বাঙালি মুসলমান নারী জাগরণের পথিকৃৎ বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন। তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘সুলতানার স্বপ্ন’। বাঙালি মুসলিম নারীদের নিয়ে রোকেয়ার ছিল স্বপ্ন। তার সেই স্বপ্ন ও প্রত্যয়ের গল্প পর্দায় তুলে আনেন স্প্যানিশ নির্মাতা ইসাবেল হারগুয়েরা। ‘সুলতানার স্বপ্ন’ থেকে নির্মিত হয়েছে অ্যানিমেশন। স্প্যানিশ ভাষায় ৮৬ মিনিট দৈর্ঘ্যের এ অ্যানিমেশন চলচ্চিত্রের নাম ‘এল সুয়েনো দে লা সুলতানা’, ইংরেজিতে সুলতানা’স ড্রিম। সিনেমাটি এবার দেখা যাবে স্টার সিনেপ্লেক্সে। ১৬ জানুয়ারি স্টার সিনেপ্লেক্সে মুক্তি পাবে এটি।

১৯০৫ সালে ইংরেজিতে প্রকাশিত বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেনের সুলতানা’স ড্রিম রচনাটি পুরো ভারতবর্ষে, বিশেষ করে বাংলায় নারীবাদী আন্দোলনের পথিকৃৎ এবং একটি বৈপ্লবিক কল্পকাহিনী বলে বিখ্যাত হয়ে আছে। পরে ১৯২২ সালে বেগম রোকেয়া নিজেই কিছু পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে উপন্যাসটি ‘সুলতানার স্বপ্ন’ নামে সর্বপ্রথম বাংলায় অনুবাদ করেন।

বেগম রোকেয়ার এ লেখার সঙ্গে কীভাবে পরিচয় হলো, সে কথা এর আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন নির্মাতা হারগুয়েরা। ২০১২ সালে দিল্লি গিয়েছিলেন তিনি। প্রচণ্ড বৃষ্টির একদিনে আটকা পড়েছিলেন শহরের একটি আর্ট গ্যালারিতে। সেখানেই খুঁজে পান সুলতানা’স ড্রিম বইটি। ইসাবেল বলেন, ‘এত বছর আগে লেখা একটি বই, যেখানে নারীদের স্বপ্ন দেখানো হয়েছে অন্য এক পৃথিবীর। বইটি পড়ে আমার বিস্ময়ের শেষ ছিল না। একেবারে প্রথম দেখায় প্রেমে পড়ার মতো। তখনই সিদ্ধান্ত নিই, এটা নিয়ে আমি সিনেমা বানাব।’

এটি ইসাবেল হারগুয়েরার প্রথম ফিচার ফিল্ম। যৌথভবে এর চিত্রনাট্য লিখেছেন জিয়ানমার্কো সেরা। বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি, ইতালিয়ান, স্প্যানিশ ও বাস্কসহ সিনেমাটিতে ব্যবহার করা হয়েছে পাঁচটি ভাষা। এ সিনেমায় কলকাতার সংগীতশিল্পী মৌসুমী ভৌমিকের লেখা একটি গানও আছে। গানটির সংগীতায়োজন করেছেন তাজদির জুনায়েদ, গেয়েছেন দীপান্বিতা আচার্য। সিনেমাটি প্রযোজনা করেছে স্পেন ও জার্মানির পাঁচটি প্রতিষ্ঠান।