাছে হেরেছে প্রোটিয়ারা।