মিকি মাউসের কপিরাইট উঠে যাচ্ছে। আগামী ১ জানুয়ারি থেকে এ কার্টুন আর কপিরাইটের অধীন হবে না। এর আগে মিকি মাউসের কপিরাইট ছিল ওয়াল্ট ডিজনির হাতে। মিকিকে আঁকতে হলে ডিজনিকে তার সম্মানী দিতে হতো এবং তা ছিল মোটা অংকের। মিকির কপিরাইট উঠে যাওয়া প্রসঙ্গে একটি গল্প শুনিয়েছে ভ্যারাইটি। ১৯৭১ সালে ড্যান ও’নিল নামে এক ব্যক্তি মিকির ছবি এঁকেছিল প্যারোডি করে। তার ধারণা ছিল, প্যারোডি আঁকায় বাধা নেই। কিন্তু এর জন্য মামলায় তার ভারি জরিমানা হয়। দেয়ার সামর্থ্য ছিল না নিলের। তিনি কথা দেন, কখনো মিকি মাউস আঁকবেন না।
সম্প্রতি নিলের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল ভ্যারাইটি। তিনি বলেন, ‘মিকি আঁকা এখনো আমার জন্য একটা অপরাধ। আমি যদি মিকি মাউসের ছবি এঁকে কোথাও প্রকাশ করি, ওয়াল্ট ডিজনিকে ১ লাখ ৯০ হাজার ডলার ও আইনি খরচ বাবদ ১০ হাজার ডলার দিতে বাধ্য থাকব। আরো থাকছে এক বছরের জেল।’ নিলের বয়স এখন ৮১ বছর। তিনি চাইলে আগামী বছর মিকি আঁকতে পারেন। অবশ্য তিনি যদি না-ও আঁকেন বহু তরুণ আছে, যারা মিকি নিয়ে নতুন করে কাজ করতে আগ্রহী হবে।
মিকি বা এ ধরনের চরিত্র নিয়ে অনেকেই কাজ করতে চান। বিশেষত আন্ডারগ্রাউন্ড আর্টিস্ট, সিনেমা নির্মাতারা নিরীক্ষার ইচ্ছা রাখেন। তারা এখন নির্দ্বিধায় এ নিয়ে কাজ করতে পারেন। ওয়াল্ট ডিজনির সেখানে কিছু বলার থাকবে না। ডিজনিসহ আরো নানা চরিত্রের কপিরাইট উঠে গেছে কিছুদিন আগে। সেসব নিয়ে নতুন করে কাজ করেছেন নির্মাতারা। এর মধ্যে ‘উইনি দ্য পুহ: ব্লাড অ্যান্ড হানি’ অন্যতম। যদিও একে ২০২৩ সালে নিকৃষ্টতম সিনেমা হিসেবে ঘোষণা করেছে অনেকে।
এসব বিষয় নিয়ে হার্ভার্ডের আইনবিষয়ক প্রফেসর লরেন্স লেসিং বলেন, ‘অনেকেই অনেক কিছু করে। হলিউডের লোকজন বিষয়টা বোঝে না। কিছু মানুষ আছে, যারা সৃজনশীলতা দেখানোর জন্য অদ্ভুত সব কাজ করে।’ মিকি মাউসের কপিরাইট ২০০৪ সালেই উঠে যাওয়ার কথা। কিন্তু কোম্পানির আবেদন অনুসারে এর মেয়াদ আরো ২০ বছর বাড়ানো হয়েছিল। লরেন্স এ সিদ্ধান্তের অন্যতম সমালোচক ছিলেন।
মিকি মাউস বেশ দীর্ঘ সময় কপিরাইট বিতর্কের মধ্যে ছিল। এর মাধ্যমে মূলত একটি গোষ্ঠী তাদের হাতে ক্ষমতা কুক্ষিগত রাখার চেষ্টা করেছে। অন্যদিকে আরেকটি গোষ্ঠী চেয়েছে, তৈরি হয়ে থাকা একটি চরিত্র নিয়ে কাজ করতে। ২০১০ সাল-পরবর্তী সময়ে মানুষের মধ্যে কপিরাইট বিষয়টি ভাঙার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তবে এ নিয়ে আবার অনেকের দ্বিমতও আছে। তারা মনে করেন, একজনের বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদের ওপর যে কারো অধিকার থাকা উচিত নয়। কেননা যিনি মূল চরিত্রটি তৈরি করেছেন তার মতো করে ওই চরিত্রকে আর কেউ জানে না। পাবলিক ডোমেইনে আসলে চরিত্রটিকে তার বৈশিষ্ট্য থেকে সরিয়ে ভিন্ন কিছু তৈরি করা হতে পারে। এখন সেটা কতদূর হয় মিকি নিয়ে, আগামী বছর থেকে তা দেখার পালা।
সূত্র: ভ্যারাইটি










