একাডেমি অ্যাওয়ার্ডের ৯৫তম আয়োজনে বেস্ট ইন্টারন্যাশনাল ফিচারে অংশ নেয়ার জন্য ভারতের অফিশিয়াল চয়েস হিসেবে বিবেচিত হয়েছে পান নলিনের গুজরাটি সিনেমা ছেল্লো শো। ইংরেজিতে যেটির নাম দ্য লাস্ট ফিল্ম শো। তার পর থেকেই অনেকে বলছেন, এটি ‘সিনেমা পারাদিসো’র কপি। আবার কারো কারো মতে, এতে ভারতীয় সিমেনার বৈশিষ্ট্য নেই। এটি ভারতীয় সিনেমাই নয়।

কিন্তু ভারতীয় সিনেমাকে পটভূমিতে রেখে বানানো হয়েছে ছেল্লো শো। যেখানে সেলুলয়েড থেকে ডিজিটালে সিনেমার রূপান্তরকে দেখানো হয়েছে। তবে নিজের সহকর্মীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের সহযোগিতা না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেছেন সিনেমার নির্মাতা। তার মতে, যেখানে অন্য দেশের নির্মাতারা উদযাপন করছেন সেখানে তাদের নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সামলাতে হচ্ছে।

হিন্দুস্তান টাইমসকে দেয়া এক সাক্ষাত্কারে তিনি কথা বলেন সেসব নিয়েই। অস্কার আয়োজনে সরকারিভাবে ভারতের হয়ে প্রবেশের সুযোগ মেলায় অনুভূতি প্রকাশ করে নলিন জানান, ‘প্রায় প্রতি বছরই অস্কার মৌসুমে নানা সিনেমা নিয়ে এমন হাইপ দেখা যায়। আমি স্ক্রিনিং আর প্রিভিউ চালিয়ে যাওয়ার কাজ করতে থাকি। আমার শুধু একটাই ইচ্ছা ছিল, যেন অনেক বেশি মানুষ সিনেমাটা দেখে। আমরা এ সফলতা ও জনপ্রিয়তার ভাষা বদলে দেয়ার পথ খুঁজছিলাম। নতুন এ ঘোষণার ফলে সবকিছু আমাদের জন্য বদলে গিয়েছে।’

তবে শুধু আনন্দই নয়, এ খবরের সঙ্গে সঙ্গে কিছু হতাশাও জেঁকে ধরেছে পান নলিনকে। এরই মধ্যে তিনি শুনেছেন বেশকিছু নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া। সেসব বিষয়ে নলিনের বক্তব্য, ‘মানুষ না দেখেই সিনেমাটির বিষয়ে উপসংহার টানছে দেখে হতাশ লাগছে, আবার মন খারাপও হচ্ছে। আমি অবশ্য তাদের দোষ দিতে চাই না। সিনেমাটা নিয়ে কোনো লবিং করিনি। একই পদ্ধতিতে জাপানের একটি স্টুডিওতে আমরা সিনেমাটি বিক্রি করি। কিন্তু জনগণের জন্য সেটাকে বাণিজ্যিক করে তুলতে হবে। অনেকেই মনে করেন যেটা জনপ্রিয় সেটাই অস্কারে যাবে। আদতে গুগল সার্চ করলেও তারা বুঝতে পারবে আন্তর্জাতিক ফিচার ফিল্মের ক্ষেত্রে কোন ধরনের ধারা বজায় রয়েছে। হতাশই হলাম। যেখানে অন্যান্য দেশের সহচলচ্চিত্র নির্মাতারা অস্কারে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, আর এখানে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়ার সঙ্গে আমাদের কাজ করতে হচ্ছে।’

আবার এ সিনেমা পারাদিসোর কপি বলে অভিযোগ ওঠায় নিজের মন্তব্যে তিনি জানান, ‘এটা আমার ব্যক্তিগত গল্প, যেখানে আমি বড় হতে হতে কীভাবে সিনেমার সঙ্গে প্রেমে পড়েছি তা দেখিয়েছি। যে কেউই যদি সিনেমার সঙ্গে প্রেম নিয়ে কোনো সিনেমা বানায় তাহলে সেটা পারাদিসোর মতোই মনে হবে। কিন্তু সেখানে তো আরো অনেক বিষয় থাকতে পারে।’

তাছাড়া এ সিনেমার ওপর ভারতীয় না হওয়ার অভিযোগ তোলাটা সবচেয়ে হাস্যকর ও ভিত্তিহীন বলেও মন্তব্য তার। তিনি বলতে চান তাদের শুধু সেলস এজেন্ট বিদেশী। কিন্তু আন্তর্জাতিকভাবে সিনেমা বিক্রির জন্য সেই এজেন্টকে প্রয়োজন। অভিনেতা, পরিচালক কলাকুশলী ভারতীয় হওয়ার পরও এমন গুজবের কারণে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করেছেন।

এরই মধ্যে শুরু হয়েছে পান নলিনের অস্কারের প্রস্তুতি। তিনি বলেন, ‘আমরা গত সপ্তাহেই সব কাজ শুরু করেছি, আর এখন আমরা যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক স্যামুয়েল গোল্ডউইন ফিল্মসের সঙ্গে কাজ করছি। তাদের এ বিষয়ে ভালো অভিজ্ঞতা রয়েছে। মূলত যেসব সিনেমাকে তারা ব্যাকআপ দিয়েছে তারাই এই ট্রফি জিতেছে। তাই সেই দক্ষতাটাই আমরা কাজে লাগাচ্ছি।’

 

সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস