রাঁচিতে সিরিজের চতুর্থ টেস্টে চারে ব্যাটিংয়ে নামা জো রুট দেখলেন ১১২ রানে দলের পঞ্চম উইকেটের পতন হতে। সিরিজে ১-২-এ পিছিয়ে থাকা দলটিকে খাদের কিনারা থেকে টেনে তোলার ভার তখন তারই কাঁধে। তিনি এই দায়িত্বটা দারুণভাবে পালন করলেন। ২৭৪ বলে ১২২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দলকে এনে দিলেন ৩৫৩ রানের পুঁজি। রুটের গড়ে দেয়া ভিতের ওপর দাঁড়িয়েই বোলাররা এগিয়ে রাখলেন ইংল্যান্ডকে। দ্বিতীয় দিন শেষে ভারতের সংগ্রহ ২১৯/৭। স্বাগতিকরা পিছিয়ে রয়েছে ১৩৪ রানে।

 

রুটের পর রাঁচিতে আলো কাড়লেন তরুণ স্পিনার শোয়েব বশির। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টেস্ট খেলা এই ১৯ বছর বয়সী অফস্পিনার ভারতের তারকাখচিত ব্যাটিং অর্ডারকে এলোমেলো করে দিয়ে শিকার করলেন ৪ উইকেট। ৩২ ওভারে রান দিয়েছেন ৮৪।  

 

প্রথম দিন অনবদ্য ব্যাটিং করেন রুট। ১২ বছর আগে টেস্ট যাত্রা তার। সেই থেকে ইংল্যান্ডের ১৪১ টেস্টের মধ্যে মাত্র দুটি তিনি খেলেননি। ভাবা যায়! ম্যাচের যেমন ধারাবাহিক, তেমনি রান করায়ও।

 

ভারতের বিপক্ষে প্রথম তিন টেস্টের ছয় ইনিংসে জো রুটের ব্যাট থেকে আসে সর্বোচ্চ ৩৭ রান। গত দুই বছরের মধ্যে এটাই তার ফিফটিবিহীন দীর্ঘতম সময়। তার মতো দলও ব্যর্থ হয়। ইংল্যান্ড সিরিজে ২-১-এ পিছিয়ে। ফলে প্রচণ্ড চাপে পড়েন সাবেক অধিনায়ক। এমন সময়ই রাঁচিতে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে সব সমালোচনার জবাব দিলেন তিনি। ২৭৪ বলে ১২২ রানের অনবদ্য এক ইনিংস খেলে দলে এনে দিলেন ৩৫৩ রানের সংগ্রহ। এটা তার ৩১তম টেস্ট সেঞ্চুরি।

 

রুটের লড়াকু সেঞ্চুরির পর রাঁচির উইকেটে ঘূর্ণির জাদু দেখান শোয়েব বশির ও টম হার্টলি। তৃতীয় ওভারে অধিনায়ক রোহিত শর্মাকে সাজঘরে ফেরান অভিজ্ঞ জেমস অ্যান্ডারসন। এরপর বশির ও হার্টলির ধারাবাহিক শিকারে কোনঠাসা হয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। বশির ফেরান আগের টেস্টে ডাবল সেঞ্চুরি করা জশস্বী জয়সাল, শুভমান গিল, রবীন্দ্র জাদেজা আর রজত পতিদারকে। হার্টলির শিকার হন সরফরাজ খান ও রবিচন্দ্র অশ্বিন।

 

১৭৭ রানে ৭ উইকেট পতনের পর হাল ধরেন ধ্রুব জুরেল ও কুলদীপ যাদব। ১৭.৪ ওভার লড়ে দুজন বোর্ডে যোগ করেন ৪২ রান। জুরেল ৩০ ও কুলদীপ ১৭ রানে অপরাজিত থেকে দ্বিতীয় দিন মাঠ ছাড়েন। শোয়েব বশির ৮৪ রানে চারটি ও টম হার্টলি ৪৭ রানে দুটি উইকেট নেন।