বায়ার্ন মিউনিখকে দুই লেগ মিলিয়ে ৪-১ গোলে
হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেমিফাইনালে নাম লেখাল ম্যানচেস্টার সিটি। বুধবার মিউনিখে
১-১ গোলে ড্র করেও শেষ চারের টিকিট পেয়েছে সিটি। সেমিফাইনালে ইংলিশ চ্যাম্পিয়নদের সামনে এবার আরো
শক্ত হার্ডল। রেকর্ড ১৪ বারের চ্যাম্পিয়ন রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে পেপ
গার্দিওলার দল। তবে সিটিজেনরা আতঙ্কিত নয়, বরং প্রতিশোধ নিতে মরিয়া।
গতবার ঘটনাবহুল সেমিফাইনালে রিয়ালের কাছে
হেরে যায় ম্যানসিটি। ইতিহাদে প্রথম লেগে ৪-৩ গোলের জয় পাওয়া সিটিকে বার্নাব্যুতেও
লিড এনে দেন রিয়াদ মাহরেজ। ইংলিশ দলটি এগিয়ে যায় ৫-৩ গোলে। কিন্তু নাটকীয়তার যে
তখনো শেষ হয়নি। ম্যাচের ৯০ ও ৯১ মিনিটে পরপর দুবার সিটির জালে বল জড়িয়েছেন রিয়ালের
ব্রাজিলিয়ান ফরওয়ার্ড বদলি খেলোয়াড় রদ্রিগো (৫-৫)। এরপর অতিরিক্ত সময়ের খেলায়
পেনাল্টি থেকে গোল করে রিয়ালকে ৬-৫ গোলে অভাবনীয় এক গোল এনে দেন করিম বেনজেমা। ফাইনালে
লিভারপুলকে হারিয়ে ১৪তম ইউরোপিয়ান শিরোপার স্বাদ পায় কার্লো অ্যানচেলত্তির দল।
কিন্তু এবার ভিন্ন কিছু হবে বলেই আশা
ম্যানসিটির খেলোয়াড়দের। বিশেষ করে মৌসুমে ৪৮ গোল করা আর্লিং হালান্ড আছেন বলেই স্বপ্নটা
বড় সিটিজেনদের। বুধবার রাতে তার একমাত্র গোলেই ড্র করে ইংলিশরা। এ নিয়ে টানা
তৃতীয়বার তারা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ সেমিফাইনালে নাম লেখাল।
জয় শেষে সিটির কোচ পেপ গার্দিওলা বলেন, ‘আমার
এ মুহূর্তে এটাই মনে হচ্ছে, তাদের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। সব ক্লাবই জানে, চ্যাম্পিয়ন্স
লিগ জিততে হলে আপনাকে রিয়ালকে হারাতে হবে।’
রিয়াল জিতেছে ১৪টি শিরোপা, দ্বিতীয় স্থানে
থাকা এসি মিলান তাদের ঠিক অর্ধেক জিতেছে। সর্বশেষ নয় মৌসুমে পাঁচবারই শিরোপা গেছে
রিয়ালের শোকেসে। আর সিটি কখনই চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জেতেনি। এই মুকুটের জন্য
মরিয়া ইতিহাদ গ্রুপের ক্লাবটি।
এবার প্রতিশোধ নেয়ার সুযোগ এসেছে কিনা, এমন
প্রশ্নের জবাবে পর্তুগিজ মিডফিল্ডার বার্নার্দো সিলভা বলেন, ‘আশাকরি, হ্যাঁ। আমরা
তো নিশ্চিতভাবেই সেজন্য ছুটব। আমরা সব সময়ই জেতার জন্য খেলি। তবে এবার আমাদের অনুভুতি
এরকম—প্রতিটি মিনিটই যেন আত্মবিশ্বাসী আমরা। আশাকরি, আমরা এবার উতরে যাব।’
তবে রিয়াল কত বড় চ্যালেঞ্জের নাম সেটি সিটির
খেলোয়াড়দের মনে করিয়ে দিলেন ইংলিশ ক্লাবটির সাবেক ডিফেন্ডার জোলেওন লেসকট। তিনি
বলেন, ‘রিয়াল মাদ্রিদ বিশেষ একটি দল। গত বছর তারা খুব ভালো সময় কাটাচ্ছিল না, তবু
১২ মিনিটের এক জাদুতে ফাইনালে উঠে গেল। আমি মনে করি, এই প্রতিযোগিতায় রিয়ালের
অন্যরকম একটা বিশ্বাস কাজ করে। হয়তো তারা সাতটি সুযোগ পেলে পাঁচটিই কাজে লাগাতে
পারে। আবার এবারের সিটিও ভিন্ন।’










