ভারতের খ্যাতিমান গায়ক হরিহরণ অনান্থ সুব্রামানি। পদ্মশ্রী পুরস্কারজয়ী এ গায়ক হিন্দি ও তামিল ভাষায় বেশকিছু আধুনিক ক্ল্যাসিক জনপ্রিয় গান গেয়েছেন। ১৯৭৮ সালে তিনি জয়দেবের আজিব সানেহা মুঝপার গুজার গায়া গানটি গেয়ে তুমুল জনপ্রিয়তা পান। গানটির জন্য তিনি বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন। ভারতে গজলের অন্যতম দুই শিল্পী জগজিৎ সিং ও হরিহরণ। ভারতে গজলকে জনপ্রিয় করার পেছনে হরিহরণের অবদান আছে। উপমহাদেশের অন্যতম গজল গায়কদের একজন মেহেদি হাসানের সঙ্গে তার প্রথম সাক্ষাতের দিনটির স্মৃতিচারণ করেছেন হরিহরণ। সম্প্রতি একটি সাক্ষাত্কারে হরিহরণ সে ঘটনা নিয়ে কথা বলেছেন।
দুনিয়ার জনপ্রিয় গজল গায়কদের একজন মেহেদি হাসান। সত্তরের দশকে পাকিস্তানের গজল গায়ক মেহেদি হাসান ছিলেন তুমুল জনপ্রিয়। সত্তরের দশকে মেহেদি হাসান প্রথমবার ভারত সফরে আসেন। তরুণ হরিহরণ এ সময়ে মেহেদি হাসানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে উদগ্রীব হয়েছিলেন। তাই কলেজছাত্র হয়েও সাংবাদিক পরিচয়ে মেহেদি হাসানের এক অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সে ঘটনা নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হরিহরণ বলেন, ‘সেই সময়ে কলেজছাত্র ছিলাম। তবে আমি নিজেকে একজন সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে মুম্বাই হোটেলে গিয়েছিলাম, যেখানে মেহেদি হাসান ছিলেন। সেখানে সামনের সারিতে সাংবাদিকদের বসার ব্যবস্থা ছিল, তাই আমি কিছু না বলে সেখানে গিয়ে বসে পড়ি। তবে আমি খুব উদ্বিগ্ন ছিলাম। শুধু ভাবছিলাম এখন কী করব? যদি মেহেদি হাসান বুঝতে পারেন আমি মিথ্যা বলছি। এমনকি তিনি রেগে গেলে কী হবে এসব নিয়ে খুব ভয়ে ছিলাম।’
হরিহরণ স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘আমি যাওয়ার কিছু সময় পর মেহেদি হাসান আসেন। আমি তাকে প্রণাম করলাম। তিনি আমাকে উঠে দাঁড়াতে বলেন। কোনো ভণিতা না করে তাকে আমার নাম বলি এবং জানাই আমি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের সাংবাদিক নই, আমি তার ভক্ত। আমি উস্তাদ গোলাম মুস্তাফা খানের ছাত্র। জবাবে মেহেদি হাসান আমাকে বলেছিলেন, আমার গুরু কেমন আছে? সত্যি বলতে এটা শোনার পর আমার খুব ভালো লেগেছিল।’
প্রথম সাক্ষাতে হরিহরণ নিজের গাওয়া গজল মেহেদি হাসানকে শোনানোর সুযোগ পাননি। তবে কানাডার একটি সফরে হরিহরণের এক বন্ধু মেহেদি হাসানকে হরিহরণের গাওয়া গানের রেকর্ড শোনান। হরিহরণের প্রতিভায় মুগ্ধ হয়েছিলেন মেহেদি হাসান। এরপর প্রায়ই তাদের দেখা হতো। মেহেদি হাসান বিভিন্ন সময়ে হরিহরণকে অনেক নির্দেশনাও দিয়েছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস










