শিশু শিল্পী হিসেবে তাসকিন রহমান অভিনয় জগতে পা রাখেন অনেক আগেই। তবু ‘ঢাকা অ্যাটাক’
ছবিটি নতুন করে চিনিয়েছে তাকে। নিজের অভিনয় আর নীলাভ বর্ণের চোখের সৌন্দর্যে নজর কেড়েছেন দর্শকদের। বর্তমানে ঢাকাই চলচ্চিত্রের ব্যস্ততম অভিনয় শিল্পীদের একজন তাসকিন। চলতি বছর এরই মধ্যে আটটি চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন তিনি।
করোনার বিরতি শেষে মাসখানেক হলো শুটিংয়ে ফিরেছেন। সম্প্রতি শেষ করেছেন ‘আগস্ট ১৯৭৫’
চলচ্চিত্রের কাজ। ‘একাত্তরের ইতিহাস’
নামে আরো একটি ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছেন। একটি ওয়েব সিরিজ ও ওয়েব ফিল্মে কাজের বিষয়েও কথা হচ্ছে। অক্টোবরের শুরুতে আবারো শুরু হতে যাচ্ছে ‘অপারেশন সুন্দরবন’
ছবির শুটিং। এসব ব্যস্ততার মাঝেই মুক্তির অপেক্ষায় রয়েছে তার ‘জানোয়ার’
নামে ওয়েব ছবিটি। ছবির বিষয়ে তাসকিন বলেন, ‘এটি নির্মাতা রায়হান রাফির সঙ্গে আমার প্রথম প্রজেক্ট। গল্পটা নিয়ে এখনই কিছু বলতে চাই না। তবে এটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে নির্মিত ওয়েব ফিল্ম।’
‘জানোয়ার’ চলচ্চিত্রে নিজের চরিত্রের বিষয়ে কিছু বলতে না চাইলেও বরাবরই চরিত্রে বৈচিত্র্য খোঁজা তাসকিন জানালেন, ‘দর্শক আমাকে ভিলেন হিসেবে গ্রহণ করেছে। কিন্তু আমি ‘টাইপ কাস্ট’ হতে আসিনি। সম্প্রতি ‘শেষ কথা’ নামে একটি টিভি ফিকশনে হিরোর অভিনয় করেছি। আবার ‘বয় ফ্রেন্ড’ ছবিতেও নায়কের চরিত্র করেছি। যদিও প্রমোশনের ঘাটতির কারণে ছবিটি সাড়া ফেলেনি।’
‘ঢাকা অ্যাটাক’-এর মধ্য দিয়ে তাসকিন নতুন করে দর্শকদের সামনে হাজির হন। এ ছবিতে তার চরিত্র ছিল অস্বাভাবিক মনস্তত্ত্বের একজন মানুষের। তার নিজের পড়াশোনার অনেকটা জায়গাজুড়েও রয়েছে হিউম্যান সাইকোলজি। সেই জ্ঞান কীভাবে অভিনয়ের ক্ষেত্রে সহায়তা করে, জানতে চাইলে তাসকিন বলেন, ‘হিউম্যান ব্রেইন নিয়ে পড়ার সময় মানুষের মনস্তাত্ত্বিক দিকগুলো খুব ভালোভাবে বুঝতে ও উপলব্ধি করতে হয়। আমি যখন একটি চরিত্র করি, তখন সেটার ভেতর নিজেকে স্থাপন করে তা করার চেষ্ট করি। যেকোনো ভালো অভিনয় শিল্পীই হয়তো কথাটি মানবেন যে চরিত্রের সঙ্গে মিশে যাওয়া সবচেয়ে সুন্দর ও কঠিন কাজ। চরিত্রের সাইকোলজিক্যাল স্টাডি তাই খুব জরুরি। ঢাকা অ্যাটাক থেকে এ পর্যন্ত যতগুলো চরিত্র করেছি, চেষ্টা করেছি চরিত্রের সঙ্গে মিশে যেতে।’
তিনি যখন অভিনয়ে এসেছেন তখন ঢাকাই চলচ্চিত্রের পড়তি দশা, এ বিষয়ে তাসকিনের অভিমত, ‘এখানে খুব গতানুগতিক কাজ হয়েছে। একটা কাজ পছন্দ হলে একই রকম কাজ অনেক হয়েছে। দর্শকদের আমাদের নতুন নতুন নির্মাণ, ক্রাফট, মেকিংয়ের সঙ্গে পরিচয় করাতে হবে। এখন হাতে হাতে প্রযুক্তি। ফলে দর্শকরা বাইরের দেশের সঙ্গে তুলনা করে বলতেই পারেন আমাদের উন্নতি হচ্ছে না। এ সবকিছু বিবেচনা করে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে কাজ করতে হবে। তাহলেই এ জায়গাটার পুনর্নির্মাণ করতে পারব।’
সাম্প্রতিক সময়ে ‘এন্ড্রু’
নামে একটি নাটকে কাজ করেছেন তাসকিন, যা দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত হয়। এতে অভিনয় করে বেশ তৃপ্ত এ অভিনেতা। জানালেন ভালো ফিডব্যাকও পেয়েছেন।
লকডাউনে সময় খুব ভালো কেটেছে বলতে নারাজ তাসকিন। তবু নিজেকে ব্যস্ত রেখেছেন সৃজনশীল সব কাজে। ছবি আঁকতে পছন্দ করেন তাসকিন। বিশেষত, তেলরঙ আর চারকোলে আঁকতে স্বাছন্দ্য তার। অবশ্য তার চিত্রকর্মের বেশির ভাগই রেখে এসেছেন অস্ট্রেলিয়ায়। ভবিষ্যতে প্রদর্শনীর ইচ্ছা আছে। আগে ল্যান্ডস্কেপ বা অন্যান্য ছবি আঁকতে পছন্দ করলেও নিউরোলজিতে পিএইচডি গবেষণারত তাসকিনের চিত্রকর্মের বিষয়বস্তু হিসেবে এখন হিউম্যান পোর্ট্রেট পছন্দ। কথায় কথায় তাসকিন জানালেন তার পিএইচডি থিসিস প্রায় শেষ দিকে। তার পরও হয়তো বছরখানেক লাগবে অভিনেতা তাসকিনের ডক্টর তাসকিন রহমান হতে।










