সিনেমায় রাজনৈতিক বক্তব্য রাখা কঠিন। বিষয়টি সব দর্শক ভালোভাবে নেন না। রাজনৈতিক দল, ক্ষমতাশীন দল ও নানা গোষ্ঠীর কথা তো বাদই রইল। দিন দিন বিষয়টি আরো কঠিন হয়ে যাচ্ছে। ভারতের কিছু অঞ্চল যেমন দক্ষিণ ভারতে নায়াট্টু ও জালিকাট্টুর মতো সিনেমা তৈরি হয়েছে, যেখানে কঠিন বাস্তবতা দেখানো হয়েছে কিন্তু বলিউডে যেন এর সামান্য অংশও সম্ভব হচ্ছে না। সিনেমায় গল্প বা সারবত্তা বলে কিছু থাকছে না, বলিউড নিয়ে এ অভিযোগ ইদানীং খুব বেশি আসে। কিন্তু সিনেমায় বাস্তবতা আনা বলিউডের জন্য অতটা সহজও নয়।
২০১৯ সালে মুক্তি পাওয়া ‘আর্টিকেল ফিফটিন’
দর্শক ও সমালোচকদের প্রশংসা পেয়েছিল। বর্ণ ও জাতপ্রথার নেতিবাচকতা নিয়ে সিনেমাটির গল্প। কিন্তু সেখানেও সিনেমার ‘নায়ক’
দেখতে সুদর্শন এবং তিনি নিজে উঁচু বর্ণের। পুরো সিনেমায় তার সুন্দর মুখ ও গর্বিত সৎ ভঙ্গি দেখা যায়। সিনেমার পরিচালক অনুভব সিনহা এক সাক্ষাত্কারে বলেছিলেন, ‘নায়ককে দর্শকের মনের মতো করেই উপস্থাপন করতে হয়। আমি সেটা করে অন্যান্য বিষয়ের প্রতি দর্শকের মনোযোগ আকর্ষণ করার চেষ্টা করেছি।’
সিনেমাটির ভালো হওয়ার পেছনে এর অভিনেতাদের ভূমিকা ছিল প্রবল। কাস্টে ছিলেন মনোজ পাহওয়া, কুমুদ মিশ্র, সায়নী গুপ্তা, নাসের ও মহম্মদ জিশান আইয়ুব। গৌরব সোলাঙ্কি ও অনুভবের গল্পটি এদের কারণে বাস্তবসম্মত মনে হয়েছে। এ সিনেমায় খুন, নিচু জাতের প্রতি সহিংসতা, তাদের ঠকানো এমনকি পুলিশ ফোর্সে জাতের কারণে দাবিয়ে রাখার মতো ঘটনাগুলো এসেছে। সিনেমার একটি দৃশ্যে অয়ন রঞ্জন (আয়ুষ্মান) তার সহকারীদের জাত নিয়ে খোলাখুলি কথা বলেন। জাতপ্রথার বিরুদ্ধে এখানে সরাসরি কথা বলা হয়েছে। দৃশ্যের শেষে দেখা যায় কুমুদ মিশ্র নম্রভাবে তার অফিসারের যুক্তিতে হ্যাঁ মেলান।
কুমুদ মিশ্র এক সাক্ষাত্কারে বলেছেন, কিসান জাতবের চরিত্রটি তার জন্য কঠিন ছিল। তিনি বলেন, ‘আমি একজন ব্রাহ্মণ, এমনকি গৌরবর্ণের। জাতবের চরিত্রে ঢুকতে কিছুটা সময় লেগেছে। যে চরিত্রটি আমাকে দেয়া হয়েছিল আমি তার সঙ্গে নিজেকে মেলাতে পারছিলাম না। এর কারণ তো জাতপ্রথা। এমনকি মুম্বাইয়ের মতো বড় শহরেও এ প্রথার চর্চা আছে। আমরা আমাদের কর্মচারী, গাড়িচালক, গৃহকর্মীদের সঙ্গে যে ব্যবহার করি, তার মধ্যেই বর্ণবাদ ও জাতপ্রথার ছায়া আছে। আমাদের চেয়ে বর্ণবাদী আসলে কেউ নেই। অজান্তেই বর্ণবাদ চর্চা করি আমরা।’
সিনেমায় অভিনয় করতে গিয়ে কুমুদের কী মনে হয়েছিল তা জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘কী আর বেশি হবে? এ দুনিয়ার খবর তো আমরা সবাই জানি। তবে সিনেমা করার সময় সেটা আরো বেশি করে অনুভব করেছি।’
কুমুদ যেমন জানেন, তার দর্শকরাও জানেন। কিন্তু সবাই হয়তো মানেন না। ব্যবহারও তাই বদলায় না।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










