নাট্যাচার্য সেলিম আল দীনের ১৮তম প্রয়াণবার্ষিকী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী স্মরণোৎসব আয়োজন করেছে নাট্যসংগঠন স্বপ্নদল। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে একযোগে চলছে নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন স্মরণোৎসব ২০২৬। এবারের উৎসবের স্লোগান আসুক যতই ঝড়-ঝঞ্ঝা নিকষ অন্ধকার, সেলিম আল দীন-রবীন্দ্রনাথ মোদের বাতিঘর।

উৎসবের দ্বিতীয় দিনে গতকাল বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটারে মঞ্চস্থ হয় দেশ-বিদেশে প্রশংসিত প্রযোজনা চিত্রাঙ্গদা। এটি ছিল নাটকটির ১২১তম মঞ্চায়ন। আজ একই মঞ্চে প্রদর্শিত হবে নাট্যাচার্যের ধ্রুপদি নাটক হরগজের ৫০তম প্রদর্শনী। গবেষণাগার পদ্ধতিতে নির্মিত এ দুই প্রযোজনারই নির্দেশনা দিয়েছেন নাট্যাচার্যের ছাত্র ও নাট্যনির্দেশক জাহিদ রিপন।

এর আগে উৎসবের প্রথম দিন ১৪ জানুয়ারি সকালে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরনো কলাভবন থেকে নাট্যাচার্যের সমাধির উদ্দেশে স্মরণ-শোভাযাত্রা বের করা হয়। পরে তার সমাধিতে পুষ্পাঞ্জলি অর্পণ করা হয়।

মহাভারত অবলম্বনে রচিত চিত্রাঙ্গদা নাটকে মণিপুরের রাজকন্যা চিত্রাঙ্গদা ও অর্জুনের প্রেমকাহিনী তুলে ধরা হয়েছে। পৌরাণিক কাহিনীর আড়ালে নাটকটি বর্তমান সময়ের নারী-পুরুষের সম্পর্ক, আত্মপরিচয় ও পারস্পরিক সম্মানবোধের সংকটকে সামনে আনে। অন্যদিকে হরগজ নাটকটি রচিত হয়েছে ১৯৮৯ সালে মানিকগঞ্জের হরগজ এলাকায় সংঘটিত ভয়াবহ টর্নেডোর অভিজ্ঞতা থেকে। প্রলয়ঙ্করী ঝড়ের পর উদ্ধারকারী দলের অভিজ্ঞতা, মানবিক বিপর্যয় এবং বাস্তব ও বিমূর্ত জগতের টানাপড়েনকে কেন্দ্র করেই এগিয়েছে নাটকটির গল্প।

প্রসঙ্গত, বাংলা নাটকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নাট্যতাত্ত্বিক ও নাট্যকার নাট্যাচার্য সেলিম আল দীন ১৯৪৯ সালের ১৮ আগস্ট জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ২০০৮ সালের ১৪ জানুয়ারি মৃত্যুবরণ করেন।