আমার এ দুটি চোখ পাথর তো নয় 

তুব কেন ক্ষয়ে ক্ষয়ে যায়?

বাংলা গানের শ্রোতাদের কাছে এ গান অপরিচিত নয়। তবে এ গানের জন্য তারা সুবীর নন্দীকেই চেনেন। কিন্তু গানের পেছনে আছেন আরো একজন মানুষ। তিনি কবি জাহিদুল হক। জাহিদুল হক এ গানের গীতিকার। তিনি গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন।

জাহিদুল হক জানুয়ারির শুরুতেই অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে ভর্তি করা হয়েছিল। সে সময় জানা যায়, তিনি মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণে আক্রান্ত। এরপর তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্থানান্তর করা হয়। সেখানেই গতকাল মৃত্যু হয় কবির।

আমার এ দুটি চোখ দিয়ে পরিচয় করালেও জাহিদুল হকের পরিচয় বিস্তৃত। তিনি বাংলাদেশের একজন কবি, গল্পকার, সাংবাদিক, ঔপন্যাসিক ও গীতিকার। জাহিদুল হকের জন্ম ১৯৪৯ সালের ১১ আগস্ট। তার পিতা পেশাসূত্রে আসামের বদরপুরে ছিলেন এবং জাহিদুল হকের জন্ম সেখানেই। অবশ্য তার পৈত্রিক নিবাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে।

জাহিদুল হক স্কুলজীবন থেকেই লেখালেখি শুরু করেন। কবিতায়ই নিজের প্রতিভার প্রকাশ করেছিলেন। ১৯৬৫ সালে প্রকাশ হয় তার প্রথম কবিতা। কর্মজীবনে বিচিত্র কাজ করেছেন তিনি। ছিলেন বাংলা একাডেমির একজন ফেলো। এছাড়া ডয়েচে ভেলের সিনিয়র এডিটর ও ব্রডকাস্টার হিসেবে কাজ করেছেন। সাংবাদিক হিসেবে আরো যুক্ত ছিলেন দৈনিক সংবাদে। সেখানে সহকারী সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বাংলাদেশ বেতারের উপমহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন।

এর মধ্যে গান লিখেছেন জাহিদুল হক। ১৯৭৮ সালে তার একটি গান রেডিওতে রেকর্ড হয়। পরে সেটি মহানায়ক সিনেমায় ব্যবহার হয়েছিল। এ গানের সুরকার শেখ সাদী খান।

জাহিদুল হক গানের পাশাপাশি গল্প, উপন্যাসও লিখেছেন। তার লেখা বইয়ের মধ্যে ‘পকেট ভর্তি মেঘ’, ‘তোমার হোমার’, ‘নীল দূতাবাস’, ‘এই ট্রেনটির নাম গার্সিয়া লোরকা উল্লেখযোগ্য। লেখালেখির স্বীকৃতি হিসেবে তিনি ২০০২ সালে পেয়েছেন বাংলা একাডেমি পুরস্কার। এছাড়া ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগ থেকে বিশেষ সম্মাননা (২০১৭) ও জসীমউদ্‌দীন সাহিত্য পুরস্কার পেয়েছেন ২০০০ সালে।