বর্তমান সময়ের আলোচিত নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। স্বল্প সময়ের ক্যারিয়ার হলেও নির্মাণশৈলীতে নিজের অবস্থান জানান দিয়েছেন তরুণ এ নির্মাতা। নিজের বর্তমান কাজের ব্যস্ততা, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও অন্যান্য বিষয় নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন অহিদ রহমান

সম্প্রতি আপনার নির্দেশিত একাধিক ফিকশন দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে। কেমন লাগছে?

এখন পর্যন্ত আমার ১০টা ফিকশন বের হয়েছে। সম্প্রতি দুটি কাজ নিয়ে বেশি আলোচনা হচ্ছে—বুক পকেটের গল্প আর তিলোত্তমা। এ দুটি কাজে দর্শকের ব্যাপক সাড়া মিলেছে। আসলে আমি সবসময় ভালো কাজ করতে চাই। ভালো কাজ বেঁচে থাকে অনুপ্রেরণার মূল্যায়নে। যখন সঠিকভাবে দর্শক, কলিগ ও মিডিয়া ব্যক্তিত্বদের অনুপ্রেরণার সে মূল্যায়নটা পাই, তখন আমার কাছে ভালো লাগে এবং এটা আমি সবচেয়ে বেশি উপভোগ করি।

নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে আপনি কোন ধরনের গল্প পছন্দ করেন?

নাটক নির্মাণের ক্ষেত্রে আমি যে গল্পগুলো পছন্দ করি, সেগুলো হতে হয় জীবনঘনিষ্ঠ, দর্শনভিত্তিক। রহস্য থাকলে ভালো হয়। আমি রহস্য পছন্দ করি। এছাড়া ম্যাজিক রিয়ালিজম, গিমিক, যে গল্পগুলোয় টুইস্ট অ্যান্ড টার্ন আছে এমন গল্পও পছন্দ।

আপনার নির্মাণের অভিজ্ঞতায় কী মনে হচ্ছে? দর্শক নাটকে কেমন গল্প দেখতে চায়?

আমাদের দর্শক খুবই সাধারণ। অভাব অনটন, চাকরি না পাওয়া, ব্যর্থ প্রেম, জীবনের প্রতি নানা অভিযোগ এসব জীবনঘনিষ্ঠ গল্পগুলোই দর্শকের কাছে বেশি পৌঁছায়। দর্শকরা আসলে সে গল্পটাই দেখতে চায়, যে গল্পে তাদের কথা, জীবন বাস্তবতার কথা, তাদের জীবনের সব অভিযোগ তুলে নিয়ে আসা হয়।

আবার এমনও হতে পারে, একই দর্শক মন খারাপের বেলায় হাসির একটা বিনোদন চাচ্ছে, এখান থেকে কোনো প্রকার শিক্ষা নিতে চাচ্ছে না। আসলে আমাদের অনেক ধরনের দর্শকই আছে, তবে আমার মনে হয় যে ওই কাজগুলো বেশি দর্শকনন্দিত হয়, যে কাজগুলো দর্শকের হৃদয় ছুঁয়ে যায়।

তরুণ নির্মাতা হিসেবে কী কী চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়?

তরুণ নির্মাতাদের আসলে অনেক সমস্যারই সম্মুখীন হতে হয়। যদি আমার কথা বলি, আমি প্রডিউসার বাছাই করতে অনেক সময় নিই। যারা আমাকে ভালোবাসে, আমার গল্পের দর্শনকে ভালোবাসে, যারা আমার কাছে ভিউ ব্যবসা চায় না, যারা আমার কাছে ভালো গল্প চায়, আগামী প্রজন্মের জন্য গল্প চায়, আমি তাদের সঙ্গেই কাজ করি।

মিডিয়ার পথচলায় আপনার কোনো বিশেষ স্মৃতি

প্রতিটি শুটিং সেটেই অদ্ভুত কিছু গল্প থাকে। একটা বলি। আমার দ্বিতীয় ফিকশন ‘ভয় করো না’র দ্বিতীয় দিন শুটিং চলছে। শুনতে পাই আমার বাবা প্রচণ্ড অসুস্থ, আইসিইউতে আছেন। পরে মারা যান। যেহেতু একজন প্রডিউসারের অর্থলগ্নি করা আছে কাজটা আমাকে করতেই হবে। তাই আমাকে বাবা মারা যাওয়ার সাতদিন পর শুটিংয়ে নামতে হয়েছিল এবং কাজটা সম্পন্ন করি। আমার সবচেয়ে ভালো লাগে যখন কাজটি নিয়ে দর্শকের সর্বোচ্চ পর্যায়ে আলোচনা হয়েছিল। তখন আমার মনে হয়েছিল ওই সময়ের স্মৃতিটা আমি মনে রাখতে চাই। যেটা আমার জীবনের একটা বড় ধাক্কা। আমার বাবার মৃত্যু। ওই দৃশ্যটা মনে রাখতে চাই যে আমি রোল কাট বলার সময় কান্না করছিলাম।

এর মধ্যেই নতুন কাজ করে গেছেন, যাচ্ছেন...

বলতে পারেন অন্যদের থেকে আমার স্ট্রাগলটা একটু বেশি, কারণ সবাই ভিউর জন্য কাজ করে, কিন্তু আমি ভিউর জন্য কাজ করি না, বরং আমি চাই আমার গল্পগুলো সারা জনম বেঁচে থাকুক। আমি খুব বেশি একটা কাজ করি না। আমার তিন বছরে মাত্র ১০টা কাজ। আমি শিগগিরই ওটিটি ও সিনেমায় আসতে চাই। আমার কাজগুলো বড় পরিসরে দেখাতে চাই।

তাহলে বর্তমানে কাজের ব্যস্ততা কী নিয়ে? সামনে কী পাচ্ছি?

আমি কখনো ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা করি না। ২০২৫ সাল পর্যন্ত আমার শিডিউল ফিক্সড। কাজের কথাবার্তা চলছে। আমার অনেক কাজ বন্ধ হয়ে আছে। আমি ২০২৪ সালে আমার দর্শককে বলেছিলাম নতুন গল্প নিয়ে আসব। আমার দর্শকের উদ্দেশে আমি এটাও বলতে চাই ২০২৫ সালে আমি নতুন চমক নিয়ে আসব।